Main Menu

রমযানের গুরুত্বপূর্ণ মাসআলা (পর্ব-২১)

[মুফতি আমিনুর রশিদ গোয়াইনঘাটী]

ফিতরা সংক্রান্ত আরো কিছু মাসআলা : (ক) যদি কেউ ঋণগ্রস্ত হয়, দেখা যায় যে, সমস্ত সম্পদ বিক্রি করলেও তার ঋণ পরিশোধ হবে না, তাহলে তার ওপর ফিতরা ওয়াজিব হবে না। এমন ব্যক্তিকে ফিতরা দেয়াও জায়েয আছে। অার যদি ঋণ পরিশোধের পরে নেসাবের মালিক ( অর্থাৎ জীবিকা নির্বাহের প্রয়োজনীয় উপকরণের অতিরিক্ত সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপা কিংবা সমমূল্যের মালিক) থাকে, তাহলে ফিতরা ওয়াজিব হবে, নতুবা হবে না। ( ফাতাওয়া শামীয়্যাহ -২/ ৮১, অাহসানুল ফাতাওয়া -৪/২৬১, আপকে মাসায়েল -৩/৩৯৯, বেহেশতী যেওর -৩/২৭৪) ।

(খ) মাদ্রাসা শিক্ষক, মাসজিদের ইমাম, মুয়াজ্বিন বা তারাবীর ইমাম গরীব হলে তাদেরকেও ফিতরা দেয়া দুরুস্ত আছে। তবে এ পরিমাণ দেয়া যাবে না যে,তাদের ওপর যাকাত বা ফিতরা ওয়াজিব হয়ে যায়। কিন্তু তাদের বেতন স্বরূপ ফিতরা দেয়া যাবে না। বেতন স্বরূপ ফিতরা ( যাকাত) দিলে তা আদায় হবে না। ফিতরা – যাকাতের টাকা মাদ্রাসা -মাসজিদে লাগানো বৈধ নয়। ( ফাতাওয়া আলমগিরীয়্যাহ-১/৯৭, আহসানুল ফাতাওয়া ৪/২৬২, আপকে মাসায়েল -৩/৪০২, জাদীদ ফেক্বহী মাসায়েল -১/১৫১, বেহেশতী যেওর -৩/২৭৬)।

(গ) যদি কোন ব্যক্তি দু’টো বাড়ির মালিক হয়, এক বাড়িতে সে নিজে সন্তানাদি নিয়ে বসবাস করে, অপরটি খালি পড়ে থাকে অথবা ভাড়া দেয়া হয়ে থাকে, তাহলে ২য় বাড়িটি অতিরিক্ত বলে গণ্য হবে। কাজেই দেখতে হবে – বাড়িটির মূল্য সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপার মূল্যের সমান বা তার চেয়ে বেশি হয় কি-না। যদি সমান বা বেশি হয়, তাহলে তার ওপর ফিতরা দেয়া ওয়াজিব। এমন ব্যক্তিকে যাকাত দেয়াও জায়েয না। কিন্তু যদি বাড়ির ভাড়ার ওপরই তার জীবিকা নির্বাহ নির্ভর করে, তাহলে বাড়িটিকে অতিরিক্ত বলা যাবে না এবং তার ওপর সাদকায়ে ফিতরও ওয়াজিব হবে না। এমন ব্যক্তি ফিতরা গ্রহণ করতে পারবে এবং তাকে ফিতরা দেয়াও জায়েয আছে। (বেহেশতী যেওর -৩/২৭৪) ।
আল্লাহ তা’লা আমাদেরকে সঠিকভাবে মাসআলা বোঝে আমল করার তাওফীক দান করুন। আ-মীন।।

লেখক: মুফতি, মুহাদ্দিস, খতিব ও কলামিস্ট। 






Related News

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *