Main Menu

বিরুদ্ধাচার ও অপপ্রচার; ভাইস চেয়ারম্যানের অভিব্যক্তি

আব্দুল্লাহ সালমান :: গত পোস্টে লম্বাচওড়া আলোচনা করেছিলাম মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক গোয়াইনঘাট উপজেলাধীন কওমী মাদরাসার অনুদান নিয়ে। নিজের এলোমেলো ভাবনা থেকে লিখেছিলাম।

এ বিষয়ে বিস্তারিত অবগতির জন্যে গিয়েছিলাম ভাইস চেয়ারম্যান মাওলানা গোলাম আম্বিয়া কয়েছ’র সাক্ষাতে। জানতে চেয়েছিলাম এ টু জেড। উনার বক্তব্যের সারমর্ম এই:

“গোয়াইনঘাটের নবাগত নির্বাহী অফিসার জনাব নাজমুস সাকিব অত্যন্ত ভালো এবং আমিত্বহীন একজন মানুষ। তিনি প্রথম থেকেই আমাকে খুব ভালোবাসেন। আমি সবসময় উনার কাছে কওমী মাদরাসা ও ওলামায়ে কেরামের ব্যপারে কথা বলি। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানভিত্তিক অনুদান আসলেও গোয়াইনঘাটের কওমী মাদরাসা বিগত দিনে সরকারি কোনো অনুদানের দেখা পায় নি। আলেমদের চোঁখে বেশ পর্দা, তাই কখনও কারও কাছে হাত পাতেন না। নিজের ব্যপারে তো না-ই, মাদরাসার জন্যেও অনেকে লজ্জিতবোধ করেন। বর্তমান সঙ্কটাপন্ন পরিস্থিতিতে দিনমজুর ও নিম্নবিত্তরা যেভাবে দিন কাটাচ্ছে বেশ কিছু কওমীয়ানও তাদের মতো অসহায়। যদি সম্ভব হয় তাহলে তাদের জন্যে কিছু একটা করা। এসব কথা শোনতে শোনতে তিনি একদিন আমাকে গোয়াইনঘাটের ওলামায়ে কেরামের একটা তালিকা তৈরি করতে বললেন। আমি তো তোমাকেও বলেছিলাম তোমার আশেপাশের মাওলানাদের নাম-ঠিকানা দেওয়ার জন্যে। ভাবছিলাম হয়তো আলেমদের নামে ব্যক্তিগত কিছু একটা পেলেও পেতে পারি। কিছুদিন আগে স্যার আমাকে কল দিয়ে বললেন অফিসে আসার জন্যে। অফিসে আসলে তিনি বলে ওঠলেন, উপজেলার কওমী মাদরাসার নাম এখনই পাঠাতে হবে ডিসি অফিসে। আমি বললাম, পুরো গোয়াইনঘাট জোড়ে ১০৪ টা মাদরাসা আছে, সকল মাদরাসার নাম তো এখনই দেওয়া সম্ভব না। আমাকে দু’দিন সময় দিন, আমি জোগাড় করে দিচ্ছি। উনি আমাকে বললেন সময় পাচ্ছেন ঘণ্টাখানেক, এরপর মেইল করতে হবে। তখনই আমি মাওলানা লুৎফুর রহমান সাতাইনীর সহযোগিতায় পরিচালকের নাম ও নাম্বারসহ ৩৬টি এবং বাকি ৬৮টি মাদরাসার পূর্ণ তথ্য ছাড়াই নাম দিলাম। সময় স্বল্পতার দরুন সবকিছু মেন্টেন করে তালিকা করা সম্ভব হয় নি। আর এমন সময় এটা কঠিনও বটে। কারণ, আমি বাঘেরসড়ক ত্রাণ বিতরণে ছিলাম, সেখান থেকে তাড়াহুড়ো করে আসা।
তখন পর্যন্ত আমার আশা থাকলেও পুরো বিশ্বাস ছিল না যে, আমরা বরাদ্দটা পেয়ে যাব। আলহামদুলিল্লাহ! ইউএনও স্যারের বিচক্ষণতায় অনুদানটা চলে আসে। যখন স্যার আমাকে ওয়াটসআপে ফাইলের ছবি পাঠালেন তখনই আমি উনাকে ফোন দিয়ে কনফার্ম হই যে বরাদ্দটা হয়ে গেছে। পূর্বের দেওয়া তথ্যানুসারে তালিকার সাথে টাকার সংখ্যাটাও উল্লেখ ছিল, যা ঢাকা অফিস থেকে নির্দিষ্ট করে পাঠানো হয়েছিল। পরিচালকের নাম ও নম্বার না থাকায় বাকি ৬৮টি মাদরাসা তালিকাভুক্ত হয় নি। আমি আগেও বলেছি যে, উপযুক্ত সময়ের অভাবে তালিকাটা অগোছালোভাবেই দেওয়া হয়েছিল এবং সে অনুযায়ী টাকা এসেছে। এখানে আমার বা স্থানীয় পরিষদের কোনো বিশেষত্ব নেই। যদি এমন কিছু হত তাহলে শিটে চেয়ারম্যান ও ইউএনও স্যারের স্বাক্ষর থাকত।
স্যার আমাকে অফিসে নিয়ে বললেন যে, চেয়ারম্যান সাহেব আপনার জন্যেই পুরো সিলেটের কওমী মাদরাসা এই বরাদ্দটা পেয়েছে। অন্যান্য উপজেলার দিকে লক্ষ্য করলে দেখবেন খুব অল্প অনুদানই পেয়েছে, তাদের তুলনায় আমরা অনেক বেশি। ডিসি স্যারের মাইন্ডে কথাটা দিয়েছিলাম আপনার বারবারের অনুরোধে। এখন থেকেই শুরু হলো, ইনশাল্লাহ আগামীতে আরও আসবে।

বিগত দিনে গোয়াইনঘাটের কোনো কওমী মাদরাসা সরকারি অনুদানের ছোঁয়া পায় নি। আমার সামান্য পরিশ্রমের ফলে প্রাথমিকভাবে ৩৬টি মাদরাসায় অনুদান পৌঁছাল।
এর জন্যে আমাকে ধন্যবাদ জানানোর বদলে যারা অপপ্রচার আর হিংসাত্মক আচরণে লিপ্ত তাদের জন্যে খারাপ লাগে। তবুও তো অবিভাবক হিসেবে আমার সবকিছু মাথাপেতে মেনে নিতে হবে। কাওকে ছোট করে দেখলে এটা হবে আমার দায়িত্বের অপব্যবহার। আল্লাহর হুকুমে আমি কাজ শুরু করেছি, শেষ করতে তো এখনও কিছুদিন বাকি। যে উৎসাহ-উদ্দীপনা নিয়ে অগ্রসর হয়েছিলাম, প্রথম ধাক্কাতেই সেটা হারিয়ে ফেলেছি। যারা অনুদান পায় নি তাদের উচিৎ ছিল মাদরাসার নাম-ঠিকানা দিয়ে এটা বলা যে, চেয়ারম্যান সাহেব পরবর্তী বাজেটে যেন আমাদের মাদরসাও থাকে। তারা সুন্দর প্রস্তাব করতে পারত। আমাকে পরামর্শ দিতে পারত। আমি তো ওলামায়ে কেরামের শ্রমেই নির্বাচিত হয়েছি। আমি তাদেরই অঙ্কিত পথে হাটতে চাই। প্রথমেই যদি আমার যাত্রাতরীকে ডুবিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয় তাহলে আমি কিভাবে অগ্রসর হব?
আমাদের উচিৎ ছিল যদি অন্তত একটা মাদরাসাও অনুদান পায় তাহলে উৎসাহ দেওয়া, ধন্যবাদ দেওয়া, এবং পরবর্তিতে আরও একটার কথা চিন্তা করার অনুপ্রেরণা দেওয়া। কিন্তু তা না করে এখানেই থমকে দেওয়ার একটা অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। আসলেই দুঃখজনক ব্যপার।”

আপনাদের সামনে ভাইস চেয়ারম্যানের অভিব্যক্তি তোলে ধরার প্রয়াস। এখন নিজেই একটু চিন্তা করে দেখতে পারেন।
আল্লাহ আমাদেরকে সঠিক পথে জীবন পরিচালনা করার তাওফিক দিন। আমিন।






Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *