Main Menu

ঈদের রজনী মাওলার নৈকট্যলাভের মহাসুযোগ

[সাইদুজ্জামান আল হায়দার]

দুই শ্রেষ্ঠ মাসে ঈদ আমাদের মাঝে আনন্দের ম্যসেজ যেমন নিয়ে আসে, তেমনি নিয়ে আসে আল্লাহর নৈকট্যলাভের মহাসুযোগ। বিশেষত ঈদের রাত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং ফজিলতমণ্ডিত।
তাই ঈদের রাতে জেগে থাকা এবং ইবাদত করার গুরুত্ব, মাহাত্ম্য এবং ফজিলত বহু হাদিসে বর্ণিত হয়েছে। সে সব হাদিসের আলোকেই এখানে উল্লেখ করা হলো ঈদের রাতে ইবাদতের গুরুত্ব ও ফজিলত।
হজরত আবু উমামা (রা.) হতে বর্ণিত, নবী করিম (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি দুই ঈদের রাত জাগবে শুধু আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য। যে দিন (হাশরের দিন) সবার অন্তর মারা যাবে, সেদিন তার অন্তর মরবে না।
হজরত মুআজ ইবনে জাবাল (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি পাঁচ রাত জেগে থাকবে তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব। সেই পাঁচটি রাত হলো-
এক. জিলহজ মাসের আট তারিখের রাত।
দুই. জিলহজের ৯ তারিখের রাত।
তিন. ঈদুল আজহার রাত।
চার. ঈদুল ফিতরের রাত।
পাঁচ. ১৫ শাবানের রাত।
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এমন পাঁচটি রাত আছে, যে রাতে কোনো দোয়া ফিরিয়ে দেওয়া হয় না। রাতগুলো হলো-
এক. জুমার রাত।
দুই. রজব মাসের প্রথম রাত।
তিন. শাবান মাসের ১৫ তারিখের রাত।
চার. ঈদুল ফিতরের রাত।
পাঁচ. ঈদুল আজহার রাত।
বর্ণিত হাদিসগুলোয় ঈদের রাত অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ রাতগুলোর অন্যতম। উপরে বর্ণিত হাদিসগুলো ছাড়াও আরও অসংখ্য হাদিসে ঈদের রাতে ইবাদতের গুরুত্ব ও ফজিলত বর্ণনা করা হয়েছে। বলা হয়েছে, যে দিন মানুষের অন্তর মারা যাবে, সেদিন ঈদের রাতের ইবাদতকারীর অন্তর মরবে না। হাদিসের মর্মার্থ তো এই, কেয়ামতে ভয়াবহ তাণ্ডবের সময় প্রতিটি মানুষের অন্তর যখন হাশরের ময়দানে ভয় আশঙ্কা অস্থিরতায় মৃতপ্রায় হয়ে থাকবে। মানুষের হুশ-জ্ঞান বলতে থাকবে না কিছু। ঈদের রাতে আমলকারীর হৃদয় তখনও সজীব ও সতেজ থাকবে। সেদিন তার অন্তর মারা পড়বে না। বরং থাকবে সদা প্রফুল্ল।
ঈদের রাতের আরেকটি বড় প্রাপ্তি হলো, এ রাতে দোয়া কবুল করা হয়। কোনো দোয়া ফিরিয়ে দেওয়া হয় না। বরং আল্লাহ তায়ালার দরবারে তা সরাসরি কবুল হয়। তাই আমরা আমাদের ইবাদতের সঙ্গে সঙ্গে ঈদের রাতে আল্লাহ তায়ালার কাছে আমাদের প্রয়োজনগুলো চাইতে পারি। আল্লাহ তায়ালার কাছে ক্ষমা কামনা, কবরের আজাব থেকে মুক্তি, জাহান্নামের আগুন থেকে রেহাই চেয়ে নিয়ে পরদিন সকালে একেবারে নিষ্পাপ মাসুম শিশুর মতো পবিত্র ঈদের মাঠে আল্লাহর পুরস্কার গ্রহণ এবং প্রতিদান লাভের শ্রেষ্ঠ সুযোগ অন্য কোনো রাতে আছে কি?
সুতরাং ঈদের রাত আমাদের জন্য, এই দুনিয়ারপ যাবতীয় কল্যাণ লাভ এবং মঙ্গল কামনা করার রাত। সেই সঙ্গে এই রাতে জাহান্নাম থেকে মুক্তি লাভের মহাসুযোগ প্রাপ্তির রাত।বিশেষ করে ইতেকাফ রত ব্যক্তি গণের সকাশে দরখাস্ত করছি শাওয়ালের চাঁদ দেখার সঙ্গে সঙ্গে আপনারা আপন নীড়ে ফেরার পথে ব্যস্ত হয়ে হিরো হওয়ার সুযোগটি হারাবেন না।বরং শবে কদরের ন্যায় পুরো আগ্রহী হয়ে মসজিদে রাত্রি জাগরণ করে ইবাদত করতে থাকুন। ওয়াফ্ ফাক্কাকুমুল্লাহু তায়ালা ফিদ্দুনইয়া।আমীন,ছুম্মা আমীন।

লেখক- মুহাদ্দিস,রাজনীতিবিদ,গবেষক ও কলামিস্ট।






Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *