Main Menu

রমযানের গুরুত্বপূর্ণ মাসআলা (পর্ব-১৮)

[মুফতি আমিনুর রশিদ গোয়াইনঘাটী]

এ’তেকাফ সংক্রান্ত আরো কিছু মাসআলা : (ক) এ’তেকাফকারী মানবিক প্রয়োজন এবং শরীয়ত সম্মত প্রয়োজন ছাড়া মাসজিদ থেকে এবং মহিলাগণ তাদের নির্দিষ্ট জায়গা থেকে সামান্য সময়ের জন্যেও বের হতে পারবেন না। বের হলে এ’তেকাফ ভঙ্গ হয়ে যাবে। পরে তার কাযা করতে হবে। চাই তা ইচ্ছাকৃত হোক বা অনিচ্ছাকৃত হোক। মানবিক প্রয়োজন যেমন-পেশাব-পায়খানা, জানাবতের গোসল,খাবার এনে দেয়ার মানুষ না থাকলে, খাবার আনার জন্যে বের হওয়া ইত্যাদি। শরীয়তসম্মত প্রয়োজন যেমন- ওযু বা সুন্নত গোসলের জন্যে বের হওয়া,জুমুআর নামাজের জন্যে জামে মাসজিদে গমন করা ইত্যাদি। তবে যে সব কাজের জন্যে বের হওয়া যাবে, সে সব কাজ শেষ হওয়ার পর তাড়াতাড়ি ফিরে আসতে হবে। দেরি করা চলবে না।-(ফাতাওয়া শামী,২/১৮২, অালমগিরী-১/২১২, আহসানুল ফাতাওয়া -৪/৫১২, আহকামুল কুরআন -১/১৯০, বেহেশতী যেওর-৩/২৭১)।

(খ) মাসজিদের বারান্দা ছাড়া মাসজিদের অন্যান্য জায়গা,যে গুলো মাসজিদের প্রয়োজনে ব্যবহৃত হয়, এ’তেকাফকারী সে সব জায়গায় যেতে পারবে না। যেমন- (ওযুর প্রয়োজন ছাড়া) ওযু করার জায়গা,পানি যাওয়ার ড্রেন, ওযুর জন্যে বসার জায়গা, ইমাম -মুয়াজ্জিনের কামরা,জানাযার স্হান,মেইন গেট, ওই সমস্ত জায়গা যা কোন প্রয়োজনে কিংবা মুসল্লিদের বিশ্রামের জন্যে বানানো হয়েছে, যদিও এগুলো মাসজিদের সীমানার ভিতরে হয়। কেননা এ’তেকাফকারীর জন্যে এগুলো মাসজিদের হুকুমে নয়। এ’তেকাফকারীর জন্যে ওই জায়গাটুকুই মাসজিদ যেখানে সেজদা করা হয়। খানা খাওয়ার পর হাত ধোয়ার জন্যে,কুলি করার জন্যে,বরতন ধোয়ার জন্যে বের হতে পারবে না। পোয়োজন হলে মাসজিদের ভিতরই করতে হবে। তবে খেয়াল রাখতে হবে, যাতে মাসজিদে পানি না পড়ে। মিসওয়াক, ব্রাশ করতে হলে ওযুর সাথে করবে। শুধু মিসওয়াক, ব্রাশ বা দাঁত মাজার জন্যে বাইরে যাওয়া যাবে না। ( অাহসানুল ফাতাওয়া-৪/৫১০-১১, মাহে রামাযানুল মুবারক-৯২)।

(গ) স্ত্রী সহবাস করলে এ’তেকাফ ভঙ্গ হয়ে যাবে, চাই বীর্যপাত হোক বা না হোক। ইচ্ছাকৃত হোক বা অনিচ্ছকৃত হোক। সহবাসের অানুষঙ্গিক কাজ যেমন -চুমো,আলিঙ্গন ইত্যাদির কারণে বীর্যপাত হয়ে গেলে এ’তেকাফ ফাসেদ হয়ে যাবে। বীর্যপাত না হলে ফাসেদ হবে না; তবে এ’তেকাফ অবস্হায় এসব করা হারাম। মাসআলাগুলো মহিলা এ’তেকাফ কারীদের জেনে রাখা আবশ্যিক।
এ’তেকাফ অবস্হায় মহিলাদের মাসিক স্রাব হয়ে গেলে এ’তেকাফ ভেঙ্গে যাবে এবং শুধু ওই দিনের কাযা করা ওয়াজিব হবে। এ’তেকাফ ভঙ্গ হওয়ার কারণে তা নফল হয়ে যাবে (পুরুষের বেলায় একই হুকুম)। এক দিনের কাযা রামাযানের ভিতরেও করা যেতে পারে, পরেও করা যেতে পারে। তবে রামাযানের পরে করলে নফল রোযার সাথে কাযা করতে হবে। একদিনের কাযা করলে শুধু দিনের কাযা করতে হবে, না -দিন-রাতের করতে হবে,একটা প্রশ্ন থেকে যায়। তার জবাবে বলা যায়,এ’তেকাফ যদি দিনে ফাসেদ হয়, তাহলে শুধু দিনের কাযা করতে হবে। সুবহে সাদিকের অাগ থেকে নিয়ে সুর্যাস্ত পর্যন্ত এ’তেকাফ করতে হবে। পক্ষান্তরে এ’তেকাফ যদি রাতে ফাসেদ হয়,তাহলে রাত -দিনের কাযা করতে হবে। সুর্যাস্তের অাগে বসে পরদিন সুর্যাস্তের পরে এ’তেকাফ শেষ করবে (আল্লাহ পাকই ভাল জানেন)। (আহসানুল ফাতাওয়া ৪/৫১১-৫১২, মাসায়েল রামাযান-৭৩)।
আল্লাহ তা’লা অামাদেরকে সঠিকভাবে মাসআলা বোঝে অামল করার তাওফীক দান করুন। অা-মীন।।

লেখক : মুফতি, মুহাদ্দিস, খতিব, কলামিস্ট ও সীমান্তের আহ্বানের প্রধান উপদেষ্টা। 






Related News

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *