July 25, 2021

Shimanterahban24

Online News Paper

যুগের খাদিমুল উম্মাহ ‘আবদুর রহমান কফিল’ হাফিজাহুল্লাহ

1 min read
আব্দুর রহমান কফিল

[শামীম আহমদ নোমান]

এই যুবকরা কী করে? তাদেরকে এতো পেরেশান দেখায় কেন? ঘুম নেই, আহার নেই শুধু হাসপাতালের দিকে দৌড়ায়! সবাই দৌড়ায় নিজের জন্য আর এই ছেলেরা সর্বদা অন্যের জন্য দৌড়ায়। কেনো? কী তাদের উদ্দেশ্য?

জনসাধারণের মুখে প্রশ্নগুলো পাঁয়তারা করে সর্বক্ষণ।

হ্যাঁ..। ওরা একদল স্বাপ্নিক যুবক। যাদের ভুবনটা দুঃখী জনতার জন্য বরাদ্দ।
যাদের স্বপ্নের চারণভূমিতে ভেসে বেড়ায় অসহায় শিশুর মুখের মিষ্টি হাসি। শত-শত মায়ের মুখে হাসি ফুটিয়ে তারা দীপ্তবদন নিয়ে ফেরে আপন নিড়ে ।

হাসপাতালের বেডে কাতরানো সেই মায়ের সন্তান সেজে। সেই বাবার ছেলে সেজে। সেই বোনের আদরের ভাই সেজে। রক্তের বিনিময়ে ফিরিয়ে নিয়ে আসে অসহায়ত্বের পথ থেকে। মৃত্যুর মিছিল থেকে জীবনের ফুলে ফুলে সুশোভিত বসন্তের বাগানের দিকে। সেই মায়েদের দোয়া নিয়ে।

সেই বাবার মাথায় হাত বুলানো নিয়ে এই যুবকদের পথ চলা। নিজের শরীর থেকে রক্ত দান করে ওরা ছুটে চলে জনসেবার দিকে। রক্তের কারণে কোন মায়ের কোল খালি হবে না। কোন সন্তানের মাথার উপর থেকে যেন স্নিগ্ধ সেই মিষ্টি ছায়া সরে না যায় এই প্রতিজ্ঞা সামনে রেখে জনতার ভিড়ে তারা হেঁটে চলে।

বস্তুত: কল্যাণের এই শ্রুতধারায় কে সেই ব্যক্তি?
কে সেই স্বপ্নপুরুষ। যে এই যুবকগুলোকে অনুপ্রাণিত করছেন এই পথে! সাধারণ মানুষের জন্য এই যুবকদের এতো ভালবাসা কোত্থেকে সৃষ্টি হলো? তিনি কি খোদার প্রেরিত কোন দূত? নাকি আকাশ থেকে নেমে আসা এক খন্ড মেঘের টুকরো? যেটা মানবজাতীর উপর ছায়া হিসেবে ভেসে বেড়ায়।

না। তিনি একজন মাটির তৈরি রক্তমাংসের সাধারণ মানুষ।
সেই সমাজ সেবক ব্যক্তিটিই শ্রদ্ধেয় উস্তাদ
মাও. “আবদুর রহমান কফিল” হাফিজাহুল্লাহ।

যাঁর জীবনের একটুকরো আলোকরশ্মিই আছে। যেটা ভালবাসার অফুরান্ত ছায়া হিসেবে অসহায়-দরিদ্র মানুষের উপর অবস্থান করে। মানবসেবার তরেই রয়েছে তাঁর জীবনের আনন্দ- উপভোগ-উৎফুল্লতা-উচ্ছাস।

আর তাঁর প্রতিষ্ঠিত সংগঠন খিদমাহ ব্লাড ব্যাংক। যা বয়ে এনেছে মানবজাতীর জন্য গৌরবময় ঔজ্জ্বল্য। তাঁর সংগঠনের ছোঁয়া পেয়ে কত মা তার সন্তানকে ফিরে পেয়েছে। কত শিশু ফিরে পেয়েছে তার আদরের বাবাকে। যে নিরাশ হয়ে গিয়েছিলো তার বাবাকে আর ফিরে পাবেনা বলে। পরপারের দিকে পাড়ি জমাবেন হয়তবা।

কিন্তু তিনি সেই ছোট শিশুটির মাথায় হাত বুলিয়ে বলে যান: বাবা! চিন্তা করো না। আল্লাহ চাহে তো তোমার বাবা সুস্থ হয়ে উঠবেন। এই বলে নিজের শরীর থেকে বিলিয়ে দেন তাঁর রক্ত।
এটিই তাঁর কাজ। এটিই তাঁর স্বপ্ন।
এটিই তাঁর প্রত্যাশা। তার সাথে সর্বদা ঘুরে বেড়ায় একদল যুবক। যাঁদের পরিচয় খিদমা’র সহযোদ্ধা। ব্লাড ডোনার। ও তাঁর প্রতিষ্ঠান মারকাযুল হিদায়া সিলেট’র নববী প্রেমে উজ্জ্বলিত একদল তরুণ।
তিনি ও তাঁর সহযোদ্ধারা যখন রাস্তা দিয়ে হেঁটে যায়। মানবকুলের প্রতিটি পরত শান্ত হয়ে যায়। ফেরেস্তারা তখন তাঁদের দিকে ঈর্ষান্বিত হয়ে তাকিয়ে থাকে। বলাবলি করতে থাকে: দেখো! মানুষের জন্য মানুষের কতো ভালবাসা।
তিনি তখন অসহায়দের অভিভাবক। যখন রাস্তা দিয়ে হেঁটে চলেন। যখন তিনি ফুটপাতের দিকে পা বাড়ান। রাস্তার মোড়ে বসে থাকা অসহায় ব্যক্তিটি এসে তাকে জড়িয়ে ধরে বলতে থাকে। হুজুর! তোমাকে খুব ভালবাসি।

যাক! আমার কলম আজ স্তিমিত হয়ে গেছে। কলম আর সামনে বাড়ছে না। মনের গহীনে হাজারো আবেগ এসে জড়ো হয়েছে।
চিৎকার করে একটি কথা বলতে মন চাচ্ছে। হে পৃথিবী! তুমি শত-শত ” আব্দুর রহমান কফিল” জন্ম দাও। যাতে মানবতা নতুন স্বপ্নে পুনঃজীবন লাভ করে। কোন মানুষ যাতে অসহায়ত্বে না ভোগে।

দোয়া করি আল্লাহ যেন তাঁর খেদমতকে কবুল করেন। আমরাও যেন হতে পারি তাঁর মত একজন “আবির সাবীল”।

লেখক : শিক্ষার্থী, শেখ বাড়ি জামিয়া। শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Copyright © All rights reserved. | Newsphere by AF themes.