Main Menu

স্তব্ধ এই সময়ে একজন সাহসী যোদ্ধা স্বাস্থ্যকর্মী জে.আর.অসীম

আবু তালহা তোফায়েল :: দেশের প্রয়োজনে যুদ্ধ করার ইতিহাস অনেক জাতির আছে যুগে যুগে। আর এই ইতিহাসের বড় একটি অধ্যায় বাঙালির মুক্তিসংগ্রাম। ’৭১-এর যুদ্ধে ছাত্র থেকে শিক্ষক, দিনমজুর থেকে কৃষক যারা নেমেছিলেন, নির্দিষ্ট ট্রেনিং শেষে অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করে দেশকে স্বাধীন করেছেন। ৩০ লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে আমরা এখন স্বাধীন। এই স্বাধীন বাংলাদেশসহ সারাবিশ্বে বর্তমান সময়ে আতঙ্কের নাম করোনাভাইরাস। সারা দেশ আতঙ্কিত এই ভাইরাস নিয়ে। হাট-ঘাট-মাঠ সবই শূন্য। সবাই নিজের নিরাপত্তার জন্য বাড়িতে থাকাটাই নিশ্চিত করছেন। কোথাও কেউ নেই। মন্দির, মসজিদ, গির্জা, প্যাগোডা- সব খাঁ খাঁ করছে।

সব যখন বন্ধ, ঠিক তখন কিছু বীর যোদ্ধা আছে, তারা লড়ে যায়। জীবনটা বাজি রেখে এগিয়ে চলে, তার নিজের জীবন ঝুঁকিতে ফেলে মানুষকে বাঁচাতে এগিয়ে আসে। নিজের জীবনের দিকে একবারও ফিরে তাকায় না। তারা বাঁচে কেবল মানুষকে সেবা দেয়ার জন্য। তাদের জীবনের স্বাদ টাকা-পয়সা, গাড়ি-বাড়ি কিংবা সুন্দরী বউ নয়, তাদের জীবনের স্বাদ অনুভব করে মানুষকে সেবা দিতে পারলে; এটাই যেনো তাদের জীবনের প্রকৃত স্বাদ।

বলছিলাম একজন সাহসী যোদ্ধা, দেশ ও জাতির কল্যাণে নিবেদিত এক সতেজ প্রাণ, করোনাকালীন এই স্তব্ধ সময়ে লড়ে যাওয়া এক বীর, কঠিন সময়ে চ্যালেঞ্জ হাতে নিয়ে মাঠে নেমে নিঃস্বার্থভাবে মানুষের সেবা দিয়ে চলা এক সাহসী বীরের নাম জে.আর. অসীম এর কথা।

তিনি পেশায় একজন স্বাস্থ্যকর্মী। বর্তমানে তিনি বানিয়াচং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কমিউনিটি হেল্পকেয়ার প্রোপাইডার পদে আছেন।
তার গ্রামের বাড়ি হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং উপজেলার ৭নং বড়ইউড়ি ইউনিয়নের কালাইনজুরা গ্রামের মৌল্লাবাড়ি।

তিনি জানান যে, দেশে করোনাভাইরাসের আগমনের শুরুতে উপজেলায় এক সাধারণ সভায় ঘোষণা দেওয়া হয় যে, এই ক্রান্তিলগ্নে কারা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মানুষের সেবা দিতে পারবেন? তখন জে.আর অসীম ও তার সহযোদ্ধা আরেকজন স্বাস্থ্যকর্মী সেচ্ছায় মানুষের সেবা দিতে রাজি হন। সবাই বাড়িতে নিরাপত্তায় থাকলেও জে আর অসীম ও তার সহযোদ্ধা বন্ধু দিনের শুরুতে বেরিয়ে পড়েন। দেশ ও দশের সেবায় দিন গড়িয়ে দুপুরের উত্তপ্ত রোদ আসে, দুপুরের বেলা কখন যে ফুড়িয়ে সন্ধ্যা বয়ে আসে, তার কোনো খোঁজ নেই। এভাবেই করোনা আগমনের শুরু থেকেই এ যাবৎ পর্যন্ত নিঃস্বার্থভাবে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন তিনি ও তার সহযোদ্ধা বন্ধু। মোটর বাইকে করে হবিগঞ্জের বৃহৎ এক উপজেলা গোটা বানিয়াচং চষে বেড়াচ্ছেন। মানুষের বাড়িয়ে বাড়িয়ে গিয়ে করোনা টেস্ট করে যাচ্ছেন। এপর্যন্ত তিনি গোটা বানিয়াচংয়ের ৫০৫ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ১০ জনের করোনা পজেটিভ আসছে। তন্মধ্যে ০৪ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরছেন। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতেও কাজ করে যাচ্ছেন। বানিয়াচং উপজেলার এসিল্যান্ডেরও করোনা পজেটিভ আসছিলো। এখন তিনি প্রায় পুরোপুরি সুস্থ হওয়ার পথে।
এদিকে তাদের কর্মস্থল অর্থাৎ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একজন নার্স সেবা দিতে গিয়ে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। তাই ৩দিনের জন্য স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স লকডাউন করা হয়েছে।
শেষ পর্যন্ত তাদের সহকর্মী একজন নার্স করোনা আক্রান্ত হয়েছেন, তবুও তাদের পথচলা থেমে নেই।

জে.আর.অসীম বলেন- মাত্র ৫০৫ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে, এখনো গোটা উপজেলা বাকী রয়েছে। আমার পেশা আমাকে বসা থাকতে শিখায়নি। তিন দিন কেটে গেলে আবারও বেরিয়ে পড়ব। যতক্ষণ না উপজেলার প্রত্যেকটি মানুষের নমুনা পরীক্ষা করা হবে, ততক্ষণ আমি আর আমার সহযোদ্ধা বন্ধু মাঠে সরব আছি। সবাই সবার জন্য হৃদয়ের মণিকোঠা থেকে দোয়া করবেন। আল্লাহ এই মহামারী করোনাভাইরাস থেকে যেনো সবাইকে হেফাজত রাখেন। আ-মিন।।

সত্যি এমন স্বাস্থ্যকর্মীর প্রতি শত শ্রদ্ধায় মাতা নত করে দিতে ইচ্ছে হয়। এমন বীরদের প্রতি সহস্র শ্রদ্ধা রইলো, এমন একজন জে.আর.অসীম ও তার সহযোদ্ধা বন্ধুর প্রতি অগণিত শ্রদ্ধা, একবুক ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা নিবেদন করছি।






Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *