Main Menu

রমযানের গুরুত্বপূর্ণ মাসআলা (পর্ব-২৫)

[মুফতি আমিনুর রশিদ গোয়াইনঘাটী]

ঈদের নামাযের আরো কিছু মাসআলা : (ক) যদি কেউ ইমাম সাহেবকে ঈদের জামাতের দ্বিতীয় রাকাতের রুকুতে পায়,তাহলে দ্বিতীয় রাকাতের অতিরিক্ত তিন তাকবীর বলেও যদি ইমামকে রুকুতে পাওয়ার প্রবল ধারণা থাকে, তাহলে দাঁড়ানো অবস্হায় তিন তাকবীর বলে রুকুতে চলে যাবে।
আর যদি তাকবীর বলতে গেলে রুকু হারানোর প্রবল ধারণা হয়, তাহলে নিয়্যাত বেঁধেই রুকুতে শরীক হয়ে যাবে এবং সাথে সাথে তিন তাকবীর ( রুকুতে হাত না ওঠিয়ে) বলে নিবে। অত:পর সময় পেলে রুকুর তাসবীহ পড়বে। নতুবা পড়বে না। ( রুকুতে তিন তাকবীর পূর্ণ করার আগে ইমাম সাহেব রুকু থেকে ওঠে গেলে বাকি তাকবীর মাফ হয়ে যাবে।)। ( ফাতাওয়া শামী-১/৭৮১,ফাতাওয়া হিন্দিয়া- ১/১৫১)।

(খ) যদি কেউ দ্বিতীয় রাকাতের রুকু থেকে ওঠার পর ইমামের সাথে শরীক হয়, তাহলে ইমাম সালাম ফিরানোর পর মাসবুক দাঁড়িয়ে সানা, অতিরিক্ত তিন তাকবীর, অাউযুবিল্লাহ, বিসমিল্লাহ সুরা, ক্বিরাত ইত্যাদি পড়ে যথারীতি ( অর্থাৎ -ঈদের নামাযের সাধারণ নিয়মেই) উভয় রাকাত শেষ করবে।(ফাতাওয়া হিন্দিয়্যা -১/১৫১)।

(গ) যদি ইমাম সাহেব দাঁড়ানো অবস্হায় তাকবীর বলতে ভুলে যান এবং রুকুতে যাওয়ার পরে মনে হয়, তাহলে ইমাম রুকু অবস্হায় (হাত না ওঠিয়ে) তাকবীর বলে নিবেন। রুকু ছেড়ে তাকবীরের জন্যে দাঁড়বেন না। যদি দাঁড়িয়ে যান,তাহলে এক বর্ণনা মতে নামায ফাসেদ হয়ে যাবে, তবে নির্ভরযোগ্য মতানুযায়ী নামায ফাসেদ হবে না। কিন্তু এ অবস্হায় দ্বিতীয় বার রুকু করা যাবে না। রুকু করলে নামায পুনরায় পড়তে হবে। ( আহসানুল ফাতাওয়া -৪/১২৬)।
কিন্তু অাবার রুকু দিলেও নামায সহীহ হয়ে যাবে বলে এক জামাত ফুক্বাহায়ে কেরাম মতামত পেশ করেছেন। (বেহেশতী যেওর-২/২০৮)।
এ ব্যাপারে যেহেতু ফুক্বাহায়ে কেরামের মাঝে মতভেদ রয়েছে, তাই এ অবস্হা পরিহার করে চলাই ভাল। ( অর্থাৎ রুকু থেকে না দাঁড়িয়ে রুকু অবস্হায় তাকবীর আদায় করে নিবে)
আল্লাহ তা’লা আমাদেরকে সঠিকভাবে মাসআলা বোঝে অামল করার তাওফীক দান করুন। আ-মীন।।

লেখক: মুফতি, মুহাদ্দিস, খতিব ও কলামিস্ট। 






Related News

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *