Main Menu

রমযানের গুরুত্বপূর্ণ মাসআলা (পর্ব-১৭)

[মুফতি আমিনুর রশিদ গোয়াইনঘাটী]

এ’তেকাফের বর্ণনা:
এ’তেকাফ অর্থ অবস্হান করা,স্হির থাকা।পরিভাষায় এ’তেকাফ বলা হয় , পার্থিব কাজকর্ম ও পরিবার পরিজন থেকে আলাদা হয়ে সওয়াবের নিয়্যাতে মাসজিদে বা ঘরের নির্দিষ্ট স্হানে অবস্হান করাকে। এ’তেকাফ তিন প্রকার। (১) ওয়াজিব তথা মান্নত এ’তেকাফ। (২) সুন্নাত মুয়াক্কাদা তথা রমাযানের শেষ দশকের এ’তেকাফ।(৩) নফল তথা যে কোন দিন বা যে কোন মুহুর্তের এ’তেকাফ।

(ক) বিশ রামাযান সুর্যাস্তের অাগ থেকে নিয়ে ঈদের চাঁদ দেখা পর্যন্ত প্রত্যেক মহল্লার মাসজিদে এ’তেকাফ করা সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ আলাল কেফায়াহ। মহল্লা বাসীর পক্ষ থেকে যে কোন একজন এ’তেকাফ করলে সবার পক্ষ থেকে তা আদায় হয়ে যাবে। পক্ষান্তরে যদি কেউ এ’তেকাফ না করেন,তাহলে সবাই গুনাহগার হবেন। (আহসানুল ফাতাওয়া-৪/৫০৮, আপকে মাসায়েল -৩/৩১৩)।

(খ) মহিলাগণও এ’তেকাফ করতে পারবেন। তবে তাদেরকে স্বামীগণের অনুমতি নিয়ে এ’তেকাফ করতে হবে। স্বামীগণের অনুমতি ব্যতিরেকে এ’তেকাফ করা ঠিক নয়। জটিল কোন সমস্যা না হলে স্বামীগণেরও উচিত স্ত্রীদেরকে এ’তেকাফের অনুমতি প্রদান করা। ঘরের যে জায়গায় মহিলাগণ নামাজ অাদায় করে থাকেন, সে জায়গাটাতেই তারা এ’তেকাফ করবেন। ওই জায়গাটা তাদের জন্যে মাসজিদ সমতুল্য। প্রয়োজনীয় কাজ ব্যতিরেকে সেখান থেকে তারা বের হতে পারবেন না। তবে মহিলাগণ নামাজের জায়গা ছাড়া তাদের সুবিধে মত জায়গায়ও এ’তেকাফ করতে পারবেন। কিন্তু মহিলাদের মাসিক স্রাব হলে এ’তেকাফ ভঙ্গ হয়ে যাবে। কেননা সুন্নত এ’তেকাফের জন্যে রোযা শর্ত। ( হিন্দিয়্যা -১/২১১, আপকে মাসায়েল -৩/৩১৫)।

(গ) এ’তেকাফকারী মানবিক প্রয়োজন এবং শরীয়তসম্মত প্রয়োজন ছাড়া এক মিনিটের জন্যেও মাসজিদ থেকে বের হতে পারবেন না। বের হলে এ’তেকাফ ভঙ্গ হয়ে যাবে। রোগী দেখা বা জানাযার নামাযের জন্যেও বের হলে এ’তেকাফ ভঙ্গ হয়ে যাবে। তবে মানবিক কারণে বের হলে রাস্তায় হেটে হেটে রোগী দেখা যাবে, রোগী দেখার জন্যে রাস্তায় থামা যাবে না। অনুরূপভাবে শরীয়তসম্মত প্রয়োজনে বের হওয়ার পর রাস্তায় জানাযা প্রস্তুত দেখা গেলে, নামাযে শরীক হওয়া যাবে। তবে নামাযের জন্যে অপেক্ষা করা যাবে না; নামাযের পরেও সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা যাবে না। ( আহসানুল ফাতাওয়া -৪/৫০৯, অাপকে মাসায়েল -৩/৩১৪)।
আল্লাহ তা’লা আমাদেরকে সঠিকভাবে মাসআলা বোঝে আমল করার তাওফীক দান করুন। আ-মীন।।

লেখক : মুফতি, মুহাদ্দিস, খতিব, কলামিস্ট ও সীমান্তের আহ্বানের প্রধান উপদেষ্টা। 






Related News

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *