January 28, 2023

Shimanterahban24

Online News Paper


Warning: sprintf(): Too few arguments in /home/shimante/public_html/wp-content/themes/newsphere/lib/breadcrumb-trail/inc/breadcrumbs.php on line 254

ভ্রান্ত মতাদর্শী হেযবুত তাওহীদের সম্মেলন বন্ধে তাওহিদী জনতার প্রতিরোধ: সতর্ক অবস্থায় পুলিশ

1 min read

ইসলামের অপব্যাখ্যাকারী ভ্রান্তমতাদর্শী কথিত হেযবুত তাওহীদের একটি সম্মেলনের প্রতিরোধে উলামায়ে কেরামের নেতৃত্বে সর্বস্তরের বিপুল সংখ্যক তাওহিদী জনতা রাজধানী ঢাকার উত্তরায় আজ (মঙ্গলবার) ভোর থেকে রাস্তায় নেমে এসে শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে প্রশাসন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রেখেছে। বর্তমানে ঘটনাস্থলে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

জানা গেছে, চরম বিতর্কিত ও রহস্যজনক হেযবুত তাওহীদ নামের গোষ্ঠীটি তাদের প্রতিষ্ঠার ২৫তম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আজ রাজধানী ঢাকার উত্তরা ১৪নং সেক্টরের খেলার মাঠে সম্মেলনের প্রস্তুতি নেয়। এই খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় জনসাধারণ ও আলেম সমাজের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ ও উত্তেজনা বিরাজ করে। এর প্রেক্ষিতে আজ মঙ্গলবার ভোর থেকে উলামায়ে কেরামের নেতৃত্বে তাওহিদী জনতা হেযবুত গোষ্ঠীর এই সম্মেলনের প্রতিরোধে রাস্তায় জমায়েত হতে শুরু করে। এক পর্যায়ে সকাল ৮টায় বিপুল সংখ্যক প্রতিবাদি জনতা রাস্তা অবরোধ করে স্লোগান দিতে থাকে এবং নেতৃত্বদানকারী উলামায়ে কেরামও প্রতিবাদি বক্তব্য দেন।

উত্তরা ১৪নং সেক্টরের খেলার মাঠে ২৫ বছর পূর্তি সম্মেলনের প্রস্তুতি নেয় হেযবুত তাওহিদ নামের ভ্রান্তমতাদর্শী গোষ্ঠীটি।

এক পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ ঘটনাস্থলে গিয়ে উপস্থিত উলামায়ে কেরামের সাথে কথা বলেন এবং ভ্রান্ত মতাদর্শী হেযবুত তাওহীদ গোষ্ঠীকে সম্মেলন করতে না দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তৌহিদী জনতাকে রাস্তা ছেড়ে যেতে অনুরোধ করেন। পুলিশের আশ্বাসের প্রেক্ষিতে উলামায়ে কেরাম ও তাওহিদী জনতা বর্তমানে পার্শ্ববর্তী আয়েশা মসজিদ ও সম্মুখস্থ চত্বরে অবস্থান নিয়েছেন।

নেতৃস্থানীয় উলামায়ে কেরামের মধ্যে উপস্থিত আছেন, জামিয়া মাদানিয়া বারিধারার ভাইস প্রিন্সিপাল মুহাদ্দিস হাফেজ মাওলানা নাজমুল হাসান, মাওলানা রুহুল আমিন উজানী, মুফতী কেফায়াতুল্লাহ আজহারী, মুফতী আনিসুর রহমান, মুফতী কামাল উদ্দীন, মুফতী শরীফুল ইসলাম এবং স্থানীয় অন্যান্য মসজিদের ইমাম ও খতীবগণ।

পরিস্থিতি জানিয়ে মুঠোফোনে উম্মাহ ২৪ ডটকম’কে হাফেজ মাওলানা নাজমুল হাসান জানান, কথিত হেযবুত তাওহীদ নামের গোষ্ঠীটির অপতৎপরতা নিয়ে দেশের হক্কানী আলেম সমাজ দীর্ঘ দিন ধরেই ঘোরতর আপত্তি ও এই গোষ্ঠীকে নিষিদ্ধের দাবি জানিয়ে আসছে। এই গোষ্ঠির লোকেরা ইসলামের নামে এমন সব আজগুবি ও ঈমানবিধ্বংসী মতবাদ প্রচারে জড়িত, যেগুলোর উপর বিশ্বাস স্থাপন করলে কোন মুসলমানের ঈমান থাকবে না।

মাওলানা নাজমুল হাসান আরো জানান, হেযবুতের লোকেরা ইসলামী জ্ঞান সম্পর্কে যথেষ্ট অবগত নন- এমন সাধারণ মুসলমানদেরকে টার্গেট করেই অপতৎপরতা চালাচ্ছে। এই গোষ্ঠির লোকেরা মনগড়া ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণের মাধ্যমে দেশের আলেম সমাজের নামে নানা বিভ্রান্তি ছড়িয়ে প্রথমে মানুষকে আলেমবিদ্বেষী করতে উদ্বুব্ধ করে। এরপর নিজেদের মতো করে ইসলামের অপব্যাখ্যা দিয়ে সাধারণ মুসলমানদেরকে ঈমানহারা করার মিশন এগিয়ে নিতে তৎপরতা চালাচ্ছে। এই গোষ্ঠীটির প্রতিষ্ঠাতা ছিল কথিত এমাম বায়েজীদ খান পন্নী। সে মারা যাওয়ার পর বর্তমানে নেতৃত্বে এসেছে হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম নামের আরেক ব্যক্তি। সে নিজেকে এই গোষ্ঠির বর্তমান এমাম দাবি করে।এরা যেভাবে কাড়ি কাড়ি টাকা খরচ করে ভ্রান্তমতবাদের প্রচারণা চালাচ্ছে, তাতে এটা দিবালোকের মতো স্পষ্ট যে, এদের পেছনে ইহুদীবাদি ও ইসলামবিদ্বেষী শক্তির সহযোগিতা রয়েছে।

মাওলানা নাজমুল হাসান অভিযোগ করে বলেন, প্রশাসনের নাকের ডগায় এই গোষ্ঠীটি ভ্রান্তমতবাদের প্রচার এবং চরমপন্থী অপতৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। এই গোষ্ঠী শুধু ঈমান-আক্বিদার জন্যই হুমকি নয়, বরং তারা দেশের শান্তি-শৃঙ্খলার জন্যও বড় ধরণের মাথাব্যাথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।পুলিশ আমাদেরকে আশ্বাস দিয়েছে, তাদেরকে উত্তরার সম্মেলন করতে দেওয়া হবে না। পুলিশের আশ্বাসের প্রেক্ষিতে তৌহিদী জনতা বর্তমানে পার্শ্ববর্তী মসজিদে অবস্থান নিয়েছেন। আলেম-উলামা ও সাধারণ তৌহিদী জনতা কোন অবস্থাতেই এই ভ্রান্ত গোষ্ঠীকে উত্তরায় সম্মেলন করতে দিবে না।

তিনি আরো বলেন, বিভিন্ন সময় হেযবুত তাওহিদ নামের ভ্রান্তমতাদর্শী সংগঠনটি নিষিদ্ধ করার কথা সামনে আসলেও অদৃশ্য কারণে সেটা চূড়ান্ত হচ্ছে না। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যেখানে বার বার বলে আসছেন যে, ধর্মের নামে অপব্যাখ্যারীদেরকে সামান্যতমও ছাড় দেওয়া হবে না, সেখানে জঙ্গীবাদি এই ভ্রান্তমতাদর্শী সংগঠনটি কী করে প্রশাসনের নাকের ডগায় থেকে লাগাতার অপতৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে, সেটাই বড় রহস্য।

উল্লেখ্য, ২০০৮ সালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তালিকায় কালো তালিকাভুক্ত হয় হেযবুত তাওহিদ নামের গোষ্ঠীটি। ২০১৪ সালের ১৩ নভেম্বর বাংলাদেশ সরকারের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে হেযবুত তাওহিদ গোষ্ঠীকে কালো তালিকাভুক্ত করে চিঠি জারি করা হয়। এরপর বাংলাদেশ ব্যাংকও এ বিষয়ক সতর্কতা জারি করে সংগঠন ও এর অঙ্গ সংগঠনের সম্পর্কে সতর্ক থাকতে বলে। ২০১৯ সালের ১ নভেম্বর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল নিশ্চিত করেন হেযবুত তওহীদসহ আরো কয়েকটি দল কালো তালিকাভুক্ত এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ে তাদের নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব জমা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Copyright © All rights reserved. | Newsphere by AF themes.