February 7, 2023

Shimanterahban24

Online News Paper


Warning: sprintf(): Too few arguments in /home/shimante/public_html/wp-content/themes/newsphere/lib/breadcrumb-trail/inc/breadcrumbs.php on line 254

গোয়াইনঘাটে ইটভাটা পরিচালনায় অনিয়ম যখন নিয়ম

1 min read

অতিথি প্রতিবেদক, গোয়াইনঘাট :: সরকারি নিয়মনীতি উপেক্ষা করে লোকালয় ও কৃষিজমিতে গড়ে উঠেছে একের পর এক ইটভাটা। এসব ভাটায় ব্যবহার করা হচ্ছে কৃষিজমি ও সরকারি খাস জমির মাটি। একদিকে আবাদি জমির পরিমাণ যেমন কমছে, অন্যদিকে ভাটা থেকে নির্গত কালো ধোঁয়ার প্রভাবে ফসলের উৎপাদন কমে যাচ্ছে।

স্থানীয়রা বলছেন নন্দীরগাওঁ ইউনিয়নে প্রায় সব কটি ইটভাটা লোকালয়ের পাশে নতুবা আবাদি জমিতে। ভাটাগুলোর কারণে শুধু কৃষির ওপর নির্ভরশীল গোয়াইনঘাট উপজেলার পরিবেশ এখন বিপর্যয়ের মুখে। এর ক্ষতিকর প্রভাব পড়ছে ফসল উৎপাদনে। খননযন্ত্র দিয়ে বিভিন্ন এলাকার কৃষিজমি থেকে মাটি কাটা হচ্ছে ভাটার জন্য। এসব ভাটার অধিকাংশই নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে অবৈধভাবে গড়ে উঠেছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের এসব দেখভাল করার দায়িত্ব থাকলেও তারা দেখেও দেখে না।
লোকালয় থেকে কমপক্ষে এক কিলোমিটার দূরত্বে ইটভাটা স্থাপনের আইন থাকলেও গোয়াইনঘাট উপজেলায় লোকালয়ের ১০০ মিটারের মধ্যেই ফসলি জমিতে গড়ে তোলা হয়েছে সোনালী ব্রিকস লিমিটেড নামের একটি ইটভাটা। আশপাশের ফসলি জমি ও সরকারি খাস জমির মাটি কেটে পাশেই স্তূপ করে রাখা হয়েছে। ইটভাটাটির কিছু শ্রমিক ইট তৈরি করছেন। ভাটার সীমানা ঘেঁষে বিস্তৃত ফসলের মাঠ। তবে সেসব জমিতে কোনো চাষাবাদ হচ্ছে না। স্থানীয়রা বলছেন, ইটভাটার কারণে এসব জমিতে ফসল ভালো হয় না। তাই কৃষকেরাও এসব জমিতে চাষবাদ করছেন না। ভাটাটির ৩০০ মিটার দূরত্বে একটি জমি থেকে খননযন্ত্র (ভেকু) দিয়ে মাটি কাটা হচ্ছে। মাহিন্দ্র ট্রাক্টর দিয়ে এসব মাটি বহন করা হচ্ছে। স্থানীয়রা জানান, এসব মাটি যাচ্ছে ওই ইটভাটায়।
ভাটাটির ১০০মিটার দূরে বসবাসকারী এক নারী বলেন, ‘ভাটার কয়লার সঙ্গে প্রচুর জোঁক চলে আসছে। জোঁকের উপদ্রবে গরু-ছাগল মাঠে চরাতে পারি না।
পরিবেশকে বিপর্যয়ের মুখে ফেলে সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার নন্দীরগ ইউনিয়নের কৃষি ক্ষেতের জমিতে গড়ে তোলা হয়েছে বৈধ-অবৈধ ১০টি ইটভাটা। পাশেই লোকালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।কয়লা দিয়ে এসব ইটভাটাগুলোতে ইট পোড়ানোর কথা থাকলেও খরচ সাশ্রয়ের জন্য সরকারি নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে অনেকেই নির্ভয়ে প্রকাশ্যেই পোড়াচ্ছে কাঠ। এসব ভাটাগুলো পড়েছে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় ও ভাটার ধোঁয়ায় আশপাশের পরিবেশ মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে।স্থানীয়দের অভিযোগ, এক ইউনিয়নে১০টি ইটভাটা পরিবেশের জন্য ক্ষতিকারক বলে মনেকরছেন স্থানীয়রা। এসব ইটভাটার কর্মকাণ্ডে জড়িতরা বেশির ভাগই প্রভাবশালী হওয়ায় অনেকটা দেখেও না দেখার ভান করে আছেন স্থানীয় প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তর। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কয়েক গজের মধ্যে ইটভাটা। এগুলোতে চুরি করে কাঠ পোড়ানো হয়। এসব ইটভাটার তাপে সুপারী গাছের ফল ছোট হয়ে যাচ্ছে। গাছগুলো দিনে দিনে লাল হ লোকালয়ের মধ্যে থাকা ভাটায় ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে কৃষকের ফসলের।
মাঝে মাঝে পরিবেশ অধিদপ্তরের লোকজন আসেন। কিন্তু তারা চলে যাওয়ার পরপরই ভাটা আবার চালু হয়ে যায়। তা ছাড়া বেশির ভাগ ইটের ভাটায় ব্যবহার করা হচ্ছে কম উচ্চতার টিনের চিমনি। ইট ভাটার ধোঁয়ায় আশপাশের পরিবেশ মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে। রবিবার (২২ ডিসেম্বর) সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার নন্দীর ইউনিয়নের আশপাশের ও নদীর তীরের আকাশে ধোঁয়ার কুণ্ডলী। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও গ্রামের পাশে রয়েছে ভাটা। এসব ইটভাটায় কয়লার পাশাপাশি পোড়ানো হচ্ছে কাঠ।

সালুটিকর ইউনিয়ন ভূমি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এক ইউনিয়নের ১০ টি ইট ভাটায় একধারে চলছে কাঠ ও কয়লা পুড়িয়ে ইট তৈরির কাজ। কয়েকটি ভাটায় পরিবেশ অধিদপ্তের অনুমোদন থাকলেও বাকিগুলো চলছে ইউপি ট্রেড লাইসেন্সের মাধ্যমে। একটা ভাটাও পুরোপুরি আধুনিক না হওয়ায় ও প্রশাসনের নজর না থাকায় সেখানে চুরি করে পোড়ানো হচ্ছে কাঠ নন্দীরগাওঁ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এস কামরুল হাসান বলেন, আমার ইউনিয়নে দশটির মতো ইটভাটা রয়েছে। ইটভাটার মালিকরা ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে ব্যাবসা পরিচালনা করছেন। সবকটি ইটভাটা ঘুরে আশপাশের ২০/২৫ জনের সঙ্গে কথা বলে জানাযায়, লোকালয় ঘেঁষে আবাদি জমিতে এভাবে ইটভাটা নির্মাণের বিরুদ্ধে স্থানীয় কৃষকেরা। কিন্তু ভাটার মালিকেরা প্রভাবশালী হওয়ায় কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পান না। ফসলি মাঠের কাছাকাছি ভাটা তৈরি হলে আশপাশের জমিগুলোতে ফসলের আবাদ হয় না। এ ছাড়া জমির মাঝখান থেকে গভীর করে মাটি কাটার ফলে পাশে জমি চাষাবাদের অনয়োপযোগী হয়ে পড়ছে। এছাড়া সোনালী ব্রিকস লিমিটেডের অর্ধেক কিলোমিটারের মাথায় রয়েছে মেসার্স রুপালী ব্রিক্স লিমিটেড (১)। ওই ব্রিক্সফিল্ডের ৩০০গজের ভিতরে গড়ে উটেছে মেসার্স রুপালী ব্রিক্সফিল্ড-(২)। অর্ধেক কিলোমিটার পথ পেরুলেই মেসার্স সালুটিকর ব্রিক্সফিল্ড। আবার দুই কিলোমিটার দূরত্বের ব্যাবধানে রয়েছে মেসার্স নিশান ব্রিক্সফিল্ড। দুইশত গজের পার্থক্যে পাশাপাশি মেসার্স আদর্শ ব্রিক্সফিল্ড,মেসার্স মকবুল ব্রিকস, মেসার্স গোল্ডেন ব্রিকস ও মেসার্স এমবিসি ব্রিকস। সেখান থেকে হাফ কিলোমিটার দূরত্বের ব্যাবধানে মেসার্স আব্দুস সালাম ব্রিকস ফিল্ড অবস্থিত। এব্যাপারে সালুটিকর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সহকারী কর্মকর্তা মোহাম্মদ বুরহান উদ্দিন বলেন গোয়াইনঘাট উপজেলার নন্দীরগাওঁ ইউনিয়নে ১০ টি ইটভাটা রয়েছে। ইটভাটার স্বত্বাধিকারীদেরকে ইটভাটা পরিচালনায় অনুমতি পত্রসহ প্রয়োজনীয় সকল প্রকার কাগজাদী সালুটিকর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে উপস্থাপনের জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছিল। কিন্তু শুধু মাত্র মেসার্স সালুটিকর ব্রিকস লিমিটেড ছাড়া অন্যান্য ইটভাটার মালিকগন কোন প্রকার কাগজ পত্র দেখাতে পারেনি। ফলে উপজেলা সহকারী কমিশনার( ভূমি) মহোদয়ের কার্যালয়ে উক্ত প্রতিবেদন প্রেরন করা হয়েছে। এব্যাপারে গোয়াইনঘাট উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি লুসিকান্ত হাজং বলেন গোয়াইনঘাট উপজেলায় ১৫টি ইটভাটা রয়েছে। প্রত্যেক ইউনিয়ন ভূমি অফিসের মাধ্যমে সবকটি ইটভাটার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আহবান করা হয়। মাত্র ৩/৪ টি ইটভাটার কাগজপত্রের বৈধতা রয়েছে। শ্রীগ্রই উপজেলা প্রশাসন ওইসব অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Copyright © All rights reserved. | Newsphere by AF themes.