July 25, 2021

Shimanterahban24

Online News Paper

মারকাযের জুমাবার রাত্রি

1 min read
জুমা

[শামীম আহমদ নোমান]

আজ শুক্রবার। সাপ্তাহিক ঈদের দিন। সাপ্তাহের সেরা দিনও। এ দিনের গুরুত্ব ও ফাযায়েল অপরিসীম। তেমনি শুক্রবার রাতেরও রয়েছে অশেষ গুরুত্ব ও ফাযায়েল। মু’মিনের নিকট রয়েছে সাপ্তাহের এ রাত-দিনের তুলনাহীন গুরুত্ব।

মারকাযে থাকা অবস্থায় প্রতি এই রাত্রি ছিল আমাদের জন্য একটি সৌভাগ্যবান রাত্রি! পাপমোচনের রাত্রি! চোখ থেকে অশ্রু ঝরাণোর রাত্রি!

এই রাত্রিতে এশার নামাজের পর ঘোষণা দেয়া হতো, প্রতি সাপ্তাহের মতো আজকেও আমাদের আমল হবে ইনশাআল্লাহ! সকলকে জাগিয়ে দেওয়া হবে। তাই একটু দ্রুত আমরা ঘুমিয়ে যাবো। এবং ডাকার সাথে সাথে উঠে যাবো। কেউ অলসতা করবো না।

আমরা নিজ নিজ আসনে ঘুমিয়ে পড়তাম। রাত তিনটায় হুযূররা এসে স্নেহের সাথে দরদমাখা কন্ঠে ডেকে তুলতেন। মুদীর সাহেবও পুরো মাদরাসা হেঁটেহেঁটে দেখতেন। কেউ ঘুমিয়ে থাকলে মায়াবী সুরে ডেকে জাগিয়ে দিতেন।

সবাই অজু করে দু’চার রাকাত সালাতুত তাহাজ্জুদ পড়ে নিতাম। নামাজ শেষে ‘বড়কক্ষে’ সবাই একত্রিত হতাম। যিকিরও মোনাজাতের জন্য।

মুহতারাম মুদীর সাহেব হুযূর প্রথমে যিকিরের আওয়াজ তুলতেন ‘আসতাগফিরুল্লাহ’র সুরে। তারপর উস্তাদ তালাবা সকলের মুখ থেকে একত্রে যিকিরের ধ্বনি উঠতো। এভাবেই যিকিরে যিকিরে কেটে যেতো ঘন্টা খানিকটা।

যিকিরের ধ্বনিতে মুখরিত হতো পুরো মাদরাসা। এবং বারাকাত ছড়িয়ে পড়তো মাদরাসার আশপাশ ও সারা দুনিয়া। (আমার বিশ্বাস) এমনকি তখন আকাশ থেকে অঝোরে ঝরতো রহমতের শিশির কণা। এবং মুষলধারে পড়তো বরকতের বারিধারা।

যিকিরের পর শুরু হতো মোনাজাত। এই মোনাজাত সবসময়ের মোনাজাতের মতো নয়। সবাই জারজার হয়ে কাঁদতো। চোখ থেকে অশ্রু ঝরাতো। এমনকি কাঁদতো সরলমনা ছোট্ট ছোট্ট কলিরাও, যারা ফুল কুড়াতে এসেছে “মারকাযুল হিদায়া” নামের নববী উদ্যানে। তখন আমরা সকল দুনিয়াবী কাজকর্ম ছেড়ে চলে যেতাম আখেরাতের ধ্যানে।

যিকির ও মোনাজাত শেষ হলে ভিতরে আশ্চর্য এক ভালো লাগা কাজ করতো। তখন মনে মনে ভাবতাম, আমি মনেহয় ফেতনা-ফাসাদের এ-যুগে নয়, অন্য কোন যুগে চলে গেছি। কিন্তু আজ সেই রাত! বাড়িতে থাকতে হচ্ছে! মারকাযে থাকার কথা ছিল! দুনিয়ার পরিস্থিতির কারণে বাড়িতে থাকতে বাধ্য করছে। খুবই মনে পড়ছে সেই রাতের কথা।

জানি না কবে হবে মারকাযে আর এমন রাতের মোলাকাত! কারণ, দেশের পরিস্থিতি ও দুনিয়ার হাল-চাল…!
দোয়া করি, আল্লাহ তা’লা আমাদেরকে বলা-মছীবত থেকে হেফাজত করুন। এবং ‘করোনা ভাইরাস’ নামক মহাপরিক্ষা থেকে আমাদেরকে এবং মুসলিম বিশ্বকে পরিত্রাণ দান করুন। আমীন।

লেখক: ফাজিল, মারকাযুল হিদায়া, সিলেট। 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Copyright © All rights reserved. | Newsphere by AF themes.