September 26, 2021

Shimanterahban24

Online News Paper

তালেবান ঠেকাতে যুদ্ধের নতুন ফাঁদ

1 min read
বিমান হামলা

তালেবানদের রুখতে নতুন যুদ্ধকৌশলের পরিকল্পনা চলছে আফগানিস্তানে। মার্কিন সেনা সরিয়ে নেওয়ার চূড়ান্ত প্রক্রিয়া শুরুর পর থেকে আফগানিস্তানে একের পর এক হামলা চালাচ্ছে তালেবানরা। এতে ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানিও বাড়ছে। ক্ষয়ক্ষতি কমাতে আফগানিস্তানের সেনাবাহিনী কৌশলের খুঁটিনাটি বদলের কথা ভাবছে।

নতুন যুদ্ধকৌশল নিয়ে রয়টার্সের এক বিশ্লেষণে জানা যায়, কাবুল এবং বড় বড় শহর, সীমান্ত–ক্রসিং ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগুলোয় তালেবানদের প্রতিরোধে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে অভিযান পরিচালনা করার কথা ভাবছেন আফগান ও মার্কিন কর্মকর্তারা।
আফগান কর্মকর্তারা বলছেন, তালেবানদের সামরিকভাবে মোকাবিলা করা জরুরি। এ ক্ষেত্রে আফগান সেনারা প্রাদেশিক রাজধানীতে তালেবানদের হামলা ও ক্ষয়ক্ষতি কমানোর বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন।

তালেবানদের একের পর এক হামলা

আফগানিস্তানের সরকারি সেনাদের হটিয়ে ৯০ শতাংশ সীমান্ত এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার দাবি করেছে তালেবান। আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় অবশ্য এ দাবি অস্বীকার করে বলেছে, সীমান্ত এলাকা আফগান সরকারের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ২১ জুলাই পেন্টাগনের হিসাব বলছে, আফগানিস্তানের অর্ধেকের বেশি জেলা নিজেদের দখলে নিয়েছে তালেবানরা। দিনের পর দিন আরও বেশি এলাকা তালেবানরা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিচ্ছে।

জাতিসংঘের হিসাবে এ বছর তালেবানদের হামলার কারণে আড়াই লাখেরও বেশি আফগান দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের নির্দেশে আগামী ৩১ আগস্টের মধ্যে আফগানিস্তান থেকে সব মার্কিন সেনা সরিয়ে নেওয়া হবে। মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণার পর থেকেই তালেবানদের হামলা বেড়েছে। হামলা ঠেকানোর চেষ্টায় গতকাল শনিবার থেকে দেশটির ৩৪ প্রদেশের মধ্যে ৩১ টিতে রাত্রিকালীন কারফিউ জারি করেছে আফগান সরকার।

ছয় মাসের মধ্যে আফগান সরকার পতনের সতর্কবার্তা

মার্কিন কর্মকর্তারা রয়টার্সকে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা বাহিনীর মূল্যায়নে মাত্র ছয় মাসের মধ্যে আফগান সরকারের পতন হতে পারে বলে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আফগানিস্তানের সরকারি এক কর্মকর্তা বলেছেন, সেনাবাহিনীর যুদ্ধকৌশল বদলে কাবুলের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকা, ভারতের সহায়তায় নির্মিত বাঁধের মতো গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো, প্রধান প্রধান সড়ক রক্ষার কাজে সহায়ক হতে পারে।

কৌশল নিয়ে কিছুটা ভিন্নমতও রয়েছে ওই আফগান কর্মকর্তার। তিনি মনে করেন, কাবুল ও বড় বড় শহরের মধ্যে সেনাবাহিনীর তৎপরতা সীমাবদ্ধ করলে কাবুলের বাইরে অন্য এলাকাগুলো অরক্ষিত হয়ে পড়বে। আফগান সম্প্রদায় ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর অনেকে এতে নিজেদের বঞ্চিত বলে মনে করতে পারেন।

আফগান ওই কর্মকর্তা প্রশ্ন তুলে বলেন, নির্দিষ্ট এলাকায় সেনাবাহিনীকে কাজ করালে আফগানিস্তানের বাকি অংশের জনগণের মুখোমুখি কীভাবে হবে? কয়েক সপ্তাহ ধরে তালেবানরা আফগানিস্তানের যেসব এলাকা একের পর এক দখল করেছে, সেসব এলাকার জনগণকে এভাবে আরও ঝুঁকির মুখে ঠেলে দেওয়া হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, এতে যেসব এলাকায় আফগান সেনাবাহিনী সুসংহত অবস্থানে থাকবে না, সেসব এলাকা দখল করতে তালেবানরা আবার সুযোগ খুঁজতে পারে।

কৌশল নিয়ে কী ভাবছেন মার্কিন কর্মকর্তারা

মার্কিন জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ জেনারেল মার্ক মাইলে বলছেন, যুদ্ধকৌশল বদলের নীতিতে রাজধানী কাবুলের মতো জনবহুল এলাকাগুলো সুরক্ষিত রাখাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে। গত বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে মাইলে বলেন, ‘তালেবানদের আফগানিস্তান পুরোপুরিভাবে দখল করার সম্ভাবনা রয়েছে। পরিস্থিতি আবার উল্টোটাও হতে পারে। নাটকের শেষ দৃশ্য এখনো লেখা হয়নি।’

মার্কিন কেন্দ্রীয় কমান্ডের শীর্ষ জেনারেল কেনেথ এফ ম্যাকেঞ্জিও কৌশল বদলের নীতিতে একমত পোষণ করে বলেন, ‘সবকিছু সমর্থন করা যায় না। সবকিছু সমর্থন করার অর্থ হলো কোনো কিছুই সমর্থন না করা। আমি মনে করি আফগানদের বোঝা উচিত যে তাদের সংহত হওয়া প্রয়োজন।’

পেন্টাগনে আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা সরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দিচ্ছেন মার্কিন জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ জেনারেল মার্ক মাইলে ও অন্যরা।
পেন্টাগনে আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা সরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দিচ্ছেন মার্কিন জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ জেনারেল মার্ক মাইলে ও অন্যরা। 

ম্যাকেঞ্জি বলেন, বছরের পর বছর তল্লাশিচৌকিগুলোয় আফগান সেনাবাহিনী দায়িত্ব পালন করেছেন। অথচ প্রত্যন্ত এলাকার এসব তল্লাশিচৌকি কৌশলগত দিক দিয়ে সামান্যই গুরুত্ব বহন করে। ম্যাকেঞ্জি মনে করেন, এখন নতুন করে ভাবার সময় এসেছে। গুরুত্বপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করে পুনর্বিন্যাসের মাধ্যমে সেনাবাহিনীকে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

তালেবানদের রুখতে নতুন যুদ্ধকৌশল সমর্থন করেন পেন্টাগনের সাবেক কর্মকর্তা জেসন ক্যাম্পবেলও। তিনি বলেছেন, কিছু ক্ষেত্রে সেনাবাহিনীর পুনর্বিন্যাস করা জরুরি। তালেবানদের হামলা কীভাবে ঠেকাবে, তা নিয়ে নতুন করে ভাবতে হবে আফগান সেনাবাহিনীকে। আফগানিস্তানের সব এলাকায় সমান সুরক্ষা দেওয়ার প্রয়োজন নেই। কাবুলকে সুরক্ষিত রাখা যতটা গুরুত্বপূর্ণ, সব এলাকা ততটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। পশতুন, তাজিক, হাজারা, উজবেকের মতো সব জাতিগোষ্ঠী ও এলাকাকে সমানভাবে সুরক্ষিত রাখাও সম্ভব নয়।

তবে নতুন এই কৌশল নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। মার্কিন সেনা কর্মকর্তারা মনে করেন, আলোচনার টেবিলের বদলে যুদ্ধের মাঠেই তালেবানরা জিততে চায়। এ অবস্থায় মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তে উদ্বিগ্ন আফগানিস্তান সরকার। মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সঙ্গে টেলিফোনে আলাপকালে তালেবানের হামলা প্রতিরোধে বিমানবাহিনীর সক্ষমতা না থাকায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানি। ফোনালাপে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বাইডেন জানান, তিনি কাবুলে সামরিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখবেন। বাইডেন আফগানিস্তানে সব ধরনের কূটনৈতিক সহায়তা দেবেন বলে ঘানিকে আশ্বস্ত করেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Copyright © All rights reserved. | Newsphere by AF themes.