• Sat. Oct 31st, 2020
Top Tags

আমার বাবা স্বাভাবিকভাবে ইন্তিকাল করেছেন; মাওলানা ইউসুফ বিন শফি

ByManaging Editor

Sep 30, 2020

হাটহাজারী প্রতিনিধি ::  আল্লামা আহমদ শফীর ইনতিকাল সম্পর্কে সোশ্যাল মিডিয়া গুজব ও নানা কথার ডালপালা ছাড়ালে অবশেষে তার পরিবারের পক্ষ থেকে মুখ খুললেন বড় ছেলে মাওলানা ইউসুফ। হাটহাজারী মাদ্রাসায় আল্লামা আহমদ শফীর স্মৃতিবিজড়িত কক্ষে ইসলামিক অনলাইন টেলিভিশন কওমি ভিশনকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে আল্লামা আহমদ শফী বড় সন্তান মাওলানা ইউসুফ তার পিতার ইনতিকাল সম্পর্কে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন।

এ সময় তিনি বলেন, ‘আমি মুহাম্মাদ ইউসুফ ইবনে আহমদ শফী। আমি হুযুরের বড় ছেলে। আমি ১৯৮৮-১৯৮৯ খ্রিস্টাব্দে হাটহাজারী মাদ্রাসায় পড়াশোনা সমাপ্ত করি। পড়াশোনার পর থেকে আমি সবসময় বাড়িতেই থাকতাম। সে জন্য আমাকে অনেকে চিনেন না। সবাই আমার আব্বার আধ্যাত্মিক সন্তান। আমার আব্বা দুনিয়া থেকে চলে গেছেন। সবাই আমার আব্বার মাগফিরাতের জন্য দোআ করবেন।’

মাওলানা ইউসুফ বলেন, ‘গত বৃহস্পতিবার রাতে হঠাৎ আমার আব্বা বেশি অসুস্থ হয়ে পড়েন। এরপর আমার বড় ছেলে মাওলানা আরশাদসহ তাঁকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে শুক্রবার ইয়ার এম্বুলেন্স করে তাঁকে ঢাকা আজগড় আলী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ঢুকানোর মাত্র ১৫ থেকে ২০ মিনিট পরেই আমার আব্বা রফিকে আলার ডাকে সাড়া দিয়ে দুনিয়া থেকে চিরবিদায় নিয়ে গেছেন। স্বাভাবিকভাবে আমার বাবা মৃত্যুবরণ করেছেন।’

মাওলানা ইউসুফ বলেন, ‘দুনিয়াতে আমরা যারাই আছি সবাইকে একদিন মৃত্যুবরণ করতে হবে। মৃত্যুর নির্ধারিত সময় আল্লাহর জানা আছে। যার মৃত্যু নির্ধারিত তখনই তার মৃত্যু হবে। এখানে কারো কোনো হস্তক্ষেপ চলবে না। যার যতদিন হায়াত থাকে ততদিন আল্লাহ বাঁচিয়ে রাখবেন। যখন হায়াত শেষ হয়ে যায় তখন তাঁকে আল্লাহর ডাকে সাড়া দিয়ে চলে যেতে হবে। এ দুনিয়ার ধন সম্পদ সব ছেড়ে চলে যেতে হবে। আমার আব্বাও সে রকম স্বাভাবিকভাবে দুনিয়া ছেড়ে চলে গেছেন।’

তিনি আরো বলেন, ‘প্রিয় দেশবাসী! আপনারা দেশের বিভিন্ন স্থান হতে জানাযার নামাজে অনেক কষ্ট করে অংশগ্রহণ করেছে। আপনাদের কোনো মেহমানদারি আমরা করতে পারিনি। সে জন্য অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে দুঃখ প্রকাশ করছি। মাদ্রাসার পক্ষ থেকে দুঃখ প্রকাশ করছি। আমার পরিবারের পক্ষ থেকেও দুঃখ প্রকাশ করছি। আপনারা যে ত্যাগ ও কষ্ট স্বীকার করেছেন তা এক মাত্র ‍হুজুরের প্রতি আপনাদের মুহাব্বত ও ভালবাসার কারণে। মাদ্রাসার প্রতি আপনাদের ভালবাসার কারণে। আমার আব্বা তার পুরো জীবন মাদ্রাসার জন্য বিসর্জন করে দিয়েছেন।

মাওলানা ইউসুফ বলেন আমার আব্বার বয়স যখন ১০ বছর সেই সময় তিনি হাটহাজারীর বাথুয়া গ্রামের হাফেজ ইমতিয়াজ সাহেবের মাধ্যমে এ মাদ্রাসায় ভর্তি হন। প্রায় ১০ বছর লেখাপড়া করে তিনি ভারতের দারুল উলুম দেওবন্দ মাদ্রাসায় চলে যান।’
‘সেখানে ৪ বছর লেখাপড়া করে আওলাদে রাসূল মাওলানা সাইয়্যেদ হোসাইন আহমাদ মাদানীর (র.) খেলাফত লাভ করে হাটহাজারী মাদ্রাসায় শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। সেই সময় থেকে ২০২০ পর্যন্ত হাটহাজারী মাদ্রাসার খেদমত করছিলেন।১৪০৭ হিজরি থেকে ১৪৪২ হিজরি পর্যন্ত আমার আব্বা মাদ্রাসার পরিচালনার দায়িত্ব পালন করেন।

ভিডিও বার্তায় প্রদানকালে আরো উপস্থিত ছিলেন হাটহাজারী মাদরাসার মজলিসে ইদারিয়া (পরিচালনা কমিটি)-এর সদস্য মাওলানা শেখ আহমদ, মাওলানা ইয়াইয়া। আরো উপস্থিত ছিলেন আল্লামা আহমদ শফী রহ. -এর নাতি মাওলানা আরশাদ, মাওলানা ফয়সাল, মাওলানা আসআদসহ আরো অনেকে।
আল্লামা আহমদ শফীর ভুলত্রুটির ক্ষমা প্রার্থনা, মাগফিরাতের জন্য দোয়া এবং তার অসুস্থ আম্মার (আল্লামা শফীর স্ত্রী) সুস্থতার জন্য দোয়া কামনা করে আলোচনা শেষ করেন মাওলানা ইউসুফ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *