January 28, 2023

Shimanterahban24

Online News Paper


Warning: sprintf(): Too few arguments in /home/shimante/public_html/wp-content/themes/newsphere/lib/breadcrumb-trail/inc/breadcrumbs.php on line 254

অলসতা থেকে মুক্তির উপায়

1 min read

[বিলাল আহমদ রাসেল]

প্রিয় পাঠক/পাঠিকা! অলসতা উদ্যমহীনতা ও উদাসীনতার এমন রোগ যা মানুষকে দুনিয়া ও আখেরাতের সাফল্য থেকে পিছিয়ে দেয়,
এজন্য এই রোগ প্রতিরোধে সচেষ্ট হবেন।

এক. প্রথমেই আপনাকে উক্ত রোগ থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হতে হবে। আপনি বলবেন, আমি যা চাই, তাই করতে পারব। শাইখুল ইসলাম মুফতি তাকি উসমানী দা. বা. বলেন, سستی کاعلاج چستی অলসতার চিকিৎসা হিম্মত। সুতরাং প্রথমেই আপনাকে কষ্ট ও মেহনত করার জন্য হিম্মত করতে হবে, এই রোগ থেকে উত্তরণের জন্য দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হতে হবে।

সিমাক আলহানাফি রহ. বলেন,
سَمِعْتُ ابْنَ عَبَّاسٍ يَكْرَهُ أَنْ يَقُولَ : إنِّي كَسْلاَنُ
আমি ইবনু আব্বাস রাযি. সম্পর্কে শুনেছি, তিনি কাউকে ‘আমি অলস’ একথা বলতে পসন্দ করতেন না। (মুসান্নাফ ইবনি আবী শাইবা ৯/৬৭)

দুই. হাফেজ ইবনু হাজার আসকালানি রহ. বলেন,
ويتولد من طول الأمل الكسل عن الطاعة والتسويف بالتوبة
দীর্ঘ আশা ইবাদতে অলসতা তৈরি ও তাওবার ক্ষেত্রে গড়িমসি তৈরি করে। (ফাতহুল বারী ১১/২৩৭)।

আপনি হয়ত জীবন সম্পর্কে অতিরিক্ত আশা করে বসে আছেন যে, হায়াত অনেক পাবেন আর শেষ জীবনে তাওবা করে নিবেন! ব্যাস, হয়ে যাবে! এটা মূলত আশা নয়, বরং ধোঁকা। সুতরাং এজাতীয় ‘অন্যায়-আশা’, যা আপনাকে আমল ও তাওবা থেকে বিমুখ করে দিচ্ছে, তা এখনই বর্জন করুন। রাসূলুল্লাহ্‌ ﷺ বলেছেন,

بَادِرُوا بِالْأَعْمَالِ سَبْعًا هَلْ تَنْتَظِرُونَ إِلَّا فَقْرًا مُنْسِيًا أَوْ غِنًى مُطْغِيًا أَوْ مَرَضًا مُفْسِدًا أَوْ هَرَمًا مُفَنِّدًا أَوْ مَوْتًا مُجْهِزًا أَوْ الدَّجَّالَ فَشَرُّ غَائِبٍ يُنْتَظَرُ أَوْ السَّاعَةَ فَالسَّاعَةُ أَدْهَى وَأَمَرُّ

সাতটি বিষয়ের পূর্বে তোমরা দ্রুত নেক আমল করো। তোমরা কি এমন দারিদ্র্যের অপেক্ষা করছ, যা তোমাদেরকে সবকিছু ভুলিয়ে দেবে? না ওই ঐশ্বর্যের, যা তোমাদেরকে দর্পিত বানিয়ে ছাড়বে? নাকি এমন রোগের, যার আঘাতে তোমরা জরাজীর্ণ হয়ে পড়বে? না সেই বার্ধক্যের, যা তোমাদেরকে অথর্ব করে ছাড়বে? নাকি মৃত্যুর, যা আকস্মিক এসে পড়বে? নাকি দাজ্জালের, অনুপস্থিত যা কিছুর জন্যে অপেক্ষা করা হচ্ছে, সে হচ্ছে সেসবের মধ্যে সবচেয়ে নিকৃষ্ট? না কিয়ামতের অপেক্ষা করছ, যে কিয়ামত কিনা সর্বাপেক্ষা বিভীষিকাময় ও সর্বাপেক্ষা তিক্ত? (তিরমিযি ২৩০৬ যুহদ অধ্যায়)

তিন. নেক আমল কিংবা তাওবা করার চিন্তা মনে আসার সঙ্গে সঙ্গে তা করে ফেলুন। আজকের নেক আমল এবং আজকের তাওবা আজকেই করতে হবে। আগামীকালের অপেক্ষায় রেখে দেয়া যাবে না কিছুতেই। আল্লাহ তাআলা বলেন,

وَ سَارِعُوْۤا اِلٰی مَغْفِرَةٍ مِّنْ رَّبِّكُمْ وَ جَنَّةٍ عَرْضُهَا السَّمٰوٰتُ وَ الْاَرْضُ اُعِدَّتْ لِلْمُتَّقِیْنَ

তোমরা তোমাদের প্রভুর পক্ষ থেকে ক্ষমা এবং এমন জান্নাতের দিকে দ্রুত ধাবিত হও, যার প্রশস্ততা হবে আকাশসমূহ ও জমিনসম। তা মুত্তাকিদের জন্যে প্রস্তুত করা হয়েছে। (সূরা আলে ইমরান ১৩৩)

চার. অনেক ক্ষেত্রে অলসতার অন্যতম কারণ থাকে উৎসাহ উদ্দীপনার অভাব। নিজেকে জাগাতে আপনি আল্লাহওয়ালাদের জীবনী, তাঁদের সফলতার গল্প, তাঁদের বাণী পড়ুন, জানুন । অলসতা দূর করতে খুব বেশি কাজে লাগবে এগুলো। বিখ্যাত বুজুর্গ বিশির হাফী রহ. বলতেন,

حسبك أَن أقواما موتى تحيى القلوب بذكرهم ، وأن أقواما أحياء تقسو القلوب برؤيتهم

তোমার জন্য এটা জানা যথেষ্ট যে, কিছু মৃত মনীষী এমন আছেন যে, তাঁদের আলোচনা করলেও অন্তর জীবিত হয় এবং কিছু জীবিত মানুষ এমন আছে যে, তাদেরকে দেখলেও অন্তর শক্ত হয়ে যায়। (তারিখু দামিশক ১০/২১৪)

পাঁচ. যাঁরা আপনার চাইতে বেশি উদ্যমী এবং আমলে অগ্রসর তাঁদেরকে দেখুন। বিশেষত আল্লাহওয়ালাদের চেহারা দেখুন, তাঁদের মজলিসে বসুন, তাঁদের কথা শুনুন এবং উৎসাহ-উদ্দীপনা সঞ্চয় করুন। আল্লাহ তাআলা বলেন,

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُواْ اتَّقُواْ اللّهَ وَكُونُواْ مَعَ الصَّادِقِينَ

হে ঈমানদারগণ, আল্লাহকে ভয় কর এবং সত্যবাদীদের সাথে থাক। (সূরা তাওবা ১১৯)

জাফর ইবন সুলাইমান রহ. বলেন,

كنت إذا وجدت من قلبي قسوة غدوت فنظرت إلى وجه محمد بن واسع –وهو تلميذ الإمام الحسن البصري وكان من كبار العباد والصالحين

আমি যখন আমার অন্তরে আল্লাহবিমুখতা অনুভব করতাম তখন মুহাম্মদ ইবন ওয়াসি রহ.-এর চেহারা দেখতাম, যিনি ছিলেন হাসান বসরি রহ.-এর শাগরিদ এবং অনেক বড় আবিদ ও নেককার । (নুযহাতুল ফুযালা ৬৩৮)

ছয়. যখন অলসতা ভর করে ঠিক তখন নিজেই নিজেকে অনুপ্রাণিত করুন। এটা আপনাকে আমল করতে উদ্বুদ্ধ করবে। এভাবে ভাবুন যে, অলসতা, উদ্যমহীনতা ও উদাসীনতা এগুলো তো শয়তানের সৃষ্ট, ব্যর্থ মানুষের স্বভাব। সুতরাং আমি কেন শয়তানের শিকারে পরিণত হয়ে ব্যর্থদের কাতারে শামিল হব। তারপর তাআউয (আউযুবিল্লাহ…) ও ইস্তেগফার পড়ে আমলের প্রতি ব্রতী হোন। রাসূলুল্লাহ্‌ ﷺ বলেছেন,

الْمُؤْمِنُ الْقَوِيُّ خَيْرٌ وَأَحَبُّ إِلَى اللَّهِ مِنَ الْمُؤْمِنِ الضَّعِيفِ ، وَفِي كُلٍّ خَيْرٌ احْرِصْ عَلَى مَا يَنْفَعُكَ ، وَاسْتَعِنْ بِاللَّهِ وَلَا تَعْجَزْ

আল্লাহর কাছে শক্তিশালী মুমিন দুর্বল মুমিন থেকে অধিক উত্তম ও প্রিয়। তুমি ঐ জিনিসে যত্নবান হও, যাতে তোমার উপকার আছে এবং আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনা কর ও উৎসাহহীন হয়ো না।(মুসলিম ৪৮২২)

সাত. বর্তমানে আমাদের অবসর সময়গুলোর সঙ্গী হয়ে থাকে সোশ্যাল মিডিয়া, স্মার্ট ফোন, ল্যাপটপ বা টেলিভিশন। এসবের ব্যবহারের ক্ষেত্রে নিজেকে নিয়ন্ত্রিত রাখতে হবে। বিশেষত এগুলো যেন আপনার রাতের ঘুম কেড়ে নিতে না পারে, সে দিকে বিশেষ খেয়াল রাখুন। দেখবেন, আমলে মন বসবে এবং অলসতাও হার মানবে। রাসূলুল্লাহ্‌ ﷺ বলেছেন,

مِنْ حُسْنِ إسْلَامِ الْمَرْءِ تَرْكُهُ مَا لَا يَعْنِيهِ

একজন ব্যক্তির ইসলামের পরিপূর্ণতার একটি লক্ষণ হল যে, তার জন্য জরুরী নয় এমন কাজ সে ত্যাগ করে। (তিরমিযী ২২৩৯)

লেখক:- শিক্ষার্থী- লাফনাউট মাদ্রাসা
সীমান্তের আহ্বানের প্রতিনিধি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Copyright © All rights reserved. | Newsphere by AF themes.