• Tue. Sep 29th, 2020
Top Tags

বিদেশে কর্মরত শ্রমিকদের দেশে ফিরে আসা বড়ছেই: নতুন কর্মী পাঠানো নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটেনি

ByManaging Editor

Sep 16, 2020

রকীবুল হক: বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাস পরিস্থিতির কারণে চরম অচলাবস্থা বিরাজ করছে জনশক্তি রপ্তানি কার্যক্রমে। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা শ্রমবাজার আবার কবে চালু হবে তা নিয়ে এখনও অনিশ্চয়তায় আছেন সংশ্লিষ্টরা। একদিকে বিদেশে কর্মী যাওয়া বন্ধ, অন্যদিকে করোনার প্রভাবে কাজ হারানোসহ বিভিন্ন কারণে প্রবাসী কর্মীদের দেশে ফেরার সংখ্যা বেড়েই চলেছে।

প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, গত ১ এপ্রিল থেকে ১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে ফিরেছেন ১ লাখ ২৭ হাজার ২০৯ কর্মী। এর মধ্যে পুরুষ কর্মী ১ লাখ ১৫ হাজার ৫০৬ জন। আর নারী কর্মী ১১ হাজার ৭০৩ জন। সর্বশেষ গত এক সপ্তাহেই দেশে ফিরেছেন ১৬ হাজার ৯৬ জন। এ অবস্থায় বিদেশে কর্মরতদের চাকরি রক্ষায় কূটনৈতিক তৎপরতা বৃদ্ধি এবং দ্রুত নতুন কর্মী পাঠানো শুরু করার জন্য দেশে কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি মানার পরামর্শ দিয়েছেন জনশক্তি রপ্তানি বিশেষজ্ঞরা।

প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রবাসী কল্যাণ ডেস্কের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী মোট ২৮টি দেশ থেকে কর্মীরা দেশে ফিরেছেন। সবচেয়ে বেশি ৩৬ হাজার ৫৩৩ জন ফিরেছেন সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) থেকে। করোনার নেতিবাচক প্রভাবে কর্মস্থল বন্ধ হওয়ায় ফিরতে বাধ্য হয়েছেন বেশির ভাগ কর্মী। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আবার কাজে নেওয়ার কথা বলে দেশে ফেরত পাঠানো হচ্ছে তাদের। এরপরই সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরেছেন ২৬ হাজার ২০৪ জন। এদের মধ্যে বিভিন্ন মেয়াদে কারাভোগ করে আউট পাস এবং অনেকে কাজ হারিয়ে বা ছুটিতে দেশে ফিরেছেন। করোনায় বড় ক্ষতির মুখে পড়েছে পর্যটননির্ভর অর্থনীতির দেশ মালদ্বীপ। দেশটি থেকে ফিরেছেন ৯ হাজার ৩০২ জন। কাজ না থাকা, চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়াসহ বিভিন্ন কারণে কাতার, সিঙ্গাপুর, কুয়েত, মালয়েশিয়া, ইরাক, তুরস্ক, ইতালি ইত্যাদি দেশ থেকে কর্মীরা দেশে ফিরছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ রিক্রুটিং এজেন্সিস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (বায়রা) মহাসচিব শামীম আহমেদ চৌধুরী নোমান গতকাল সোমবার এই প্রতিবেদককে বলেন, আকামা না থাকা, ট্রেনিং শেষ হওয়া, সাজাপ্রাপ্ত হওয়া, ছুটিসহ নানা কারণে কর্মীরা দেশে ফিরছেন। অর্থাৎ বৈধ কর্মীরা তেমন একটা দেশে ফিরছেন না। তবে করোনা পরিস্থিতি যত ভালো হবে, কর্মীদের দেশে ফেরার সংখ্যাও কমবে।

তিনি বলেন, নতুন করে শ্রমিক পাঠানো শুরু করতে, শ্রমবাজার চাঙ্গা করতে হলে যত দ্রুত সম্ভব দেশের করোনা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটাতে হবে। সেক্ষেত্রে অবশ্যই কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে। এ ব্যাপারে সরকারকে আরও কঠোর হতে হবে। তা নাহলে মালয়েশিয়া, সৌদি আরবসহ বিভিন্ন দেশ আমাদের দেশের কর্মী পাঠানোর অনুমোদন দেবে না।

শ্রমবাজারের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে ব্র্যাকের অভিবাসন কর্মসূচির প্রধান শরিফুল হাসান বলেছেন, করোনার কারণে বিদেশে নতুন কর্মী যাওয়া বন্ধ হয়ে গেছে। প্রতি মাসে গড়ে ৬০ হাজার করে যদি ধরা হয়, তাহলে ৫ মাসে ৩ লাখ লোক যেতে পারেননি। এর মধ্যে প্রায় ১ লাখের পাসপোর্ট, ভিসা, ওয়ার্ক পারমিট তৈরি ছিল। আবার এই ৫ মাসে দেশে এসেছেন সোয়া লাখের বেশি কর্মী। অন্যদিকে ছুটিতে এসে আটকা পড়েছেন প্রায় ২ লাখ কর্মী। সব মিলিয়ে বলা চলে, ৫ লাখের বেশি অভিবাসী কর্মী ও তার পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তিনি বলেন, প্রতিদিন গড়ে ২ হাজার মানুষ ফিরছে। এ ধারা অব্যাহত থাকলে ডিসেম্বরের শেষ নাগাদ আরও ২ লাখের মতো মানুষ ফিরবে।

এ অবস্থায় সরকারের পদক্ষেপ কী হওয়া উচিত এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, করণীয় তিন ধরনের হতে পারে। প্রথমত, যারা টাকা দিয়েও যেতে পারেননি পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে তাদের যাওয়ার সুযোগ করতে হবে। আর যেতে না পারলে তারা যেন টাকা ফেরত পায়, সেটা নিশ্চিত করতে হবে।

দ্বিতীয়ত, বিদেশে যে ১ কোটি অভিবাসী কর্মী রয়েছেন, তারা যেন চাকরি না হারান, সে জন্য সরকারকে কূটনৈতিক উদ্যোগ নিতে হবে। তৃতীয়ত, যারা ফেরত এসেছে তাদের পুনর্বাসন ও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। তাদের দক্ষতা অনুযায়ী কাজের সুযোগ দিতে হবে।

এদিকে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, করোনাভাইরাসের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে দেশে ফেরত আসা কর্মী কিংবা কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হয়ে বিদেশে মৃত্যুবরণকারী কর্মীর পরিবারের সদস্যদের পুনর্বাসনে স্বল্প সুদে ঋণ প্রদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের মাধ্যমে ৩৫টি খাতে ১ থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ প্রদান করা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *