September 26, 2021

Shimanterahban24

Online News Paper

হে যুবক! গুনাহ থেকে কীভাবে বাঁচবে?

1 min read
আবু তালহা তোফায়েল

{হে ভাই ও বোন আপনি যে গুনাহ থেকে বাঁচতে চান, এতেই বুঝা যাচ্ছে আপনার হৃদয়ে আল্লাহ কল্যাণ রেখেছেন; আপনার ভেতরে ঈমান আছে।আপনার গুনাহ পরিত্যাগ করার জন্য আপনি অস্থির হয়ে আছেন।

“আপনার নেক আমল যখন আপনাকে আনন্দিত করে এবং বদ আমল যখন আপনাকে ব্যথিত করে, তবেই আপনি মুমিন।”

(মুসনাদে আহমদ)}

প্রিয় ভাই আমার, আপনি তারুণ্যের সোনাঝড়া দিনগুলো পার করছেন, আপনি জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলো পার করছেন, তাই শয়তান তার সর্বশক্তি ব্যায় করে আপনার পিছু লেগেছে।

সে চায় আপনার যৌবনের পবিত্রতাকে নষ্ট করতে, সে চায় আপনার জীবনকে ধ্বংস করতে, সে চায় আপনার দাম্পত্য জীবনের মধুর আয়োজনকে জ্বালিয়ে পুড়িয়ে ছারখার করে দিতে,

সে চায় আপনাকে আপনার দয়াময় রবের রহমত থেকে বহুদূর নিয়ে যেতে। তাই এই সময় আপনাকে পূর্ণ সাবধান থাকতে হবে, কোমর বেঁধে শয়তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে।

প্রিয় ভাই ও বোন! গুনাহ থেকে বাঁচার কার্যকর ৩ টি গুরুত্বপূর্ণ উপায় আলোচনা করব; ইনশাআল্লাহ।

১.

গুনাহ থেকে বাঁচার সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো- “গুনাহের উৎসমুখ বন্ধ করে দেওয়া”
আর গুনাহের উৎসমুখ হলো ‘চিন্তা-ভাবনা’। তাই আপনার চিন্তা ভাবনাকে ২৪ ঘন্টা কঠোর নিয়ন্ত্রণে রাখুন; আপনার চিন্তা ভাবনায় ফিল্টার বসিয়ে দিন।

আপনার মনের দরজা-জানালা এমনভাবে খুলে দিবেন না যে, যার ইচ্ছে ঢুকবে যার ইচ্ছে বের হবে। আপনার মনকে যা ইচ্ছে তা ভাবতে দিবেন না। মনে রাখবেন যত গুনাহে আপনি লিপ্ত হন তার শুরুটা আপনার চিন্তা-ভাবনা থেকেই শুরু হয়।

প্রথমে গুনাহের চিন্তাটি আপনার মনে উদিত হয়, তারপর সেটি নিয়ে আপনি আরও ভাবতে থাকেন, তারপর মোটামুটি একটি পরিকল্পনা দাড় করেন, অতঃপর গুনাহটি সম্পন্ন করেন।

আপনি যদি মনে আসতেই গুনাহের চিন্তাটিকে থামিয়ে দিতে পারেন, তবে আপনি গুনাহ থেকে সফলভাবে বেঁচে থাকতে পারবেন; ইনশাআল্লাহ। আমাদের মনে সবসময় কোনো না কোনো চিন্তা ঘুরপাক খেতেই থাকে।

কিন্তু খেয়াল রাখবেন, যখনি কোনো বাজে চিন্তা মাথায় আসে, সাথে সাথে ঝাড়িয়ে ফেলুন৷ বন্ধ করুন গুনাহের উৎসমুখ। মনকে আজেবাজে চিন্তা থেকে দূরে রাখতে নিজেকে সবসময় গঠনমূলক কাজে ব্যাস্ত রাখুন।

পাঁচ ওয়াক্তের সালাত যেকোনো মূল্যে মসজিদে গিয়ে আদায় করুন, প্রতিদিন নির্দিষ্ট পরিমাণ কুরআন তেলাওয়াত করুন, সকাল-বিকালের জিকির-আজকার গুরুত্ব সহকারে আদায় করুন,

দ্বীনি বইপুস্তক পড়ুন এবং নিজেকে পুরোদিন কল্যাণমূলক চিন্তায় ব্যাস্ত রাখুন৷ যখনই কোনো গুনাহের চিন্তা উদিত হয়, তখনই আপনি ইস্তেগফার করুন এবং আল্লাহর জিকিরগুলো পড়তে থাকুন।

মনে রাখবেন আমাদের মন একই সাথে দুটো চিন্তা করতে পারে না৷ আমরা যখন জিকিরে মশগুল হয়ে যাব, গুনাহের চিন্তা এমনিতেই থেমে যাবে।

প্রিয় ভাই ও বোন! শয়তান বারবার আপনার মনে কুমন্ত্রণা দেবে, আপনার হৃদয়ে গুনাহের চিন্তা ঢুকিয়ে দেবে। শয়তানের একটি বিষাক্ত তীর হলো

“কুদৃষ্টি”

আপনি কঠোরভাবে আপনার নজরের হেফাজত করুন। ফেইসবুক-ইউটিউবের এই যুগে নজরের (দৃষ্টির) হেফাজত বড় কঠিন ব্যাপার। আপনার ফেইসবুক টাইমলাইনকে নিয়ন্ত্রণ করুন।

নির্বাচিত ইসলামি আইডি ও পেইজগুলোকে সি-ফার্স্ট (se first) দিয়ে রাখুন৷ ইউটিউবে অন্তত ২০টি ইসলামী চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করে রাখুন। নষ্ট ফাইলগুলো হাইড করে দিন। শয়তানের নিক্ষিপ্ত কুদৃষ্টির তীর যখন আপনার অন্তরে গিয়ে লাগে, আপনি আর আপনার চিন্তাকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন না; তাই নজরের হেফাজতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিন।

২.

প্রিয় ভাই! গুনাহ থেকে দূরে থাকার ২য় আরেকটি উপায় হলো “সৎসঙ্গ গ্রহণ”
আপনাকে অবশ্যই অসৎসঙ্গ ত্যাগ করতে হবে, দেখেশুনে নামাজি ও নেককার মানুষকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করুন, যাঁদের দেখলে আপনার আল্লাহর কথা মনে পড়ে, আখিরাতের কথা স্মরণ হয়।

যতদিন অসৎসঙ্গ ত্যাগ না করবেন, গুনাহ থেকে আপনি বেঁচে থাকতে পারবেন না।

৩.
প্রিয় ভাই! গুনাহ থেকে বেঁচে থাকার ৩য় আরেকটি উপায় হলো “বিয়ে”।
বিয়ের অভাবে যেসব গুনাহ হয়ে থাকে, বিয়ে করা ব্যতীত এসব গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা একপ্রকার অসম্ভবই বলা যায়। তাই যেকোনো মূল্যে বিয়ে করে ফেলার চেষ্টা করুন।

আমরা জানি এই কুফরি রাষ্ট্র ব্যাবস্থা ও জাহিলি সমাজ আপনার জন্য বিয়েকে বড় কঠিন করে রেখেছে। তবুও আপনি হাল ছাড়বেন না। সহিহ বুখারীতে এসেছে-
“হে তরুণ সমাজ! তোমাদের মধ্যে যাদের সামর্থ্য আছে বিয়ে করে নাও। যাদের সামর্থ্য নেই তারা সাওম (রোজা) পালন কর। কারণ সাওম জৈবিক তাড়না দমন করে৷”

প্রিয় ভাই! দুনিয়াতে একটি সুখময় জীবনের জন্য এবং আখিরাতে জাহান্নামের কঠিন আজাব (শাস্তি) থেকে বাঁচার জন্য আপনাকে মরণপণ সংগ্রাম চালিয়ে যেতে হবে। আপনি যদি আপনার যৌবনকে পবিত্র রাখতে পারেন, তারুণ্যের উর্বর দিনগুলোতে ইবাদতের ফসল ফলাতে পারেন- তবে আল্লাহ তা’আলা আপনার জীবনকে সমৃদ্ধি এবং সাফল্যে ভরে দিবেন।

আল্লাহ আমাদের সবাইকে আমল করার তৌফিক দিন। আমিন।

লোগো

আবু তালহা তোফায়েল 

লেখক: নির্বাহী সম্পাদক ও প্রকাশক, সীমান্তের আহ্বান।
সভাপতি, বৃহত্তর জৈন্তা রিপোর্টার্স ক্লাব।

91 thoughts on “হে যুবক! গুনাহ থেকে কীভাবে বাঁচবে?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Copyright © All rights reserved. | Newsphere by AF themes.