• Sat. Oct 31st, 2020
Top Tags

জৈন্তাপুর সীমান্তের রাজা বেন্ডটিস করিম ও তার ভাগনা রুবেল: সরকারের রাজস্বের টাকায় কোটিপতি!

ByManaging Editor

Sep 29, 2020

বিশেষ প্রতিনিধি, সিলেট:- সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার নিজপাট ইউনিয়নের ঘিলাতৈল গ্রামের বাসিন্ধা মছদ্দর আলীর ছেলে আব্দুল করিম ওরফে বেন্ডটিস করিম সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে বুঙ্গার টাকায় কোটিপতি হয়ে এখন সে সীমান্তের রাজা। বেন্ডটিস করিমের এক মসয় নুন আনতে পান্তা ফুরাতো। এখন সে হঠাৎ করে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ। চলাফেরা দেখলে মনে হয় বেন্ডটিস করিম আলাদিনের চেরাগ। সে এক সময় মোকাম পুঞ্জির খাসিয়াদের শ্রমিক হিসাবে হাজার টাকা মজুরিতে কাজ করতো। সম্প্রতি স্থানীয় জৈন্তাপুর থানা ও সীমান্ত বিজিবি ক্যাম্প গুলোর সাথে তার একটি সু-সম্পর্ক তৈরী হয়। এই সম্পর্কের সুবাদে সীমান্তের চোরাই লাইনের টাকা উত্তোলনের দায়িত্ব নেয় বেন্ডটিস করিম। সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে আর সেই বুঙ্গার লাইন থেকে তিনি এখন কোটি কোটি টাকার মালিক। বর্তমানে জৈন্তাপুর উপজেলায় যার রয়েছে বিলাশ বহুল দুই বাড়ি ও একাধীক গাড়ী সহ অধিক জমি-জমা। এখন তিনি সীমান্তের রাজা। এলাকার লোকজন তাকে সীমান্তের রাজা হিসাবে চিনেন। প্রতিদিন রাতে তার রাজ্য থেকে লেনদেন হয় লাখ লাখ টাকা। এই সকল টাকার ভাগ ভাটোয়ারা নিয়মিত স্থানীয় প্রশাসনের নিকট পাঠিয়ে দেন করিম। বর্তমানে করিম ও তার ভাগনা রুবেল বিজিবি-পুলিশের এই দায়িত্ব পালন করছেন।

একটি সুত্রে জানাযায়, চলতি মাস হতে পাকৃতিক দূর্যোগ আম্ফান গতিতে চলছে চোরাচালান ব্যবসা।এসব ব্যবসা চলছে লাইনমেন বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে। উভয় দেশের সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর সাথে লাইন ম্যানেজ করে লাইনম্যান বাহিনী নামক তথা কতিত লাইনম্যান বাহিনী – ৪৮ বিজিবির অধিনস্থ #শ্রীপুর_ক্যাম্পের রয়েছেন রুবেল,ছাত্তার ও প্রধান লাইনম্যান বেন্ডিস করিম ৫জন লাইনম্যান তাদের একজনের কাজ করেন বিএসএফ পুলিশের লাইনম্যান হিসাবে তাছাড়া ঐ ব্যক্তি সহ বাকি ৪জন বিজিবি পুলিশের নামে লাইনের টাকা অাদায় করছে ৷ #মিনাটিলা _ক্যাম্পের অধিনে রয়েছেন রুবেল, জিতু,রিফাই ও প্রধান লাইনম্যান বেন্ডিস করিমসহ ৩জন লাইনম্যান তারা প্রত্যেকেই বিজিবি পুলিশের নামে লাইনের টাকা অাদায় করছে ৷ #ডিবির_হাওর_ক্যাম্পের অধিনে রয়েছেন ফরিদ মিয়া,,,প্রধান লাইনম্যান বেন্ডিস করিমসহ ৩জন লাইনম্যান তারা প্রত্যেকেই বিজিবি পুলিশের নামে লাইনের টাকা অাদায় করছে ৷ ২১ বিজিবির #জৈন্তাপুর_রাজবাড়ী_ক্যাম্পের অধিনে রয়েছেন বেন্ডিস করিম সহ ৩জন লাইনম্যান তিনি বিজিবি পুলিশের নামে লাইনের টাকা অাদায় করছে, তাদের রয়েছেন অারও ৬জন লাইনম্যান,৷ ২১ বিজিবির অধিনে রয়েছেন #লালাখাল_ক্যাম্প, এই ক্যাম্পের অধিনে রয়ছেন আব্দুর রহিম, সেলিম আহমেদসহ ০৩জন লাইনম্যান তারা প্রত্যেকেই বিজিবি পুলিশের নামে লাইনের টাকা অাদায় করছে ৷ তাদের মধ্যাএকজন ভারতীয় বিএসএফ দিলে বিজিবি পুলিশের নামে টাকা অাদায় করছে ৷ এসকল লাইনম্যানের গডফাদার হলেন বেন্ডিস করিম।

জানা গেছে, বিভিন্ন সীমান্ত এলাকা দিয়ে আসছে ভারতীয় অবৈধ পণ্য এবং এসবের প্রকাশ্যে নেতৃত্ব দিচ্ছে বুঙ্গার লাইনম্যান সীমান্তের রাজা বেন্ডটিস করিম ও তার বাগনা রুবেল । তারা প্রতিদিন রাতের আধাঁরে চোরাচালানকারীদের নিকট থেকে এই টাকা আদায় করেন। এই ২জনের মধ্যে বেশি দায়িত্ব বেন্ডটিস করিমের কাঁধে। তাদের নেতৃত্বে বানের পানির মত সীমান্ত দিয়ে দেশে প্রবেশ করছে ভারতীয় নাছির বিড়ি মদ, ইয়াবা, মোটরসাইকেল গাড়ি, মোবাইল ও কসমেট্রিক্স গবাদিপশু গরু সহ ইত্যাদি সামগ্রী।

অপরদিকে বাংলাদেশ হতে যাচ্ছে হাজার হাজার বস্তা মটরশুটি পাচার এবং বিপরীতে ভারত হতে বাংলাদেশে ঢুকছে মদ মাদক ইত্যাদি৷

এসব পণ্য বাংলাদেশে প্রবেশ করতে বিজিবি ও পুলিশের নাম ব্যবহার করে প্রকাশ্যে লাইনম্যান নামক এই চক্র আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে অগ্রীম টাকা দিয়ে লাইন নিয়ে তারা চোরাকারবারীদের নিকট হতে চাঁদা আদায় করে আসছে৷ এতে করে একেক জন হচ্ছে কোটি কোটি টাকার মালিক।

একটি সূত্র জানায়, এই লাইনম্যানরা বিজিবি ও পুলিশকে দিচ্ছে উত্তোলনের তিন ভাগের এক ভাগ বাকিটা তাদের পকেটে। লাইনম্যান সীমান্তের রাজা বেন্ডটিস করিম, রুবেলসহ আরও অনেকের সম্পদের তথ্য নিলে অচিরেই বেরিয়ে আসবে তাদের থলের বিড়াল। সরকারের গোয়েন্দা সংস্থার লোকজনের এসকল লাইনম্যানদের সম্পদের তথ্য নেওয়ার প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল। এ্ররা সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে অবৈধ পন্তায় কোটিপতি হচ্ছে।

বিষয়টি নিয়ে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে আলাপকালে জানা যায়, বিজিবি ও পুলিশের অন্য বাহিনীর কোন লাইনম্যান নাই, ভারতীয় পণ্য বাংলাদেশে অধৈধ ভাবে প্রবেশ বেআইনি তারপরও কেউ আমাদের নাম ব্যবহার করে টাকা আদায় করে থাকলে তাদেরকে ধরিয়ে দিন বা তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করুন৷

তারা দাবী করেন জানান এসব বেআইনি কাজে যারা জড়িত সমাজের সচেতন মহল আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে তথ্য দিন, আমাদের নামে কাউকে চাঁদা না দেয় তার পরেও আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি বলে জানান৷

কিন্তু এই লোকদের বিরুদ্ধে কোন ধরণের ব্যবস্থা গ্রহণ করছেন না। রাতের আধাঁরে সীমান্তের গেলেই দেখা যায় লাইনম্যানদের কান্ড। এমনকি জৈন্তাপুর বাজারে প্রকাশ্যে বুঙ্গাড়ীদের কাছ থেকে টাকা আদায় করেন তারা।

সীমান্তের রাজা করিম তার লোকজন নিয়ে বিজিবি ও পুলিশের নামে চাঁদা অাদায় করে। যার ফলে অবাধে সীমান্ত দিয়ে রাতের আধাঁরে আসা-যাওয়া হচ্ছে বুঙ্গার মাল। নিরবে ঘুমিয়ে থাকে স্থানীয় প্রশাসন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *