শীর্ষ আলেমদের বিরুদ্ধে মামলা ষড়যন্ত্রের অংশ; ইসলামী নেতৃবৃন্দের তীব্র প্রতিক্রিয়া - Shimanterahban24
March 29, 2023

Shimanterahban24

Online News Paper


Warning: sprintf(): Too few arguments in /home/shimante/public_html/wp-content/themes/newsphere/lib/breadcrumb-trail/inc/breadcrumbs.php on line 254

শীর্ষ আলেমদের বিরুদ্ধে মামলা ষড়যন্ত্রের অংশ; ইসলামী নেতৃবৃন্দের তীব্র প্রতিক্রিয়া

1 min read

খালেদ সাইফুল্লাহ ;; হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী, যুগ্মমহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ ফয়জুল করিমের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা দেয়ার ঘটনাকে একটি পরিকল্পিত সাজানো নাটক বলে মনে করছেন শীর্ষ আলেমরা। তারা মনে করেন, মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের করা এ মামলা শুধু হেফাজতের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র নয়, এটা দেশ ও রাষ্ট্রবিরোধী সুদূরপ্রসারী গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ।

হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলার প্রতিক্রিয়ায় বিষয়টিকে ‘সৌভাগ্য’ বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, এটাই আমাদের নাজাতের উছিলা হবে। এটাই আমাদের সৌভাগ্য।

বাবুনগরীর একান্ত সচিব ইনামুল হাসান ফারুকী হেফাজত আমিরের বরাত দিয়ে জানান, কিছুক্ষণ আগে আমার প্রাণপ্রিয় শায়েখ ও মুরশিদ কায়েদে আজম শাইখুল হাদিস আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরীকে যখন বললাম, ভাস্কর্য ইস্যুতে আপনাকেসহ আল্লামা মামুনুল হক ও আল্লামা ফয়জুল করীমের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। হুজুর হেসে বললেন, কুরআন-হাদিসের বাণী পৌঁছাতে গিয়ে ভাস্কর্যের বিরুদ্ধে বক্তব্য দেয়ায় আমাদের নামে মামলা হয়েছে। এটাই নাজাতের উছিলা হবে, আর এটাই আমাদের সৌভাগ্য।

হেফাজতের যুগ্মমহাসচিব ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় ফেসবুক লাইভে এসে বলেন, আমরা মদিনা সনদে দেশ চালানোর কথা বললে যদি রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা হয়, তাহলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও মদিনা সনদে দেশ চালানোর কথা বলেছেন। এজন্য এ মামলা শুধু হেফাজতের বিরুদ্ধে নয়, আমরা মনে করি এটি দেশ ও রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র। হয়তো একদিন এ কুচক্রী মহল প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধেও রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা দিতে পারে। এজন্য আমরা স্তম্ভিত। ষড়যন্ত্র কত গভীরে তা আওয়ামী লীগ নেতাদের বুঝতে হবে। এ ব্যাপারে তাদের সতর্ক ও সচেতন হতে হবে।

তিনি মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চকে ভূইফোঁড় সংগঠন হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ভাস্কর্য নিয়ে আলেমরা ফতোয়া দিয়েছেন। এ নিয়ে দ্বিমত করার সুযোগ নেই। কিন্তু ভাস্কর্য বিরোধিতাকে বঙ্গবন্ধুর বিরোধিতা হিসেবে প্রচার করে তারা আলেমদের বিরুদ্ধে বিষোদগার করছে। এটা কখনো কাম্য হতে পারে না। এখনই মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চকে না থামালে অদূর ভবিষ্যতে দেশে আরো বড় বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।

জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সহসভাপতি প্রাজ্ঞ আলেম রাজনীতিবিদ মাওলানা আবদুর রব ইউসুফী বলেন, আমরা মনে করছি মামলাটি সাজানো। পরিকল্পিতভাবে এ মামলা দেয়া হয়েছে। আমরা এখন বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছি।

তিনি বলেন, আলেমরা ফতোয়া দিয়েছেন, যাত্রাবাড়ী মাদরাসায় সভা করে প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাৎ করার অভিপ্রায় প্রকাশ করা হয়েছে। এর মধ্যে এ মামলা দেয়া হলো। আমরা এখন দেখব সরকার কী ধরনের ব্যবস্থা নেয়। সরকারের গতি-প্রকৃতি দেখে আমরা আমাদের গতি-প্রকৃতি ঠিক করব। আমরা আশা করি সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে ভালো কোনো সমাধান আসবে; যাতে দেশে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় থাকে সরকার সে ব্যাপারে উদ্যোগ নেবে। দেশে যাতে কোনো অঘটন না ঘটে সরকার সেদিকে যাবে বলেই আমরা মনে করি।

হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী বলেন, একটি অশুভ শক্তি দেশের শান্তি প্রিয় আলেম সমাজকে সরকারের মুখমুখি করে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। আলেম সমাজ ও ধর্মপ্রাণ জনসাধারণকে উস্কানি দিয়ে দেশকে গৃহযুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতে চায়। তারা প্রথমে হুমিক-ধমকি দিয়ে এবং মাহফিলে বাধা প্রদান করে দিয়ে ওলামায়ে কেরামকে স্তব্ধ করতে না পেরে এখন মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির পথ বেচে নিয়েছে। আমরা এই হয়রানি মূলক ভিত্তিহীন মামলার তীব্র প্রতিবাদ জানাই। বর্তমান হেফাজতের নেতৃত্বাধীন ওলামায়ে কেরামকে মামলা দিয়ে স্তব্ধ করা যাবে না।

মামলার বাদী মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ সম্পর্কে মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী বলেন, মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ একটি দেশবিরোধী চিহ্নিত সন্ত্রাসী সংগঠন। শুরু থেকেই এটি সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের জন্য খ্যাত। সাম্প্রতিক অতীতে বিভিন্ন ছাত্র-আন্দোলনের সময় সংগঠনটি আন্দোলনরত নিরীহ ছাত্রদের ওপর সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে বিতর্কিত ও প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। এই সন্ত্রাসী সংগঠন কর্তৃক ওলামায়ে কেরামের বিরুদ্ধে দেশদ্রোহী মামলাকে আমরা বাংলাদেশ বিরোধী  চক্রান্তের অংশ মনে করি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে এদের দ্বারা প্ররোচিত না হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মুখপাত্র ও যুগ্মমহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন, এ মামলার কোনো ভিত্তি নেই। আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী, মাওলানা মামুনুল হক ও মুফতি সৈয়দ ফয়জুল করীম কেউই বঙ্গবন্ধুর মূর্তি ভাঙতে বলেননি। মূর্তি ভাঙ্গা আলেমদের কাজ নয়। শীর্ষ আলেমরা একটি ফতোয়া দিয়ে দেশের সব মূর্তি সম্পর্কে তাদের বক্তব্য দিয়েছেন।

তিনি বলেন, আমরা মনে করছি ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে পরিকল্পিতভাবে আলেমদের বিরুদ্ধে বিষোদগার করা হচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দেয়া হচ্ছে। এটি দুঃখজনক। মামলাটি পিবিআইতে তদন্তের জন্য দেয়া হয়েছে। আমরা আশা করছি তাদের তদন্তে এ মামলাটি টিকবে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Copyright © All rights reserved. | Newsphere by AF themes.