Main Menu

পরকালীন জীবনকে সুবিন্যস্ত করতে হলে তাক্বয়ার গুণ অর্জন করতে হবে: আল্লামা ওলীপুরী

সালেহ আহমদ শাহবাগী: সিলেট আলীয়া মাদ্রাসা ময়দানে খাদিমুল কুরআন পরিষদের তিন দিন ব্যাপী তাফসীরুল কুরআন মাহফিল (৭ ফেব্রুয়ারী) শুক্রবার শেষ হয়।

এতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রখ্যাত মুফাসসীরে কুরআন আল্লামা নুরুল ইসরাম ওলিপুরী বলেন, পৃথিবীর প্রত্যেকটি প্রাণী শান্তি চায়। নিজের পরিবেশে নিরাপত্তার ব্যবস্থা গ্রহণ করে থাকে। যে কারণে বহিরাগত শত্রুর আক্রমণ থেকে বাঁচার জন্য একটি প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তুলে। কেননা প্রতিরোধ ব্যবস্থা না থাকলে যে কোন সময় তার সবকিছু ধ্বংস হতে পারে।

তিনি বলেন, সকল প্রাণীর মধ্যে শ্রেষ্ঠ প্রাণী মানুষ। মানুষের জীবন এখানেই শেষ নয়, পরকালে দুনিয়ার প্রতিটি কাজের জন্য প্রত্যেক মানুষকে বিচারের মুখোমুখী হতে হবে। এ জন্য মানুষেরও একটি প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন। আর তা হচ্ছে কুরআন হাদীসের আলোকে নিজের জীবন পরিচালনা করা।

আল্লামা ওলীপুরী আরো বলেন, মুমিনের ধর্ম বিশ্বাসের একটি হচ্ছে পরকালের জবাবদিহিতা। মৃত্যুর পর মানুষ অমর হয়ে থাকবে। পরকালীন জীবনের ক্ষয় ও লয় নেই। পরকালের কঠিন মুহূর্তে কেবল মাত্র দুনিয়ার নেক আমল সহায়ক হবে। এ জন্য মুসলমানের পরকালকে সুবিন্যস্ত করতে হলে দুনিয়ার জীবনে তাকওয়ার গুণ অর্জন করতে হবে।

গতকাল খাদিমুল কুরআন পরিষদের বিশাল তাফসিরুল কুরআন মাহফিলে আল্লামা নুরুল ইসলাম ওলিপুরী আরো বলেন, দুনিয়ার জীবন ক্ষণস্থায়ী, এ ক্ষণস্থায়ী জীবনকে সফল করার জন্য মানুষ হালাল-হারামের ধার ধারে না। তার একমাত্র কারণ হচ্ছে অন্তরে আল্লাহ ভীতির শূন্যতা। মানুষের মধ্যে তাকওয়ার গুণ থাকলে ধর্মীয় ও রাষ্ট্রীয় অপরাধ প্রবণতা থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখবে। দেশে অপরাধ প্রবণতা হ্রাস পাবে, ফলে আইন-শৃংখলার উন্নতি হবে। দেশের অর্থনৈতিক চাকা সমৃদ্ধ হবে। বহির্বিশ্বে দেশের মান-সম্মান বেড়ে যাবে।

তাফসীরুল কুরআন মাহফিলের শেষ দিনে অন্যান্য বক্তাগণ বলেন, যারা ক্ষমতার মসনদে বসে অন্যায়-অনাচারকে প্রশ্রয় দিয়ে থাকে, তাদের কারণে আজ সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে অপরাধ ঢুকে গেছে। এসব অপরাধীদের পুনর্বাসনের জন্য কুরআনের শিক্ষা ও তাকওয়ার বিকল্প নেই। তাই ইহকালীন শান্তি ও পরকালীন মুক্তি পেতে হলে তাকওয়া ভিত্তিক সমাজ গড়তে হবে।

অন্যান্যের মধ্যে মহাগ্রন্থ আল কুরআন থেকে তাফসির পেশ করেন মাওলানা ফজলুর রহমান বানিয়াচঙ্গী, মুফতি মুজিবুর রহমান, মাওলানা আশরাফ আলী হরশপুরী, মাওলানা সামছুল ইসলাম ও মাওলানা রেজাউল করিম আবরার।

তাফসীরুল কুরআন মাহফিলের শেষ দিনে বিভিন্ন অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন খাদিমুল কুরআন পরিষদের সভাপতি আল্লামা মহিব্বুল হক গাছবাড়ী, আজাদদ্বীনি মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের সভাপতি আল্লামা শায়খ জিয়াউদ্দিন, আল্লামা আলীম উদ্দিন দুর্লভপুরী ও শায়খুল হাদীস আউলিয়া হোসাইন।

মাওলানা জুনাইদ কিয়ামপুরী, মাওলানা হাবীব আহমদ শিহাব ও নূর আহমদ কাসেমীর যৌথ পরিচালনায় পবিত্র কালাম থেকে তেলাওয়াত করেন হাফিজ আব্দুল্লাহ মোয়াজ।

শেষ দিনের তাফসীর মাহফিল থেকে বাংলাদেশ সরকারের কাছে বিভিন্ন প্রস্তাবনা পেশ করেন খাদিমুল কুরআন পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আবুল খয়ের বিথঙ্গলী। যেসব প্রস্তাব পেশ করা হয়, যথা-

প্রস্তাব-১: আল্লাহ তায়ালা, কুরআন মজিদ রাসুল (সা.) ও ইসলামের বিরুদ্ধে কটূক্তিকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদন্ডের আইন জাতীয় সংসদে পাস করতে হবে।

প্রস্তাব-২: বাংলাদেশে আসা রোহিঙ্গা উদবাস্তুদের নিজ দেশে নাগরিকত্বসহ প্রত্যাবর্তনের ব্যবস্থা করতে হবে।

প্রস্তাব-৩: অনতিবিলম্বে হিউম্যান মিল্কব্যাংক নামক ইসলাম বিরোধী প্রতিষ্ঠান বন্ধ করতে হবে।

প্রস্তাব-৪: বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মুসলমানদের উপর নির্বিচারে জুলুম, অত্যাচার, খুন, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ বন্ধে কার্যকরী ক‚টনৈতিক তৎপরতা চালাতে হবে।

প্রস্তাব-৫: বিশ্বের অন্যান্য মুসলিম দেশসমূহের মতো বাংলাদেশেও কাদিয়ানীদেরকে অবিলম্বে রাষ্ট্রীভাবে অমুসলিম ঘোষণা করতে হবে।

প্রস্তাব-৬: বাউল গান ও মারিফতের নামে আল্লাহর রাসুল ও কুরআন নিয়ে ভন্ডামী বন্ধে জাতীয় সংসদে আইন পাস করতে হবে।

প্রস্তাব-৭: হিজবুত তাওহিদ, লা-মাজহাবী ও সাদপন্থীসহ সকল ভ্রান্ত দলের অপতৎপরতা কঠোর হস্তে বন্ধ করতে হবে।

প্রস্তাব-৮: আধ্যাত্মিক রাজধানী খ্যাত সিলেট শহরকে যানজট মুক্ত করার লক্ষ্যে শহরের বাহিরে নতুন বাইপাস রোডের ব্যবস্থা করতে হবে ও শিলং তীর, মদ, জুয়া সহ সকল অপরাধের আস্থানা গুঁড়িয়ে দিতে প্রশাসনের প্রতি জোর দাবী জানানো হয়।

মাহফিলের প্রস্তাবগুলো শুনে সাধারণ তওহিদী জনতা সমর্থন করেন ও কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে মুহুর্মমুহু শ্লোগানে পুরো মাঠ মুখরিত করেন। মাহফিল শেষে পরিষদের সভাপতি আল্লামা মহিব্বুল হক গাছবাড়ী দেশ ও জাতির শান্তি ও কল্যাণ কামনা করে আখেরী মুনাজাত পরিচালনা করেন।






Related News

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *