Main Menu

আত্মহত্যা

সুলতান আহমদ

আত্মহত্যা বর্তমান বিশ্বে একটি মারাত্বক ব্যাধির রূপ নিয়েছে। আত্মহত্যা বলা হয়, যারা নিজে নিজেকে মেরে ফেলে। অর্থাৎ নিজে নিজের আত্মাকে হত্যা করে। আর এই ব্যাধি বাংলাদেশেও অনেক দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশে প্রতিদিন ২৮জন লোক আত্মহত্যা করে। সামাজিক, অর্থনৈতিক ও মানবিক কারণে বাংলাদেশে বেড়ে যাচ্ছে আত্মহত্যার প্রবণতা। শহরের চেয়ে গ্রামে আত্মহত্যার প্রবণতা ১৭গুণ বেশি। আবার পুরুষের চেয়ে মহিলারা আত্মহত্যা করে বেশি। গ্রামে যারা আত্মহত্যা করে তাদের বেশিরভাগ অশিক্ষিত ও দরিদ্র। আত্মহত্যায় সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ ১০থেকে ১৯বছরের বয়সী মেয়েরা। বা ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে পুরুষ-নারী মিলিয়ে।
বিষণ্নতা ও মানসিক রোগ থেকে আত্মহত্যার প্রবণতা সবচেয়ে বেশি আসে বলে জানিয়েছেন মনোচিকিৎসক এবং মনোশিক্ষাবিদ ডা. মোহিত কামাল। তিনি বলেন, বাংলাদেশে প্রতি বছর এখন প্রায় ১০ হাজার মানুষের মৃত্যুর কারণ হচ্ছে আত্মহত্যা।
জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের চাইল্ড অ্যাডোলাসেন্ট অ্যান্ড ফ্যামিলি সাইকিয়াট্রির সহযোগী অধ্যাপক ডা. হেলাল উদ্দিন আহমেদ জানান; বাংলাদেশে সুনির্দিষ্ট কয়েকটি কারণে আত্মহত্যার ঘটনা ঘটে।
নারীদের মধ্যে আত্মহত্যার ঘটনা ঘটে যৌতুক ও পারিবারিক নির্যাতন, দাম্পত্য কলহে, সম্পর্কের জটিলতা (পারিবারিক/প্রেম/বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক) ইত্যাদির কারণে। উত্ত্যক্তকরণ ও প্ররোচিত করার কারণেও আত্মহত্যা হয়ে থাকে এখানে। এ ছাড়া অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভধারণ, লোকলজ্জার ভয়েও এ ঘটনা ঘটে থাকে।
এর বাইরে রয়েছে প্রেম ও পরীক্ষায় ব্যর্থতা, অর্থনৈতিক সংকট এবং আত্মহত্যার উপকরণের সহজলভ্যতা। বাংলাদেশ পুলিশ, ইউনিসেফ ও বিশ্ব স্বাস্থ্যসংস্থার বিগত কয়েক বছরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৬ সালে বাংলাদেশে আত্মহত্যায় মৃত্যুর সংখ্যা নয় হাজারের কিছু কম। ২০১৭ সালে সেই সংখ্যা ছাড়িয়ে যায় ১০ হাজার। আর সর্বশেষ ২০১৮ সালে আত্মহত্যায় মৃত্যুর সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বেড়ে ১১ হাজার ছাড়িয়েছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আত্মহত্যাকে বাংলাদেশে দণ্ডবিধিতে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। কেউ আত্মহত্যা করতে চেয়েছে এমনটি প্রমাণ করতে পারলে দণ্ডবিধির ৩০৯ নম্বর ধারায় এক বছরের কারাদণ্ড অথবা জরিমানা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হতে পারে।
হ্যা, আত্মহত্যা যে হারে বেড়েছে তাতে এমন আইনেরই প্রয়োজন। কিন্তু শুধু এমন আইন করে বসে থাকলে আত্মহত্যা বন্ধ হবেনা। আত্মহত্যা বন্ধ করতে হলে মানুষদের মাঝে আল্লাহর ভয় ঢুকাতে হবে। মানুষদের বুঝাতে হবে আত্মহত্যা মহা পাপ। আর এ সবের মূলেই রয়েছে পর্দার বিধান। সংসদে পর্দার আইন করা হোক। মানুষদেরকে বুঝানো হোক কুরআন-সুন্নাহ সম্পর্কে। অবৈধ প্রেম, ভালবাসা পাপ, এ সব বুঝানো হোক। তবেই না রক্ষা পাবে আমাদের সমাজ এমন ব্যাধি থেকে।
আল্লাহ আমাদের বুঝার তাউফিক দান করুন। আমিন।

তথ্যসূত্রঃ বাংলা নিউজ, দৈনিক নয়া দিগন্ত, বিবিসি নিউজ।

লেখক: প্রতিনিধি, সীমান্তের আহ্বান।






Related News

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *