• Tue. Aug 11th, 2020
Top Tags

ঈদ আনন্দ কে এভাবেই কুরবানি করলেন মাদ্রাসার ছাত্র-শিক্ষক

ByManaging Editor

Aug 2, 2020

[নাযিম মাহমুদ]

ঈদ মানে আনন্দ , ঈদ মানে হাসিখুশি । কিন্তু মাদ্রাসার ছাত্র শিক্ষকদের কাছে ঈদ মানে ত্যাগ তিতিক্ষা । ০১ আগষ্ট, শনিবার ঈদুল আযহার দিন ঈদের আনন্দকে কুরবানি করে সারা দিন চামড়া সংগ্রহ করেছেন, সিলেট বিশ্বাসনাথের ঐতিহ্যবাহী দ্বিনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জামেয়া আব্বাসিয়া কৌড়িয়া মাদ্রাসার ছাত্র-শিক্ষকগন ঈদের নামাজ শেষে শিক্ষার্থীরা মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরে চামড়া সংগ্রহ করেছেন । এই চামড়া তুলেত অনেক সময়ই ঠেলা ঠেলতে হয়, ভ্যান চালাতে হয়। কখনো সমুহ চামড়া ট্রাকে তুলতে হয় । সারাদিন রক্ত মাখা শরীরে থেকে বিকালে কিম্বা রাতে ছুটি পায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা । চামড়ার টাকা, অনাথ, অসহায় ও দুস্থদের লালন পালন খাতে ব্যয় করা হয় । ঈদুল আযহা মুসলমানদের দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব । যা সমাজে কুরবানির ঈদ নামে পরিচিত । সৃষ্টিকর্তার সন্তুষ্টি অর্জনের জন্যই এই দিনে পশু কুরবানি করে মুসলমানরা । সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কিংবা কর্মস্থল থেকে ছুটি পেয়ে বাড়িতে যায় । সংখ্যালঘুর মাঝে থেকে যায় কওমির শিক্ষক শিক্ষার্থীরা । তারা এদিন পরিবার-পরিজন থেকে দূরে থেকে ঈদের আনন্দ কুরবানি দিয়ে কওমি মাদ্রাসার জন্য চামড়া সংগ্রহ করে । করোনা মহামারির কারণে মাদ্রাসা বন্ধ থাকায়, সিলেটের দরগাহ, রেঙ্গা , কাজির বাজার , ভার্তখলা মাদ্রাসার মতো আরো অনেক মাদ্রাসা চামড়া তুলেনি । কিন্তু চামড়া তুলেছে কৌড়িয়া ও হাতে গোনা কয়েকটি মাদ্রাসা । করোনার কারণে মাদ্রাসা বন্ধ, চামড়ার দাম সস্তা এধরণে অনেক মাদ্রাসাই চামড়া তুলছে না । কিন্তু আপনারা তুলছেন । এই যে, অনেক ছাত্রদের কে ভারা দিয়ে চামড়া তুলতে এনেছেন, বিভিন্ন পারিপারশিক কারণে এবার চামড়া না তুললেই কি হতো না? প্রশ্ন করেছিলাম মাদ্রাসার এক সিনিয়র শিক্ষককে। উত্তরে তিনি বলেন, আমাদের ও ইচ্ছা ছিলোনা, মুহতামিম সাহেবের কথা রক্ষার্থেই চামড়া তুলা। অন্য দিকে শিক্ষকদের তিন চার মাসের বেতন আটকে আছে । তার মানে বলতে চাচ্ছেন চাকরি টিকিয়ে রাখতে তুলতে আসা? বলতে পারেন অনেকটা এরকমই। এ ব্যাপারে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ থেকে জানা যায়। এবার চামড়ার দাম কম, এখন যদি চামড়া না তুলি, এলাকার মানুষ বলবে, দাম কম দেখে মাদ্রাসা ওয়ালারা চামড়া নিলো না , পরের বছর আর দিতে চাইবে না । আরো বলেন, তাছাড়া এলাকার সাথে সম্পর্ক রাখারও একটা ব্যাপার আছে । চামড়া উত্তোলন; কওমি শিক্ষার্থীদের জন্য আনন্দের নাকি বিষাদের? এ প্রশ্নের উত্তরে এক কওমি শিক্ষার্থী জানান, পরিবার ছাড়া ঈদ উদযাপন করা বাহ্যিক কিছু কষ্ট হলেও মাদ্রাসার জন্য সম্মিলিত অভ্যন্তরীণ একটা আনন্দ আছে । তবে বর্তমান প্রজন্মের অনেক কওমি শিক্ষার্থীরাই এ থেকে মুক্তি চায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *