Main Menu

রমযানের গুরুত্বপূর্ণ মাসআলা (পর্ব-২৪)

[মুফতি আমিনুর রশিদ গোয়াইনঘাটী]

(ক) ঈদের নামাযের মাসআলা : ঈদের নামাযের জন্যে জামাত শর্ত । সুতরাং ঈদের নামায জামাত ছাড়া একাকী পড়লে দুরুস্ত হবে না। তবে যদি কোন কারণে জামাত ছুটে যায় অথবা অনেকের নামায ফাসেদ হয়ে যায়, তাহলে তারা ( পূর্ববর্তী ইমাম ও মুকতাদী ছাড়া) অন্য কাউকে ইমাম বানিয়ে জামাতে নামায পড়তে পারবে। তবে ঈদগায়( বা মাসজিদে) এক জামাত হয়ে গেলে দ্বিতীয় জামাত পড়া মাকরুহ। অন্য কোন জায়াগায় দ্বিতীয় জামাতের ব্যবস্হা করতে হবে।(ফাতাওয়া শামী, আহসানুল ফাতাওয়া ৪/১৩৫, বেহেশতী যেওর-২/২০৭)।
উল্লেখ্য, জামাত পড়ার মত কাউকে না পেলে, শুধু আল্লাহর নিকট তাওবা -ইস্তেগফার করবে। ঈদের নামাযের কোন কাযা বা কাফ্ফারা নেই। (আপকে মাসায়েল -২/৪১৮)।

(খ) কোন ওযরবশত: ঈদুল ফিতরের দিনে ( ১ লা শাওয়াল দ্বিপ্রহরের পূর্বে) নামায পড়তে না পারলে পরের দিনেও পড়তে পারবে, তারপর আর পড়া যাবে না। তবে ঈদুল আযহার নামায ১০ যিলহাজ্জে না পড়তে পারলে ১১ অথবা ১২ তারিখ পর্যন্ত পড়া যাবে। কিন্তুু বিনা ওযরে ১লা শাওয়াল ঈদুল ফিতরের নামায না পড়ে থাকলে ২ রা শাওয়াল পড়া যাবে না।( কবীরী, বেহেশতী যেওর-২/২০৭)।

(গ) যদি কেউ ঈদের জামাতের প্রথম রাকাতে ইমামের অতিরিক্ত তিন তাকবীর বলার পরে নামাযে এসে শরীক হয়, তাহলে ইমাম রুকুতে না গিয়ে থাকলে ‘মাসবুক’ (যে এসে পরে শরীক হল) নিয়ত বেঁধে একাই তিন তাকবীর বলে নিবে।(শামী,আপকে মাসায়েল -২/৪১৬)

(ঘ) আর যদি ইমাম সাহেব রুকুতে চলে যান,তাহলে – যদি অতিরিক্ত তিন তাকবীর বলে ইমাম সাহেবকে রুকুতে পাওয়ার প্রবল ধারণা থাকে, তাহলে নিয়তের পরে দাঁড়ানো অবস্হায়ই তিন তাকবীর বলে রুকুতে চলে যাবে। আর যদি তাকবীর বলতে গেলে রুকু হারানোর প্রবল ধারণা হয়, তাহলে দাড়িয়ে নিয়ত বেঁধেই রুকুতে শরীক হয়ে যাবে এবং সাথে সাথে তিন তাকবীর বলে নিবে। এসময় তাকবীরের জন্যে কানে হাত ওঠানো লাগবে না। (তাকবীর পূর্ণ করার আগে ইমাম রুকু থেকে ওঠে গেলে বাকি তাকবীর তার যিম্মা থেকে রহিত হয়ে যাবে, আর তাকবীর বলা লাগবে না।) অত:পর সময় পেলে রুকুর তাসবীহ পড়বে। নতুবা পড়বে না। (ফাতাওয়া শামী-১/৭৮১, আহসানুল ফাতাওয়া -৪/১৫৩, আপকে মাসায়েল -২/৪১৬)।

(ঙ) যদি ইমাম সাহেব রুকু থেকে ওঠে যান, তবে ‘মাসবুক’ যথারীতি ইমামের সাথে শরীক হয়ে দ্বিতীয় রাকাত পড়বে এবং ইমাম সালাম ফিরালে ছুটে যাওয়া রাকাতের জন্যে দাঁড়াবে। প্রথমে সানা পড়ে (ছুটে যাওয়া অতিরিক্ত তিন তাকবীর এখানে না বলে ) আউযুবিল্লাহ, বিসমিল্লাহ পড়ে সুরা ফাতেহা ও অন্য সুরা মিলিয়ে নিবে। অত:পর (রুকুতে যাবার আগে) অতিরিক্ত তিন তাকবীর বলবে। তারপর রুকু করে যথারীতি নামায শেষ করবে।( ফাতাওয়া শামী -১/৭৮১, আহসানুল ফাতাওয়া -৪/১৫৩,আপকে মাসায়েল -২/৪১৬)।
আল্লাহ তা’লা আমাদেরকে সঠিকভাবে মাসআলা বোঝে আমল করার তাওফীক দান করুন। আ-মীন।।

লেখক: মুফতি, মুহাদ্দিস, খতিব ও কলামিস্ট। 






Related News

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *