December 6, 2021

Shimanterahban24

Online News Paper

‘রাসূল (সা.)এর আগমনের মধ্যদিয়েই প্রকৃত সভ্যতা ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে’

1 min read
উবায়দুল্লাহ ফারুক

জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সহ সভাপতি, শায়খুল হাদীস আল্লামা উবায়দুল্লাহ ফারুক বলেছেন, এই পৃথিবীতে ইসলামের আগমনের পূর্বে বহু মতবাদ ছিল।

হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রীস্টান, ইহুদী, আর্য, জৈন, অগ্নিউপাসক, সূর্য উপাসক; এমন বহু মতবাদ ও দর্শন ছিল। কিন্তু কোথাও প্রকৃত সভ্যতার উপস্থিতি ছিল না।

বহু ধর্মগ্রন্থ ও মতবাদের উপস্থিতি সত্ত্বেও কোথাও মানুষের নিরাপত্তা ও মৌলিক অধিকার স্বীকৃত ছিল না। কোথাও মানবিক মূল্যবোধ এবং জান-মাল ও ইজ্জত-আব্রুর বালাই ছিল না।

যেভাবে বাঘ-সিংহ দুর্বলদেরকে খেয়ে ফেলে, গোটা বিশ্ব যেন এই নিয়মেই এইভাবে ছিলো। খ্রিস্টানদের অবস্থা বলুন, বৌদ্ধদের অবস্থা বলুন, ইহুদিদের অবস্থা বলুন, হিন্দুদের অবস্থা বলুন, নাস্তিকদের অবস্থা বলুন, কিন্তু কোথাও শক্তিশালীদের সামনে দূর্বলদের কোনো নিরাপত্তার নিশ্চয়তা ছিল না।

ইসলামের নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)এর আগমনের মধ্য দিয়েই মানবিক মর্যাদা, নিরাপত্তা, আদর্শ শিক্ষা, ইনসাফপূর্ণ সমাজ ও রাষ্ট্রব্যবস্থা, সুবিচার ও সামগ্রিক নৈতিকতা এবং নারীদের ন্যায্য অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিতের লক্ষ্যে দাওয়াহ ও আন্দোলন শুরু হয়েছে। ইসলামের বিশ্বাস ও দর্শনেই প্রকৃত সভ্যতার উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়েছে।

গতকাল (২১ অক্টোবর) শুক্রবার, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ ঢাকা মহানগরী আয়োজিত সীরাতুন্নবী (সা.) কনফারেন্সে আল্লামা উবায়দুল্লাহ ফারুক এসব কথা বলেন।

তিনি আরো বলেন, “রাসূল (সা.)ঘোষণা দিলেন- المسلم من سلم المسلمون من لسانه ويده বাস্তব মুসলমান সেই মুসলমান, যার জবান থেকে, যার দেহ থেকে, অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ থেকে, অন্য সকল মানুষ যেন মাহফুজ থাকে, কোন ক্ষতি সাধন না হয়।

হযরত আনোয়ার শাহ কাশ্মিরী (রাহ.)সহ অপরাপর উলামায়ে দেওবন্দ বলেছেন- মানুষ বলে স্বীকৃতি দেয়া লজ্জাজনক, যে মানুষ কষ্ট দেয়। এই ধরনের রেওয়ায়েত সবটার এই অর্থ- মুসলমান আখ্যা দেয়া মুনাসিব।

রাসুল (সা.)এর এই সবক; আমার পরে কাফেরদের মত হয়ে যেও না। যে একজন আরেকজনকে কতল করতে পারে। মুসলমানের কোন উত্তর নাই।

যেভাবে- আগুনের স্বভাব পোড়ানো, ধারালো ছুরি আর দাওয়ের স্বভাব কাটা, পানির স্বভাব ডুবনো, এভাবে লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ এর স্বভাব হল, যে এটা পড়বে ও মানবে, তার জান-মাল, ইজ্জত-আব্রু নিরাপদ।

রাসূল (সা.) বলেন- আমাকে হুকুম দেয়া হয় নাই পেট ফেঁড়ে দেখার কিংবা সিনায় ছিদ্র করে দেখার যে, তার মধ্যে ঈমান আছে কিনা বা কোন মুনাফিকী আছে কিনা?

যে কালিমা পড়বে তাঁর জান-মাল, ইজ্জত-আব্রু মাহফুজ। সে জিন্দেগিতেও যদি নামায না পড়ে তবুও তার জান-মাল ইজ্জত-আব্রু মাহফুজ।

কোন ইবাদত না করে কিন্তু সে দাবি করে মুসলমান, তার সাথে কোন যুদ্ধ নাই, তার সাথে কোন জিহাদ নাই, তার সাথে কোন মারামারি নাই, তার জান-মাল, ঘরবাড়ি, সম্পত্তি সব মাহফুজ। এই সবক কোন ধর্মে নাই। এই সবক রাসূল (সা.) এসে দিয়েছেন।

হযরত উসামা রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু বলেন- (বুখারী শরীফের রেওয়ায়াত) আমি আর আমার এক আনসারী ভাই এক কাফিরকে রণাঙ্গনের দিকে দৌড়িয়ে নিতেছি।

এরপর সে হাত উঠিয়ে বলছে- “লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ” আমার আনসারী ভাই হাত নামিয়ে ফেললেন। হযরত উসামা বাচ্চা মানুষ, উনি বললেন- আমি তাকে কতল করে ফেললাম।

যুদ্ধ থেকে আসার পর রাসূল (সা.)এর নিকট কারগুজারি শুনানো হলো। রাসূল (সা.) হযরত উসামাকে বারবার বলতেছেন- أقتل بعد أن قال لا اله الا الله

হযরত উসামা বললেন- যদি আজকের পর আমি মুসলমান হতাম তাহলে আমি রাসূল (সা.)এর রাগের সম্মুখীন হইতাম। তাওবা করনেওয়ালার জান-মাল, ইজ্জত-আব্রু নিরাপদ।

আজ রাসূল (সা.)এর উসওয়া না থাকার কারণে তথাকথিত মুসলমানদের জান-মাল, আব্রুর নিরাপত্তা নাই।

যে সময় যারা শক্তিধর হয়, তারা দুর্বলদের মিসমার করে ফেলে। এটা মানবতা নয়, এটা সিংহের আচরণ, এটা সাপের আচরণ, এটা বাঘের আচরণ, পশুর আচরণ।

গোটা পৃথিবীর অমুসলিম স্টেটতো বটেই, মুসলমান স্টেট- আরব ও আজমের সব জায়গায় শক্তিধরদের কাছে দুর্বলদের অত্যাচার চলছে বর্তমানে।

১২০০ বছর এই আসমান, এই পৃথিবী, আদল ও ইনসাফ যেটা দেখেছে পূর্বে তা দেখে নাই। সন্ত্রাসীদের ব্যাপারে কুরআনে বলা হয়েছে- সন্ত্রাসীদের কতল করা, ফাঁসি দেয়া, আদালতের যেটা ইচ্ছা করতে পারবে।

১২০০ বছর গোটা পৃথিবী জননিরাপত্তার নিয়ামতে ভোগলো। এতবড় ইতিহাস থাকাসত্ত্বেও আজকের মুসলমানদের খুব লজ্জ্বায় ১২০০ বছরের পরীক্ষিত আল্লাহর দেয়া কানুনকে বাদ দিয়ে মানুষ রচিত ত্রুটিপূর্ণ আইনে দেশকে চালাচ্ছে।

এই মানব রচিত আইনের কারণে সর্বস্তরের মানুষের সমানভাবে জানের নিরাপত্তা নাই, মালের নিরাপত্তা নাই, ইজ্জত-আবরুর নিরাপত্তা নাই। ইসলামী কানুন থাকার কারণে কাফেররাও নিরাপদ ছিলো গত ১২০০ বছরে।

আল্লাহ তা’আলা মানব রচিত ত্রুটিপূর্ণ আইনের বেইনসাফী থেকে মুসলমানদেরকে রক্ষা করুক। আর মুসলমানদের ব্রেন ও চোখ খুলে দিক। দেশব্যাপী ও বিশ্বময় শান্তি বিরাজ করুক।

মানুষের মৌলিক অধিকার ও নিরাপত্তা সমানভাবে গুরুত্ববহ হোক। শক্তিশালী ও শান্তিপূর্ণ দেশ গড়ে ওঠুক। সর্বস্তরে ন্যায়-নীতি ও ইনসাফ জারি হোক। আমিন।”

অনুলিখন- মুহাম্মদ নূর হোসাইন (সবুজ)

সীমান্তের আহ্বান

ফেইসবুকে- সীমান্তের আহ্বান

টুইটারে- সীমান্তের আহ্বান

পড়ুন…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Copyright © All rights reserved. | Newsphere by AF themes.