• Tue. Aug 11th, 2020
Top Tags

সরকারের টার্গেট

ByManaging Editor

Jul 7, 2020

জানুয়ারী থেকে কওমি মাদরাসা

পৃথিবীতে যেকোনো দেশের সরকার তার নিজস্ব একটা টার্গেট নিয়ে চলে। আমাদের সরকারও নির্দিষ্ট কিছু টার্গেট নিয়ে এগুচ্ছে। শিক্ষা ক্ষেত্রে আমাদের সরকারের টার্গেট হলো এদেশে এক শিক্ষানীতি হবে، একই ধারার শিক্ষা চলবে, ভিন্ন কোন শিক্ষাধারা থাকবে না। আমাদের শিক্ষানীতিতে তা সুস্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে। শিক্ষানীতির ভূমিকায় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, এই শিক্ষানীতি পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে।

এই টার্গেটকেই সামনে রেখে কওমী মাদরাসার স্বীকৃতি।
এই টার্গেটকে সামনে রেখে উলামাদের সাথে সরকারের প্রেম-ভালোবাসা।
এই টার্গেটকেই সামনে রেখে হজ্ব-উমরা।
এই টার্গেটকেই সামনে রেখে ত্রাণ ও হাদিয়া-তোহফা।

২০১৩ সালে শাহবাগে দুই মাস একাধারে নাস্তিক মুরতাদদের ইসলাম বিরোধী প্রোগ্রাম সরকারের তত্বাবধানে চলছিলো, আর তার বিরোধিতা করার কারণে শাপলা চত্বরে উলামাদের উপর কারবালার ঘটনা ঘটানো হয়েছিলো। তারপর হাজার হাজার উলামাদের উপর খুন, গাছকাটা, গাড়ী ও কোরআন শরিফ পোড়ানোর মামলা-মোকদ্দমা দায়ের করা হলো। সব মুকাদ্দামা এখনো বহাল তবিয়তে সংরক্ষিত, কোন আলিমের কোন কেইস খতম করা হয়নি।

এই কেইসের বেড়ি পায়ে লাগিয়ে স্বীকৃতি, শুকরিয়া মাহফিল, হজ্ব, হাদিয়া ও ত্রাণ, সবই চলছে। এসব প্রেম-ভালোবাসা নাকি উদ্দেশ্য প্রনোদিত, তা নিয়ে কিছুক্ষণ চিন্তা করবেন কী?

যেহুতু সরকার কওমীধারাকে বিলুপ্ত করে অভিন্ন শিক্ষা চালু করতে চায়। কিন্তু আমাদের সাথে সরকারের কোন সম্পর্ক নেই। তাই কওমীধারা খতম করার দুই রাস্তা কিংবা শাপলা চত্বরের মতো চায়না বা রাশিয়ায় যেভাবে মাদরাসাগুলোকে বিলুপ্ত করা হয়েছিলো, এই এক রাস্তা। দ্বিতীয় রাস্তা, আমাদের সাথে সুসম্পর্ক করে কওমীধারাকে বিলুপ্ত করা, তাই সরকার প্রথম রাস্তা পরিহার করে দ্বিতীয় রাস্তা অবলম্বন করে। এই উদ্দেশ্যে সরকার আমাদের সাথে সুসম্পর্ক জুড়তে চায়। তাই তার ‘স্বীকৃতি’ নামক মেয়েকে আমাদের ছেলেদের সাথে বিয়ে দিয়ে আমাদের সাথে বেয়াই হওয়ার সম্পর্ক স্থাপন করে। এখন আর বেয়াই বাড়ী যাওয়া-আসা, বেয়াইকে গিফট করা, হজ্বে নেওয়া, ত্রাণ দেওয়া ইত্যাদিতে আর কোন বাঁধা থাকলো না।

সরকার কওমীধারার ট্রেনকে তার তৈরী করা সিল পাটের উপর উঠিয়ে নিয়েছে এখন ইঞ্জিন দ্বারা টেনে টেনে তার গন্তব্য স্থানে নিয়ে যাবে। আর বেয়াইদের অবস্থা, দই-রশগোল্লা খাচ্ছে আর কুলকুলী হাসছে। আহা এত ভদ্র হাতিমতাইর মতো বেয়াই পেয়েছি।

বর্তমানে আমাদের অবস্থা ওই বোয়াল মাছের মতো যে শিকারির বর্ষিতে ব্যাঙ দেখে নাচতেছে আর তেলাওয়াত করছে..
والله يرزق من يشاء بغيرحساب
তার তো এই খবর নেই যে, এই ব্যাঙ তার জন্য রিজিক নয় বরং এটা তার জীবন নাসের ব্যাবস্থা।

শপলা চত্বরে আমাদের নিরপরাধ সাথী-সঙ্গি ও ছেলেদের খুনিদের সাথে সম্পর্ক স্থাপন করা ও তাদের হাদিয়া-তোহফা গ্রহণ করা কোন মর্যাদাশীল, বিবেকবান, গায়রতমন আলিমদের জন্য মোটেই সম্ভব না।

হে মাওলায়ে কারীম আমাদের কওমী মাদরাসাগুলোকে হেফাজত করুন। হে আল্লাহ আমরা জালে আবদ্ধ হয়ে গেছি, তবে আপনি বলেছেন,
ومكروا ومكرالله والله خيرالماكرين
তাই আপনি আপনার কুদরত দ্বারা আমাদেরকে “বেয়াই ভাইরাস” এর সংক্রমণ থেকে হেফাজত করুন। আমিন।

লেখক: মাওলানা উবায়দুল্লাহ  ফারুক। 

শায়খুল হাদীস- জামিয়া মাদানিয়া বারিধারা, ঢাকা ও জামেয়া দারুল কুরআন, সিলেট। 

সহ-সভাপতি- জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ। 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *