Main Menu

করোনা আতঙ্কে উথালপাথাল দেশ; কাজের কাজি কারা

[আব্দুল্লাহ সালমান]

সম্প্রতি বিশ্বব্যাপী রাজত্ব কায়েম করে আছে ‘করোনা ভাইরাস’ নামক আল্লাহর এক গজব। পৃথিবী সৃষ্টির পর থেকেই যখন মাখলুকাত আল্লাহর অবাধ্যতায় লিপ্ত হয়েছে তখনই কোনো না কোনো শাস্তি এবং ধ্বংসলীলা তাদেরকে পাকড়াও করেছে। সময়ের পরিবর্তনে বিভিন্ন মহামারি মানবজাতির উপর আঘাত হেনেছে। মহানবী সা. এর মাধ্যমে মহান রব বার বার জানিয়ে দিয়েছেন যে, তোমরা আল্লাহ এবং নবীর নাফরমানি করোনা, অন্যতায় তোমাদের উপর কঠিন আযাব অবতীর্ণ হবে। মুসলিম শরিফে বর্ণিত হাদিসে এরকম গজবকে ‘তাউন’ বলে সম্বোধন করা হয়েছে, এরকম মহামারি ঈমাম মুসলিম রহ. যুগের পূর্বে পাঁচবার এসেছিল। বিগত কয়েকবছর বিশ্বের মুসলমান যে পরিমাণ নির্যাতনের স্বীকার হয়েছে তা ইসলামের ইতিহাসে প্রথম। এমন দৃশ্য দেখে কোনো মানুষ নিজের চোঁখ ছলছল অশ্রুর শ্রোত থামাতে পারেনি আর তিনি তো স্রষ্টা, মালিক। তিনি কিভাবে সহ্য করবেন? উইঘুর নির্যাতনসহ মুসলিম নিধনের অভিনব পদ্ধতি গ্রহণ করেছিল বিশ্বের অন্যতম পরাশক্তি ‘চীন’। মুসলিম মেয়েদের ইনজেকশনের মাধ্যমে সন্তান ধারণ ক্ষমতা নষ্ট করে দেওয়া, মসজিদ নির্মাণ বন্ধ এবং প্রয়োজনে মন্দিরের সাজে বানানোসহ নানারকম কৌশল অবলম্বন করেছিল তারা। আর এখান থেকেই শুরু হল চলতি মহামারি। এখন পর্যন্ত যার কোনো নিরাময়ক তৈরী হয়নি। এর ঔষধ একটিই, ‘প্রভুর সাহায্য প্রার্থনা করা’।
প্রতিটা দেশ যখন আতঙ্কিত হয়ে রুগ প্রতিরোধের নানান ব্যার্থ চেষ্টায় রত তখন এই রুগমুক্তির দায়ভার গ্রহণ করেছে বিশ্বের আলেম সমাজ।
ভাইরাস না ছড়ানোর জন্যে সরকারের পক্ষ থেকে সতর্কতা জারি করা হয়েছে, এবং এর তদারকি করছেন প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা। এদিকে বিশ্ববাসীর পক্ষে নির্জন রাতে জায়নামাজে অশ্রু ঝরাচ্ছেন আল্লামা আহমদ শফি, জুুুনায়েদ বাবুনগরী, নূর হুসাইন ক্বাসেমী, রায়গড়ী হুজুর ও চাক্তা হুজুরসহ হাজারও খোদাপ্রেমী। আল্লাহ আমাদের এ ভাইরাস থেকে রক্ষা করবেন ইনশাআল্লাহ।
চলমান প্রেক্ষাপটে যারাই দেশ ও জাতির দরদি তাদের দু’টি দল প্রতীয়মান। একদল সতর্কতা জারি করছেন, অন্যদল প্রভুর কাছে রুগমুক্তি ও দূরীভূতের প্রার্থনা করছেন।
এমন ক’জনই বা আছেন যারা উভয় দলের সদস্য? পুরো দেশ ঘুরলে হয়ত হাতেগুণা কয়েকজন পাওয়া যাবে। এদের মধ্যে একজন হচ্ছেন গোয়াইনঘাট উপজেলা পরিষদের জননন্দিত ভাইস চেয়ারম্যান মাওলানা গোলাম আম্বিয়া কয়েছ। তিনি দিনভর মানুষের সচেতনতা নিয়ে ব্যাস্ত থাকেন আর রাতের বেলা প্রভুর সামনে মাখলুকাতের প্রতিনিধিত্ব করেন। উনি একজন আলেম হিশেবে গোয়াইনঘাটবাসীর গৌরবময় ইতিহাসে যেভাবে জায়গা জুড়ে আছেন ঠিক একইভাবে একজন জনপ্রতিনিধি হিশেবে স্বর্ণাক্ষরে স্মৃতির পাতায় তাঁর নাম লিখা থাকবে। আমাদের সবাইকে একইরকম পদ্ধতি গ্রহণ করে মানুষকে করোনা ভাইরাস থেকে সতর্ক অবস্থানে থেকে প্রভুর উপর ভরসা রাখার এবং প্রার্থনা করার জন্যে উৎসাহী করতে হবে। তাহলেই এই মহামারি থেকে আমরা নিস্তার পাব ইনশাল্লাহ। দুঃখের সাথে বলতে হয় যে, আমাদের নেতারা যেমন, সাংবাদিকরাও তেমন। নেতার কণ্ঠে আর সংবাদের হ্যাডলাইনে করোনা নিয়ে বেশ শিরকী কথাবার্তার ছড়াছড়ি। কথা বলতে ও লিখতে আমাদের সবদিকে খেয়াল রাখতে হবে, নতুবা হিতে বিপরীত হতে পারে। মাথা নড়া নেতা যেমনিভাবে দেশের ক্ষতির কারণ তেমনই ওতি উৎসাহী ও অযোগ্য সাংবাদিকও সমাজ ধ্বংসের কারণ। এটা শুধু নিজের ক্ষমতা আর দায়িত্বের অপব্যবহার বৈ কিছু নায়। এসব থেকে আমাদের ফিরে আসতে হবে।
মোটকথা আল্লাহ ও রাসুলের অনুসরণ-অনুকরণ এবং মুসলিম নির্যাতন থেকে বিরত থাকতে হবে। মজলুমদের পক্ষে সোচ্চার হতে হবে। বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে মুসলমানদের উপর অত্যাচার হোক না কেনো আমাদের ভেতরে প্রতিবাদ ও প্রতিরোধের বাতি জ্বালাতে হবে। কারণ গজব যখন আসে তখন কাউকেই ছাড়ে না।

আল্লাহ! আমাদের সবাইকে সঠিক বুঝ দান করুন। এবং করোনা ভাইরাসের মতো গজব থেকে আমাদের রক্ষা করুন। যারাই উম্মতের খেদমতে ব্যাস্ত তাদের জাযায়ে খায়ের দান করুন। জালিম এবং ক্ষমতা ও পদলোভীদের হেদায়ত দান করুন। আমিন।






Related News

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *