June 27, 2022

Shimanterahban24

Online News Paper

কানাইঘাট-জকিগঞ্জে আল্লামা উবায়দুল্লাহ ফারুকের ব্যপক ত্রাণ তৎপরতা অব্যাহত

1 min read

সিলেট নগরীতে ভারী বৃষ্টি আর ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানি উপচে পড়ে প্লাবিত হয়েছে জনপদ, ঘর-বাড়ি, দোকানপাট। প্লাবিত এলাকায় খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির চরম সংকট দেখা দিয়েছে। তাছাড়া গবাদিপশু নিয়ে বিপাকে পড়েছেন বানভাসি মানুষজন। এদিকে সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে প্রবল বেগে পানি ঢুকে জকিগঞ্জের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে।

সঙ্কটাপন্ন এই সময়ে জনগণের সেবায় নিয়োজিত ছিলেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সিনিয়র সহ সভাপতি, দেশের সর্বজন শ্রদ্ধেয় প্রবীণ আলেমেদ্বীন ও রাজধানীর জামিয়া মাদানিয়া বারিধারা’সহ অসংখ্য মাদরাসার শায়খুল হাদীস কানাইঘাট-জকিগঞ্জবাসীর প্রিয় নেতা আল্লামা উবায়দুল্লাহ ফারুক (দা.বা.)।

স্থানীয় জমিয়ত সুত্রে জানা যায়, আল্লামা উবায়দুল্লাহ ফারুক নিজ উদ্যোগে ত্রাণ তৎপরতার পাশাপাশি বিভিন্ন সেচ্ছাসেবী সংগঠনের ব্যবস্থাপনায়ও ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেন। কানাইঘাট, জকিগঞ্জের কয়েকটি ইউনিয়নে পানিতে আটকে পড়া প্রায় ২০ হাজার মানুষের ঘরে পৌঁছে দিয়েছেন শুকনো খাবার ও বিশুদ্ধ পানি। ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকটি পরিবারকে ঘর বানানোর প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ও ঘরের আসবাবপত্রও বিতরণ করেন তিনি।

এপ্রসঙ্গে গণমাধ্যমকে আল্লামা উবায়দুল্লাহ ফারুক বলেন, যে আল্লাহ তাআলা পৃথিবী এবং আমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন তিনিই বন্যা দিয়েছেন। বন্যায় কি লাভ এটা একমাত্র তিনিই জানেন। আল্লাহর দেয়া কোন গযব ক্ষতির জন্য নয়; বরং লাভের জন্য। যেখানে হালাল-হারামের বাচবিচার নেই, দ্বীনদারী নেই, মানুষজন বেনামাজি সেখানে এধরণের আজাব-গযব আসে। এই আজাব-গযব আমাদের জন্য রহমত হবে- যদি আমরা নামাজী হই, দ্বীনদারী ও হালাল-হারাম বাচবিচার করে চলি।

তিনি বলেন, বন্যার সময় আমরা দুর্গত মানুষের সাথে কি আচরণ করি এটাও আল্লাহ তায়ালা পরীক্ষা করেন। বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ আসলে হায়-হুতাশ নয়; এই সময়ে নিজেকে সংশোধন করে নিতে হয়। পূর্বের গুনাহ থেকে বাঁচার জন্য বেশীবেশী তাওবা-ইস্তেগফার পড়তে হয়।

আল্লাহ তায়ালা কোরআনে বলেন- ‘আখেরাতের আজাবের আগে দুনিয়ায় আমি কিছু ভোগান্তি, কিছু বিপদ-মুসিবত দিয়ে থাকি, তারা যেন দুষ্টু চলাফেরা ছেড়ে দ্বীনদারীর দিকে ফিরে আসে।’

আল্লামা উবায়দুল্লাহ ফারুক বলেন, যদি দ্বীনদারীর দিকে ফিরে আসি, তাওবা-ইস্তেগফার করি তাহলে বন্যা আমাদের জন্য রহমত। আর যদি তাওবা-ইস্তেগফার না করি, তাহলে এই বিপদের পর আরেক বিপদ আসবে। দুনিয়ায়ও বিপদে পড়লাম আর মরার পরেও জাহান্নামের লাঞ্ছনা ভোগ করতে হবে।

তিনি বলেন, শুধুমাত্র সরকার, এমপি, মন্ত্রী আর স্থানীয় চেয়ারম্যান-মেম্বারের দিকে তাকিয়ে থাকলে হবে না। প্রত্যেক মসজিদে জুম্মার দিন চেয়ারম্যান-মেম্বার আর স্থানীয় মুরুব্বিরা জনগণকে এগুলো বুঝাতে হবে- ভাই এই বিপদের সময় অসহাদের জন্য আমরা কি করতে পারি, কিভাবে এই বিপদ কাটিয়ে উঠতে পারি। নিজেরা উদ্যোগ নিয়ে অসহায়দের পাশে দাঁড়ানো দরকার।

তিনি আরো বলেন, নামাজ-রোজা ঠিকমত করবোনা, হালাল-হারাম যাচাই-বাছাই করবো না, মহল্লায় মহল্লায় গ্রুপিং আর মারামারি করবো, একে অপরের সাথে পশুসুলভ আচরণ করবো তাহলে আজাব-গযব আসবে না এ কেমন কথা? আমাদের চলাফেরা যদি ভালো না হয় তাহলে দুনিয়ায়তো মসিবত আসবেই আখেরাতেও আরো বড় মুসিবত আসবে। তাই আসুন, আমরা একে-অপরের সাথে মারামারি, ঝগড়াঝাটি, গ্রুপিং পরিহার করি। সবাই এক পরিবারের মানুষ হিসেবে জীবন যাপন করি। পরস্পরের মাঝে প্রেম-ভালোবাসার সম্পর্ক স্থাপন করি।

সেচ্ছাসেবী সংগঠন ও প্রবাসীদের প্রসংশা করে আল্লামা উবায়দুল্লাহ ফারুক বলেন, আপনাদের ব্যয়বহুল উদ্যোগে এদেশের হতদরদ্রি, অসহায় ও নিম্নবিত্ত মানুষের মুখ উজ্জ্বল হবে। শুধুমাত্র বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মাঝে খাবার বিতরণ করেই আপনাদের দায়িত্ব শেষ নয়; বন্যা পরবর্তী ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোও খুবই জরুরী। প্রবাসী ভাইরা যদি দেশের মানুষের বিপদাপদে এগিয়ে আসেন তাহলে আল্লাহ তাআলা আপনাদের রুজি-রোজগারে বরকত দান করবেন।

আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে জনকল্যাণ মূলক কাজে বেশীবেশী অংশগ্রহণ করার তাওফিক দান করুন। বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও বালামুসিবত থেকে আমাদের দেশ ও দেশের জনগণকে হেফাজত করুন, আমিন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Copyright © All rights reserved. | Newsphere by AF themes.