Main Menu

গল্পে গল্পে হাদিসের আলোকে সময়ের গুরুত্ব

ইকরামুল হক জাবের:ঈদেরপর থেকে একটার পর একটা অসুস্থতায় ভুগছে ইহরাম,কারণগুলো তলিয়ে দেখতে গিয়েও কোন কিছু পাই নি সে।ডাক্তারের বর্ণানা মতে তার কোথাও প্যাচাল আছে, যা সে কিছু একটা লুকাচ্ছে।
আর রোগটি ডাক্তারের চেম্বারে সিসি ক্যামেরায় ধরা খেয়েছে।
রমযানে এক সাক্ষাতে ডাক্তার বলেছিলেন,ভাতিজা তোমার মোবাইল ইউজ বন্ধ করা দরকার,তাতে চোখের দৃষ্টিশক্তি নষ্ট হতে পারে, রাতে ঘুম হয় না তোমাকে দেখলেই বুঝা যায়,যা শারিরিক ও মানসিক অসুস্থতার কারণ।
তখন সে লা জওয়াব ছিল।
ঈদেরপর থেকে সে একটারপর একটা ঔষধ খাচ্ছে,শারিরিক কোন উন্নতি বুঝতে পারছেনা, ফোনে ডাক্তার সাহেবকে সবকিছু বলার পর, তিনি বললেন, সময় করে আগামিকাল আমার চেম্বারে চলে এসো।

পরেরদিন দুপুরবেলা
-আসসালামু আলাইকুম…ডাক্তার সাহেব কেমন আছেন?
– আলহামদুলিল্লাহ! ভালো,আসছো ভালোই হল এখানে বসো।
-একটু তাড়াতাড়ি করলে বেশ ভালো হয়।
-তোমার ট্রিটমেন্টই হচ্ছে তুমি এখানে বসো।
ইহরামও কথামতো মাথা নিচু করে মোবাইলের স্কিনে চোখ দিয়ে বসে থাকলো।
ঘণ্টাখানেকপর ডাক্তার সাহেব বললেন,
– ভাতিজা আমার ঔষধ কাজ না করার পিছনে গভীর ষড়যন্ত চলছে!
-সে হাসার চেষ্ঠা করে বলল কিভাবে?
-আমি যে তোমাকে প্রথম বলেছিলাম যে তোমার ট্রিটমেন্ট হচ্ছে,আমি চাচ্ছিলাম তুমি আমার সামনে ঘণ্টাখানেক থাকো,তাহলেই আমি তোমার রোগ বুঝতে পারবো। আর যা ধারণা করেছিলাম সেটা বাস্তব হল।
-কীভাবে বাস্তব হল?
-এই যে একঘণ্টা থেকে এই (মোবাইল)যন্ত্রটার পিছনে পড়ে আছো,ঔষধ কাজ না করার মূল কারণ এটাই। এটা লিমিট রেখে ইউজ করো,অথবা একদম ছেড়ে দাও।তাতে তোমারই মঙ্গল।
– মোবাইল! থতমত হয়ে রইলো সে।

এটা ১০০%সত্যি রাতের ঘুম, দিনের আরামকে হারাম ঘোষণা, সময় মত না খাওয়া, রুটিনের খেলাফ হয়ে ইচ্ছা স্বাধীনচলা,এগুলোর পিছনে মুবাইল নামক যন্ত্রটাই মূল কারণ।
মাদ্রাসা থাকা অবস্থায় আমরা ইচ্ছা হোক আর ইচ্ছার বিরুদ্ধে, একটা নির্দিষ্ট রুটিনে থাকি।তাই আমাদের
শারিরিক ও মানসিক সুস্থতা থাকে।

ইবনে আব্বাস হতে বর্ণিত, রাসূল সা বলেছেন- দুটি নিয়ামতের ব্যাপারে অধিকাংশ মানুষ খুব উদাসীন। তা হলো – স্বাস্থ্য এবং ভালো কাজের জন্য অবসর সময় । ( বুখারী ৮~৪২১)

রাসুলের হাদিস থেকে অনুভুতি :
১। এই হাদীস মূলত দুইটি সম্পদের প্রতি নির্দেশ করেছে- স্বাস্থ্য ও অবসর সময়।

২। ভালো কর্মের জন্য এই দুটো বিষয়েই অতি গুরুত্বপুর্ণ। ভালো স্বাস্থ্য ও পর্যাপ্ত সময় ছাড়া যেকোনো ভালো কাজ করা খুব কঠিন।

৩। আর এই দুটো নিয়ামত কিন্তু বেশীরভাগ মানুষকেই আল্লাহ দিয়ে থাকেন। কিছু কারণে আমরা এই দুটো নিয়ামত চলে যাওয়ার আগে এদের মূল্যায়ন করতে পারিনা।

৪। আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের সবোর্ত্তম পন্থা হলো এই দুটি নিয়ামতকে কল্যাণের জন্যই ব্যবহার করা। সুতরাং আমাদের অবসর সময় অবশ্যই কাজে লাগাতেই হবে। কোনোভাবেই এর অপচয়ের শাস্তি থেকে মুক্তি মিলবেনা।

আজ করোনার এই করুণ পরিস্থিতিতে আমরা হতাশ না হয়ে অবসর এই সময়টাকে জীবনের পুঁজি হিসাবে গ্রহণ করতে পারি।
আল্লাহ আমাদের সময়ের সঠিক মূল্যায়ন করার তাওফিক দান করুন। আমিন।






Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *