Main Menu

রমযানের গুরুত্বপূর্ণ মাসআলা (পর্ব-১৯)

[মুফতি আমিনুর রশিদ গোয়াইনঘাটী]

‘সাদকায়ে ফিতরের মাসায়েল’
সাদকায়ে ফিতর কার ওপর ওয়াজিব: (ক) যে ব্যক্তি ঈদের দিন সুবহে সাদিকের সময় জীবিকা নির্বাহের অত্যাবশ্যিক উপকরণ যেমন-প্রয়োজনীয় কাপড়-চোপড়, শোয়ার ঘর এবং খাদ্যদ্রব্য ইত্যাদি ব্যতীত সাড়ে সাত তোলা সোনা অথবা সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপা অথবা এর সমপরিমাণ মুল্যের অন্য কোন মালের মালিক থাকবে, ( চাই মাল ব্যবসার হোক বা না হোক, বছর অতিবাহিত হোক, বা না হোক) তার ওপর ফিতরা দেয়া ওয়াজিব। (ফাতাওয়া হিন্দিয়্যা-১/১৯১, আহসানুল ফাতাওয়া -৪/৩৮৩, আপকে মাসায়েল -৩/৪১৫, বেহেশতী যেওর-৩/২৭৪)

(খ) ফিতরার পরিমাণ: সাদকায়ে ফিতর প্রত্যেক প্রকার শস্য বা তার মুল্য দিয়ে দেয়া জায়েয আছে।যদি কেউ গম বা গমের আটা বা ছাতু দিয়ে দেয়, তাহলে প্রত্যেক ফিতরা বাবত ১ কেজি ৬,৫০ গ্রাম (সাবধানতা বশত: একটু বাড়িয়ে দেয়া উত্তম, কম দিলে হবে না ) করে দিতে হবে। আর খেজুর, কিসমিস,যব (ভুট্টা জাতীয় শস্য বিশেষ) ইত্যাদি দ্বারা দিলে ৩ কেজি ৩০০ গ্রাম করে দিতে হবে। যদি কেউ গম,আটা, খেজুর, কিসমিস ইত্যাদি ছাড়া অন্য কোন শস্য দ্বারা( যেমন – ধান,চাল, ডাল ইত্যাদি) দিতে চায়, তাহলে ১ কেজি ৬৫০ গ্রাম গমের মূল্যে অথবা ৩ কেজি ৩০০ গ্রাম যবের মূল্যে যে পরিমাণ শস্য পাওয়া যায়, সে পরিমাণ দিতে হবে। আর টাকা দিয়ে দিতে হলে ১ কেজি ৬৫০ গ্রাম গমের মূল্যে অথবা ৩ কেজি ৩০০ গ্রাম যবের মূল্যে যত টাকা আসে তত টাকাই দিতে হবে।
চাউলকে গম বা আটার ওপর কিয়াস করে গম বা আটার সমপরিমাণ চাউল দিলে শুদ্ধ হবে না।( ফাতওয়া হিন্দিয়্যা -১/১৯১, বেহেশতী যেওর-৩/২৭৫, জাদীদ ফেক্বহী মাসায়েল -১/১৫৬)।

(গ) ফিতরা কাকে দেয়া যাবে আর কাকে দেয়া যাবে না : গরীব অাত্মীয় – স্বজন, পাড়া -প্রতিবেশী এবং পার্শবর্তী গরীব লোকদেরকে ফিতরা দেয়া যাবে বরং উত্তম। গরীব তালেবে ইলমকে দেয়া বেশ ভাল। সাইয়েদ, মালদার, মালদারের নাবালক সন্তানকে ফিতরা দেয়া বৈধ নয়। স্বামী, স্ত্রীকে এবং স্ত্রী, স্বামীকে ফিতরা দিতে পারবে না। এমনিভাবে অাপন পিতা- মাতা, দাদা- দাদী, নানা – নানী, আপন ছেলেমেয়ে, নাতি – নাতনী – এদেরকে ফিতরা দেয়া বৈধ নয়। অবশ্য এরা গরীব হলে হাদিয়া- তোহফা বা সাধারণ দান- খয়রাত করে সাহায্য করতে হবে ।(যাদেরকে যাকাত দেয়া যায়,তাদেরকে ফিতরা দেয়াও যায়) ( অাহসানুল ফাতাওয়া -৪/২৭৪, বেহেশতী যেওর- ৩/ ২৭৬, অাপকে মাসায়েল -৩/৪১২) ।
উল্লেখ্য, সাদকায়ে ফিতর অাদায়ের ক্ষেত্রে নিজ নিজ এলাকার মূল্য ধর্তব্য হবে। যারা গ্রামে বাস করে, তাদের জন্যে ওই এলাকার গমের দাম প্রযোজ্য। পক্ষান্তরে যারা শহরে বাস করে, তাদের জন্যে শহরের দাম প্রযোজ্য। ( মাহে রমজানুল মুবারক – ৯৫)।
আল্লাহ তা’লা আমাদেরকে সঠিকভাবে মাসআলা বোঝে অামল করার তাওফীক দান করুন। আ-মীন।।

লেখক: মুফতি, মুহাদ্দিস, খতিব ও কলামিস্ট। 






Related News

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *