Main Menu

আল্লাহর সাথে সম্পর্কযুক্ত সব কাজই ইবাদত

সম্পাদকীয়

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ’লা পবিত্র কুরানে ইরশাদ করেন, “আমি জিন এবং মানুষকে সৃষ্টি করেছি স্রেফ আমার ইবাদতের জন্যে। তাদের কাছে আমি রিযিজ চাই না; আর এটাও চাই না যে, তারা আমাকে খাওয়াবে। আল্লাহই তো রিযিকদাতা, ক্ষমতাশালী, মহাশক্তিমান।”
(সূরা যারিয়াত ৫১ : ৫৬-৫৮)

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ’লা মানুষ সৃষ্টির লক্ষ্যকে ইবাদতকরণ উদ্দেশ্যের মাঝে সীমিত করে দিয়েছেন। আল্লাহ মানুষের করণীয় ও দায়িত্বকে ইবাদতের মাঝে সীমাবদ্ধ করে দিয়েছেন। আর এ আয়াতটি প্রতিনিয়ত ঘোষণা করছে, মানুষকে সৃষ্টি করা হয়েছে পৃথিবী বিনির্মাণের জন্যে এবং একে সংশোধন ও পরিশোধন করার জন্যে। আর মানুষই পৃথিবীতে প্রতিনিধি হওয়া এবং এর প্রতিনিধিত্ব করার বেশী উপযুক্ত। সুতরাং বোঝা গেল, পৃথিবীতে প্রতিনিধিত্ব করা, পৃথিবী-বিনির্মাণ করা এবং এর সংশোধন ও পরিচর্যা করাও ইবাদতের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। ইবাদত রয়েছে জীবনের প্রতিটি অংশে অংশে, পর্বে পর্বে। সালাত একটি ইবাদত, আত্মীয়-স্বজনের সাথে দেখা সাক্ষাৎ করা একটি ইবাদত, নিষিদ্ধ বস্তু থেকে দৃষ্টি নত রাখা ইবাদত, আবার সালিশ-বিচারে ইনসাফ বজায় রাখাও ইবাদত, নারীদের জন্য লম্বা মুখাবরণ ব্যবহার করা ইবাদত, কেনা-বেচায় সততা বজায় রাখা ইবাদত এবং ইবাদত আল্লাহর পথে লড়াই করা।
খানাপিনাও ইবাদত, স্বামী-স্ত্রীর মাঝে আদর-সোহাগ, আবেগ-আহ্লাদ, প্রেম-ভালোবাসাও ইবাদত। এমনকি প্রতিটি বোল-বাক্য, উচ্চারণ, নড়াচড়া, ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া, আবেগ-অনুভূতি, ভয়-শঙ্খা সবই ইবাদত; বরং প্রতিটি ভালো ও উত্তম নিয়াতই ইবাদত। আল্লাহর জন্য কারো সাথে বিদ্ধেষ রাখাও ইবাদত। তবে এ সবকিছুর জন্য শর্ত একটিই– সব কাজকর্মই আল্লাহর সাথে সম্পর্কযুক্ত হতে হবে। এমনভাবে করতে হবে, যেন সবকাজ আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ’লার দিকে ফেরে, মহান রবের জন্যই একনিষ্ঠ হয়। কেননা, ইসলামি আকিদাহয় আমলের মূল্য ও গ্রহণযোগ্যতা নির্ণয় হয় বিশ্বাসের প্রভাব থেকে, আমলের ফলাফল থেকে নয়; আমলের ফলাফল তো আল্লাহর হাতে।

মানুষের প্রতিদান আমলের ফলাফলের উপর নির্ভরশীল নয়, বরং প্রতিদান নির্ভরশীল ব্যক্তির আমলে ইখলাস ও নিয়তের বিশুদ্ধতার উপর৷
তাই এ কারণে ইসলামে আকিদাহ যেকোনো ভালো উদ্দেশ্যেও ব্যাপকভাবে অবৈধ মাধ্যমগুলোকে ব্যবহার করার বৈধতা নেই৷ তাই কোনো মুসলিমের জন্য শোভনীয় নয় এবং বৈধও নয় যে, সে মহৎ কোনো লক্ষ্য-উদ্দেশ্যকে অবৈধ ও অনৈতিক কোনো পন্থায় অর্জন করবে। তাই তো কোনো সার্টিফিকেট বা ডিগ্রি অর্জনের জন্য পরীক্ষায় নকল করা কারও জন্যে বৈধ নয়, যদিও সে মনে করে এর মাধ্যমে সে ইসলামেরই সেবা করবে। কোনো কাফিরের মাল-সম্পদ চুরি করে কোনো মুসলিমকে দাম-সাদাকাহ করাও বিধিসম্মত নয়।






Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *