February 7, 2023

Shimanterahban24

Online News Paper


Warning: sprintf(): Too few arguments in /home/shimante/public_html/wp-content/themes/newsphere/lib/breadcrumb-trail/inc/breadcrumbs.php on line 254

আমার ওপর ভরসা রাখুন, আমি আপনাদেরই একজন হয়ে থাকতে চাই: প্রধানমন্ত্রী

1 min read
জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি- সংগৃহীত

জনগণের রায় ক্ষমতা পালাবদলের একমাত্র উপায় বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বর্তমান সরকারের এক বছর পূর্তি উপলক্ষে আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশ্যে দেয়া ভাষণে তিনি বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি জনগণের রায়ই হচ্ছে ক্ষমতার পালাবদলের একমাত্র উপায়। যে কোনো শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে আমরা স্বাগত জানাই। তবে, অযৌক্তিক দাবিতে ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডকে আমরা বরদাশত করবো না।’

তিনি জনগণকে তাঁর ওপরে ভরসা রাখার আহ্বান জানিয়ে বলেন, তিনি (প্রধানমন্ত্রী) তাদেরই (জনগণ) একজন হয়ে থাকতে চান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সাধারণ মানুষকে ঘিরেই আমার সকল কার্যক্রম। আপনাদের (জনগণ) ওপর আমার পূর্ণ আস্থা রাখি। বাংলাদেশের মানুষ অসাধারণ পরিশ্রমী এবং উদ্ভাবন ক্ষমতাসম্পন্ন। যেকোনো পরিস্থিতির সঙ্গে তারা নিজেদের মানিয়ে নিতে সক্ষম। অল্পতেই সন্তুষ্ট এ দেশের খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ। জাতির পিতা আজীবন সংগ্রাম করেছেন এসব মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য, তাদের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য। তাঁর কন্যা হিসেবে আমার জীবনেরও একমাত্র লক্ষ্য মানুষের মুখে হাসি ফোটানো। আমার ওপর ভরসা রাখুন। আমি আপনাদেরই একজন হয়ে থাকতে চাই।’

আজ (মঙ্গলবার) জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণ বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি), বাংলাদেশ বেতারসহ বেসরকারি টেলিভিশন ও রেডিওতে একযোগে সম্প্রচার করা হয়।

ভাষণে তিনি দেশবাসীকে স্মরণ করিয়ে দেন যে, আপনারা অতীতে আন্দোলনের নামে বিএনপি-জামাতের অগ্নি-সন্ত্রাস এবং মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করা দেখেছেন। বাংলাদেশের মাটিতে এ ধরনের ধ্বংসাত্মক কর্মকান্ডের পুনরাবৃত্তি আর হতে দেয়া হবে না।’

শেখ হাসিনা তার সরকারের দুর্নীতি বিরোধী অভিযান অব্যাহত রাখার দৃঢ় প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করে সাধারণ মানুষের ‘হক’ নিশ্চিত করার জন্য দুদকের প্রতি আহবান জানিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) প্রতি আহ্বান থাকবে, যে-ই অবৈধ সম্পদ অর্জনের সাথে জড়িত থাকুক, তাকে আইনের আওতায় নিয়ে আসুন। সাধারণ মানুষের হক যাতে কেউ কেড়ে নিতে না পারে তা নিশ্চিত করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে চলমান অভিযান অব্যাহত থাকবে। আমি আবারও সবাইকে সতর্ক করে দিতে চাই, দুর্নীতিবাজ যে-ই হোক, যত শক্তিশালীই হোক না কেন – তাদের ছাড় দেওয়া হবে না।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করি। মানুষের কল্যাণের জন্য আমি যে কোনো পদক্ষেপ করতে দ্বিধা করবো না।’

২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ভূমিধস বিজয় অর্জন করলে শেখ হাসিনা ২০১৯ সালের ৭ জানুয়ারি একটানা তৃতীয় মেয়াদ এবং চতুর্থবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন।

প্রধানমন্ত্রী দুর্নীতি বন্ধে জনগণের অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, ‘মানুষ সচেতন হলে দুর্নীতি আপনা আপনি কমে যাবে।’

‘তাই আমরা দুর্নীতির বিরুদ্ধে জনসচেতনতা সৃষ্টির উদ্যোগ গ্রহণ করছি। তথ্য যোগাযোগ প্রযুক্তির সম্প্রসারণের মাধ্যমে বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুর্নীতি নির্মুল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে,’যোগ করেন তিনি।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস ও মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। পবিত্র ইসলাম ধর্মের অপব্যাখ্যা করে কেউ যাতে তরুণদের বিপথে পরিচালিত করতে না পারে।’

তিনি বলেন, একটি শান্তিপূর্ণ সমাজ প্রতিষ্ঠাই তার সরকারের লক্ষ্য যেখানে হিংসা-বিদ্বেষ হানাহানি থাকবে না। সকল ধর্ম-বর্ণ এবং সম্প্রদায়ের মানুষ শান্তিতে বসবাস করতে পারবেন।’

ইসলামের অপব্যাখ্যা রোধকল্পে সারাদেশে ইমামসহ ধর্মীয় নেতাদের প্রশিক্ষণ এবং সারাদেশে ৬৫০টি মসজিদ-কাম-ইসলামিক সেন্টার নির্মাণে তাঁর সরকারের পদক্ষেপেরও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

তার সরকার বর্তমান জাতীয় সংসদকে কার্যকর করতে সব ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকার এবং বিরোধীদলের সংসদ সদস্যগণের অংশগ্রহণ সংসদকে প্রাণবন্ত করেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, একাদশ সংসদ নির্বাচনের পর সরকার গঠনের এক বছর পূর্ণ হল। বিগত এক বছর আমরা চেষ্টা করেছি আপনাদের সর্বোচ্চ সেবা দিতে।

তিনি বলেন, আমরা সবক্ষেত্রে শতভাগ সফল হয়েছি তা দাবি করবো না। কিন্তু এটুকু জোর দিয়ে বলতে পারি, আমাদের চেষ্টার ত্রুটি ছিল না।

প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ‘অতীতের ভুল-ভ্রান্তি এবং অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যাব। আমাদের সামনে নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ আসবে। সকলের সহযোগিতায় আমরা সেসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করবো, ইনশাআল্লাহ’।

তিনি বিগত এক বছরে গুটিকয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সৃষ্ট অনাকাঙ্খিত ঘটনা প্রতিরোধে তার সরকারের পদক্ষেপ এবং সরকারের উদ্যোগ থাকার পরেও ডেঙ্গুরোগে প্রাণহানিতে দু:খ প্রকাশ করে এ রোগ প্রতিরোধে আগাম ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি নির্দেশ প্রদান করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত বছর দু’একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা ঘটেছে। আমি দৃঢ়ভাবে বলতে চাই, আমরা এসব কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িতদের প্রশ্রয় দেইনি। জড়িতদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিকভাবে প্রশাসনিক এবং আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, কোনো কোনো মহল গুজব ছড়িয়ে অরাজকতা সৃষ্টির মাধ্যমে ফায়দা লোটার চেষ্টা করেছে। আমরা জনগণের সহায়তায় দ্রুত সেসব অপকর্মের বিরুদ্ধে প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা নিয়েছি। গুজবের বিষয়ে সর্বদা সতর্ক থাকার জন্যও এ সময় দেশবাসীর প্রতি তিনি আহবান জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এডিস-মশা-বাহিত ডেঙ্গু জ্বর গত বছর সারাদেশে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। সব ধরনের ব্যবস্থা নেয়া সত্ত্বেও এডিস-মশা-বাহিত ডেঙ্গু জ্বরে বেশ কিছু মূল্যবান প্রাণহানি ঘটেছে।’

‘আমি শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোর প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি। এডিস-মশার বিস্তার রোধে আগে থেকেই সর্বাত্মক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আমি সংশ্লিষ্ট সবাইকে নির্দেশ দিচ্ছি, ’বলেন তিনি।

সূত্র : বাসস।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Copyright © All rights reserved. | Newsphere by AF themes.