Main Menu

চন্দ্র ও সূর্যগ্রহণ; রাসুল সাঃ এর হাদিস ও আমাদের করণীয়

লেখক : এইচ এম জিয়াউর রহমান

আবু বাকরা রা.থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,আমরা নবী সা.এর কাছে ছিলাম। ইত্যবসরে সূর্য গ্রহণ হলো। তখন তিনি দাঁড়ালেন এবং চাদর টেনে মসজিদে প্রবেশ করলেন। আমরাও প্রবেশ করলাম। অতঃপর তিনি আমাদেরকে নিয়ে দু’রাকাত নামাজ আদায় করলেন। বুখারী (জুমআ-১০৪০,১০৬২)।
আব্দুর রহমান ইবনো সামুরা রা.থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,আমি রাসুল সা.এর জীবদ্দশায় তীর নিক্ষেপ করেছিলাম। হঠাৎ সূর্যগ্রহণ হয়ে গেলো। তখন আমি তা ফেলে দিয়ে বললাম,আজ সূর্যগ্রহণের সময় রাসুল সা.কী করেন আমি অবশ্যই তা দেখবো। অতঃপর আমি তাঁর নিকট গিয়ে দেখলাম,তিনি দু’হাত তুলে দুআ করছেন,তাকবীর,তাহমীদ,তাহলীল বলছেন। অবশেষে সূর্য স্পষ্ট হয়ে গেলো। অতঃপর তিনি দু’টি সূরা পড়ে দু’রাকাআত নামাজ আদায় করলেন। মুসলিম (কুসুফ-৯১৩) নাসায়ী(১৪৬০)।
নুমান ইবনে বশীর রা.থেকে বর্ণিত, রাসূল সা.সূর্য গ্রহণেরর সময় তোমাদের ন্যায় রুকু সিজদা করে নামাজ পড়েছেন। আহমদ(৪/২৭১) নাসায়ী (কুসুফ-১৪৯২)।
কাবীসা হেলালী রা.থেকে বর্ণিত,তিনি বলেন,রাসুল সা.এী যুগে সূর্যগ্রহণ হলো।তখন রাসুল সা.ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে স্বীয় কাপড় টেনে টেনে বের হলেন। আমি তখন তাঁর সাথে মদীনায় ছিলাম। অতঃপর তিনি দু’রাকাআত নামাজ আদায় করলেন এবং নামাজে তিনি কিয়াম প্রলম্বিত করলেন। অতঃপর তিনি (নামাজ শেষ করে) ফিরলেন এবং সূর্য উদ্ভাসিত হয়ে গেলো। অতঃপর তিনি বললেন,এগুলা হলো (আল্লাহ’র) নিদর্শন। এর দ্বারা আল্লাহ (তোমাদেরকে) ভয় দেখান। অতএব যদি তোমরা তা প্রত্যক্ষ করো,তাহলে তোমরা তোমাদের ফরয নামাজের ন্যায় নামাজ আদায় করো। আবু দাউদ(সালাত-১১৮৫) নাসায়ী (কুসুফ-১৪৮৬)।
মাহমুদ ইবনে লবীদ রা.থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,রাসুল সা.এর ছেলে ইব্রাহীম যেদিন মারা গেলেন,সেদিন সূর্যগ্রহণ হলো। তখন সাহাবায়ে কেরাম বলাবলি শুরু করলেন,ইব্রাহীমের মৃত্যুর কারণে সূর্যগ্রহণ হয়েছে। (এতদশ্রবণে) রাসুল সা.বললেন,সূর্য এবং চন্দ্র আল্লাহর নিদর্শনাবলীর মধ্য হতে দু’টি নিদর্শন। সাবধান! জেনে রেখো! কারো জীবন বা মৃত্যুর কারণে এদু’টির গ্রহণ হয়না। অতএব,যখন তোমরা এগুলি অনুরুপ গ্রহণ হতে দেখবে,তখন তোমরা ভীত হয়ে মসজিদে গমন করবে। অতঃপর তিনি দাঁড়ালেন এবং আমাদের দেখামতো তিনি ‘আলিফ লাম রা’এর কিছু অংশ পাঠ করে রুকু করলেন। অতঃপর দাঁড়িয়ে প্রথম রা’কাআতের ন্যায় করলেন। আহমদ(৫/৪২৮)।
আবু কিলাবা -নুমান ইবনে বশীর রা.বা অন্য থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,রাসুল সা.এর যুগে সূর্যগ্রহণ হলো। তখন রাসুল সা.দু’রাকাআত নামাজ পড়ে সালাম ফিরিয়ে প্রার্থনা করতে লাগলেন। ফলে সূর্য উদ্ভাসিত হয়ে গেলো। অতঃপর তিনি বললেন,কিছু লোক মনে করে যে,পৃথিবীর কোন মহান ব্যক্তির মৃত্যুর কারণে সূর্য এবং চন্দ্রগ্রহণ হয়। অথচ বিষয় এরুপ নয় বরং এদু’টি হলো মহান আল্লহর নিদর্য়নাবলীর মধ্য হতে দু’টি নিদর্শন। অতএব, যখন কোন জিনিসের উপর আল্লাহর ঝলক পতিত হয় তখন সেটি আল্লাহর সামনে বিনয়ী (তথা নিশ্প্রভ) হয়ে যায়। তাহাবী(১/৩৩০)।
সূত্র: আদিল্লাতুল হানাফিয়্যাহ।

উপরে উল্লেখিত ছয়টি হাদিস থেকে একথা পরিস্ফুট হলো যে,চন্দ্র ও সূর্য এদু’টি আল্লাহ তায়ালার অন্যতম নিদর্শন। পৃথিবীর কোন মহান ব্যক্তির জন্ম বা মৃত্যুর কারণে চন্দ্র ও সূর্যগ্রহণ হয়না। বরং চন্দ্র ও সূর্যগ্রহণ দ্বারা আল্লাহ তায়ালা বান্দাদেরকে একথা স্মরণ করিয়ে দেন যে,এই পৃথিবী চিরস্থায়ী নয়। আল্লাহ তায়ালাই একমাত্র ক্ষমতাশীল। আমাদের সমাজে চন্দ্র ও সূর্যগ্রহণকে কেন্দ্রকরে অনেক কুসংস্কার পরিলক্ষিত হয়,যা অত্যন্ত নির্বুদ্ধিতার পরিচায়ক। হাদিসগুলোর দিকে লক্ষ্য করলে দেখা যায়__রাসুল সা.চন্দ্র ও সূর্যগ্রহণের সময় ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে আল্লাহর দরবারে হাত তুলে দু’আ করেছেন,তাকবীর ,আল্লাহর প্রশংসা,তাসবীহ পাঠ করেছেন। চন্দ্র ও সূর্যগ্রহণ নিয়ে সাহাবায়ে কেরামদের ( রা.) মনে জাগ্রত হওয়া সকল প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন। এবং শেষ যুগের অর্থাৎ আমাদের জন্যও মহামূল্যবান নসিহত রেখে গেছেন। অতএব,চন্দ্র ও সূর্যগ্রহণের সময় আমাদের জন্য রাসুল সা.এর হাদীস মোতাবেক আমল করা আবশ্যকীয়। আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে তাওফিক এনায়েত ফরমান। আমিন।
মাসআলা: সূর্য়গ্রহণের নামাজে চুপিসারে কিরাআত পড়া।






Related News

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *