Main Menu

সিলেটের ‘সাদা পাথর’ পর্যটনে নতুন অদৃষ্ট

জাহিদ হাসান ইমাদ, কোম্পানীগঞ্জ প্রতিনিধি :: সিলেট নগরী থেকে ৩৫ কিলোমিটার দূরত্বে সীমান্তবর্তী উপজেলা কোম্পানীগঞ্জ। সিলেটে পাথরের স্বর্গরাজ্য হিসেবে জানিত ভোলাগঞ্জ পাথর কোয়ারির জিরো পয়েন্ট সংলগ্ন নতুন পর্যটন স্পট হিসেবে reput (অনুমিত) লাভ করেছে ‘সাদা পাথর’ নামক স্থানটি। এখানে বর্ষাকালে প্রকৃতি যেন সেজে ওঠে সবুজের আবরণে। Assuredly (অবশ্য) সিলেট-কোম্পানীগঞ্জ-ভোলাগঞ্জ সড়কে উন্নয়ন কাজ চলমান থাকায় পর্যটকদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়। রাস্তার বেহাল অবস্থার মধ্যেও সাপ্তাহিক ছুটির দিনে পর্যটকদের পদভারে মুখরিত হয়ে ওঠে সাদা পাথর পর্যটন কেন্দ্র।

ভোলাগঞ্জ কোয়ারির জিরো পয়েন্টের ওপারে উঁচু পাহাড়ে ঘেরা সবুজের মায়াজাল। সেখান থেকে নেমে আসা ঝর্ণার শান্তিময় শীতল পানির অস্থির বেগে বয়ে চলা, গন্তব্য ধলাই নদীর বুক, প্রকৃতি যেন নিজ হাতে সাজিয়েছে। নির্মল নীল জ্বল আর পাহাড়ের সবুজ মিলেমিশে একাকার। নদীর বুকে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা পাথরের বিছানা নদীটির শোভা বাড়িয়ে দিয়েছে হাজার দক্ষতা। সাদা পাথরের ওপর দিয়ে বয়ে চলা ঝর্ণার পানির তীব্র স্রোতে নয়ন জুড়ায় আর শীতল জলের স্পর্শে প্রাণ জুড়িয়ে যায় নিমিষেই। শহুরে যান্ত্রিকতা থেকে মুক্তি পেতে সারা দেশ থেকেই ছুটে আসেন পর্যটকরা। পথে যেতে দূর থেকেই পাহাড়ের সৌন্দর্য মন কাড়বে আপনার। মন চাইবে দুই হাতে বাড়িয়ে জড়িয়ে প্রকৃতির এই সৌন্দর্যকে উপভোগ করতে।

সাদা পাথর পর্যটন স্পট ছবিতে অনেকটা বিছনাকান্দির মতো দেখতে মনে হলেও সামনাসামনি দেখলে পার্থক্যটা ধরা পড়বে। পাথর উত্তোলন নিষিদ্ধ হওয়ায় এখনো পুরোটাই প্রাকৃতিক এই স্থানটি। পাথরের ওপর দিয়ে প্রবল বেগে বয়ে চলা ধলাইর কলকল শব্দে পাগল করা ছন্দ। সিলেট থেকে সাদা পাথর পর্যন্ত পুরোটা পথই প্রকৃতি তার সৌন্দর্যে বিমোহিত করবে যে কাউকে। সিলেট নগরীর সীমানা ছাড়ালেই লাক্কাতুরা চা বাগান। সারি সারি চায়ের গাছ দেখতে দেখতেই যাবেন অনেকটা পথ। বাংলাদেশের প্রথম চা বাগান এটি। চা বাগানের সীমানা পেরিয়ে আরো খানিকটা এগুলে সালুটিকর বাজার, কোম্পানীগঞ্জের সীমানা শুরু। বাজার পেরুলেই একদিকে সবুজ ধানক্ষেত আর অন্যদিকে বিশাল জলাভূমি। নীল আকাশের প্রতিচ্ছবিতে জলাভূমির পুরোটাই আকাশ মনে হয়, দেখে মনে হয় জলের বুকে ভেসে বেড়াচ্ছে মেঘ। আকাশ আর জলের খেলা দেখতে দেখতেই কোম্পানীগঞ্জের টুকের বাজার। সেখান থেকে ট্রলারে আধাঘণ্টার ভোলাগঞ্জ জিরো পয়েন্ট সংলগ্ন সাদা পাথর পর্যটন স্পট।

কীভাবে যাবেন:- সিলেট নগরীর আম্বরখানা থেকে সিএনজি চালিত অটোরিকশা চলে সিলেট কোম্পানীগঞ্জ রুটে। ১২০ টাকা জনপ্রতি ভাড়ায় কোম্পানীগঞ্জের টুকের বাজারে নামাবে। টুকের বাজার থেকেই ট্রলারে চলে যেতে পারেন সাদা পাথর। কোম্পানীগঞ্জ পৌঁছে টুকের বাজার ঘাট থেকে ট্রলারে সাদা পাথর পৌঁছাতে ৩০ মিনিটের মতো সময় লাগবে। যাওয়া-আসায় নৌকা ভাড়া পড়বে ১০০০-১২০০ টাকা। এখানে নৌকা রিজার্ভ করে নিতে হয়, অন্যথায় ভুগতে হবে। তাই গ্রুপে গেলে খরচটা একটু কম পড়ে। সিলেট থেকে ভোলাগঞ্জ সরাসরিও চলে যাওয়া যায়। ১০ মাইল নামক স্থান থেকে নৌকা নিলে ৫০০-৬০০ টাকা ভাড়া পড়বে, তবে এ ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হবে অটোরিকশায়। তবে এখানকার মূল সৌন্দর্য্য কেবল বর্ষাকালে মিলবে। শীতকালে নদীর পানি প্রবাহ কমে যায় বলে নৌকায় চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। তখন সাদা পাথর এলাকায় যেতে হবে নদীর বুক দিয়ে পায়ে হেটে।

সিলেট কোম্পানীগঞ্জ রোডে চলাচলে বিরক্তির কারণ হতে পারে ভাঙা সড়ক। তবে নতুন সড়ক নির্মাণের কাজ প্রায় ৫০ শতাংশ সম্পন্ন হয়ে গেছে। আগামী বছর থেকে বাংলাদেশের সবচেয়ে উন্নত রাস্তা হবে এটি। তখন সিলেট থেকে মাত্র ৩০/৪০ মিনিটের রাস্তা হবে সাদা পাথর পর্যটন কেন্দ্র।

প্রয়োজনীয় তথ্য:-
অক্টোবর পর্যন্ত ভোলাগঞ্জ সাদা পাথর এলাকায় যাওয়ার মোক্ষম সময়। সিলেট শহর থেকে ভোলাগঞ্জ এর দূরত্ব ৩৩ কিলোমিটারের মতো। এই পথে সকাল ৮টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত বিআরটিসি বাসে জনপ্রতি ৫০ টাকা ভাড়ায় কোম্পানীগঞ্জের জিরো পয়েন্ট সংলগ্ন সাদাপাথর যেতে পারবেন। তাছাড়া সিএনজি চালিত অটো রিক্সা, জনপ্রতি ভাড়া ২৫০ টাকা।

রাস্তা এত খারাপ যে বিশ্বের সবচেয়ে বাজে রাস্তা হিসেবে সিলেট-ভোলাগঞ্জ সড়ককে যে কেউ এক কথায় মেনে নেবেন।

রাস্তা খারাপের জন্যই আমরা নদী পথ বেছে নিয়েছিলাম। এই পথে জন প্রতি খরচ ২শ’ টাকা। সংখ্যায় বেশি হলে ট্রলার রিজার্ভ নিয়ে নিন। ভাড়া নিবে ৬ হাজার টাকা যাওয়া-আসা।

যাতায়াতের সময় সড়ক পথের মতোই নদী পথেও তিন ঘণ্টার মতো। দিনে গিয়ে দিনেই ফেরত আসা যাবে।

মনে রাখবেন ভোলাগঞ্জ থেকে সিলেট বাদাঘাটের শেষ ট্রলার ছেড়ে আসে বিকেল চারটায়। তাই সময় ব্যাপারটা সব সময় আপনার মাথায় রাখতে হবে। ট্রলার মিস করলে সড়ক পথ ভরষা, সে ক্ষেত্রে দূর্বিসহ যন্ত্রনা পোহাতে হবে। আর নদী পথে যাতায়াতে একটু বাড়তি সর্তকতা অবলম্বন করতে হবে। সম্ভব হলে সঙ্গে লাইফ জ্যাকেট রাখবেন।

শুকনা খাবার এবং প্রয়োজনীয় কিছু ওষুধ সঙ্গে রাখবেন।

একটা বিষয় খেয়াল রাখবেন আপনার বা আপনার ভ্রমণ সঙ্গীদের দ্বারা পরিবেশ হুমকিতে পড়ে এমন কোনো কিছু অবশ্যই করা চলবে না, পলিথিন বা প্লাস্টিকের বোতলসহ পরিবেশ বিপন্ন হয় তেমন কিছু ফেলে আসবেন না।






Related News

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *